বিধানসভা নির্বাচনের বাদ্যি বাজতেই ভোট প্রচারের ময়দান থেকে আম আদমির দুয়ার সব জায়গাতেই দেখা মিলছে শাসক থেকে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের। সেই সঙ্গে বারেবারে বাংলার মাটিতে পা রাখতে দেখা যাচ্ছে কেন্দ্রের মন্ত্রী মহলকেও। কখনও হাজির হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, তো কখনও উপস্থিত হচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আর সকলেই জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের ঘোষণা করে চলেছেন। তবে, এসবের মধ্যে সবথেকে বেশি যারা প্রকল্প নিয়ে বর্তমানে গলা ফাটাচ্ছেন তারা হলেন শাসক দলের সদস্যগণ। তাদের ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে বর্তমানে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়া লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প বর্তমানে বাংলার মহিলা মহলে দারুণ জনপ্রিয়। বিরোধীরা বলেন, এই প্রকল্প দিয়েই নাকি ভোট কেনে তৃণমূল। কিন্তু এবার জোড়া ফুল শিবিরের লক্ষ্মীর ভান্ডারের বদলে অন্নপূর্ণা ভান্ডারের কথা ঘোষণা করল বিজেপি।
গত রবিবার কোচবিহারে নরেন্দ্র মোদীর সভা থেকে বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সরকারের বদলের ডাক দেওয়ার পাশাপাশি অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্প নিয়ে মুখ খোলেন। তার কথায়, তৃণমূল সরকার যে সকল বাড়ির ছেলের চাকরি চড়া দামে বিক্রি করেছে, আজ তাদের মায়ের হাতে দেড় হাজার টাকা করে তুলে দিচ্ছে। কিন্তু বিজেপি সরকারের কাছে মানুষের পাশে থাকাই মূল প্রকল্প বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা আর বাড়াতে পারছে না রাজ্য সরকার। কারণ এত বোমা, গুলির মধ্যে রাজ্য লক্ষ্মীছাড়া হয়ে গিয়েছে। তাই এবার বিজেপি সরকার লক্ষ্মীর মা অন্নপূর্ণা দেবীকে আনতে চলেছে। এর জেরে মাসে ৩০০০ টাকা করে ঢুকবে বাংলার মহিলাদের অ্যাকাউন্টে।
উল্লেখ্য, তৃণমূলের জনপ্রিয় প্রকল্পগুলির অনুকরণেই বিজেপি নিজেদের পরিকল্পনা সাজাতে চাইছে। আর সে কারণেই এই একই ধাঁচের প্রকল্প গেরুয়া শিবির বাস্তবায়ন করতে চলেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। জানা গিয়েছে, তৃণমূলের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার-এর আদলেই বিজেপি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প আনতে পারে। যার অধীনে মহিলাদের প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে দেওয়া হতে পারে। যদিও বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরই চালু হবে এই প্রকল্প। আর তখনই জানা যাবে আবেদন পদ্ধতি সম্পর্কে। ফলত, এই প্রকল্পের আবেদন পদ্ধতি ও বিস্তারিত তথ্য কোনোটাই এখনও আমজনতার নাগালে পৌঁছয়নি। বরং বলা চলে, সবটাই তাদের নাগালের বাইরে। বলে রাখা ভালো, এদিনের সভায় প্রধানমন্ত্রী বাংলার মা-বোনেদের দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, বিজেপি তাদের সম্মান-সমৃদ্ধির জন্য রয়েছে। তাই এই সরকার এলে মহিলাদের উন্নতি হবে এবং এটা তাদের দলের ট্র্যাক রেকর্ডে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি নমো এও জানায় যে, লোকসভা ও বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ আইন তারা বানিয়েছে। এমনকি, ২০২৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে মহিলারা এর উপকার পাবেন বলেও মনে করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বিকল্প হিসেবে বিজেপির তরফে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ চালুর প্রতিশ্রুতিকে ‘মিথ্যা’ বলে দাবি করেছে তৃণমূল। তাদের দাবি, ভোটের প্রচারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বিকল্প হিসাবে বিজেপি ক্ষমতায় এলে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ চালুর মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। এমনকি, স্বাস্থ্যসাথীর বিকল্প হিসেবে নাকি প্রধানমন্ত্রী ‘আয়ুষ্মান ভারত’-এর কথা বলতে শুরু করেছেন একাধিক সভায়। আসলে মমতার এই সমস্ত জনমুখী প্রকল্পকেই বিজেপি এখন হাতিয়ার করতে চাইছে বলেও মনে করছে জোড়া ফুল শিবির। যদিও ২০২১-এর ভোটে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ঝড়েই বাংলা থেকে উড়ে গিয়েছিল গেরুয়া শিবির। আর সে কারণেই এবার ভোটের বাজারে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এর ‘গল্প’ বিজেপি ছড়িয়ে দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।