500 Companies of Central Forces Will Not Leave Bengal Even After Results: Election Commission's Clear Directive

ফলাফলের পরও বাংলা ছাড়বে না ৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী: নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ

ঘোষণা হয়ে গিয়েছে ভোটের দিনক্ষণ। আগামী ২৩ ও ২৯শে এপ্রিল দু’দফায় হবে বাংলায় ভোট গ্রহণ। আর এরপর ভোট গণনা হবে আগামী ৪ঠা মে। আর এই ভোট উপলক্ষে বঙ্গে পৌঁছে গিয়েছে বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী। তবে, প্রতিবারের মতো এবার ভোট মিটে গেলেও বাংলা ছেড়ে নিজেদের জায়গায় ফিরবে না কেন্দ্রীয় বাহিনী। হ্যাঁ, সম্প্রতি এমনটাই ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। তাদের তরফে জানানো হয়েছে, ভোট গণনা শেষ করে ফলাফল প্রকাশিত হলেও বাংলা থেকে তখনই সরানো হবে না কেন্দ্রীয় বাহিনীকে। এমনকি, কমিশনের তরফ থেকে পরবর্তী বিজ্ঞপ্তি জারি না হওয়া পর্যন্ত তারা বাংলাতেই কর্মরত থাকবেন বলেও গত শুক্রবার সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

জানা গিয়েছে, ভোটের ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পর রাজ্যে প্রায় ৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকবে। এছাড়া, স্ট্রংরুম ও EVM পাহারা দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত ২০০ কোম্পানি বাহিনী কর্মরত থাকবে। মূলত, ভোট পরবর্তী হিংসা, সংঘর্ষ, প্রতিশোধের রাজনীতি রুখতেই নির্বাচন কমিশন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আসলে অতীতে এহেন বহু হৃদয়বিদারক ঘটনার সাক্ষী থেকেছে বাংলা। আর এবার সেই ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তাই আগে-ভাগে এমন সিদ্ধান্ত নিতে তৎপর হয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। বলে রাখা ভালো, ভোটের পরও যে বাহিনী থাকবে বাংলায় তাদের কাজ রুট মার্চ, এলাকা দখল ও স্পর্শকাতর এলাকায় টহল। অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে, ভোট মিটলেও ‘নির্বাচনী সতর্কতা’ পূর্ণ মাত্রায় চলবে।

অন্যদিকে, গণনা সম্পূর্ণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত EVM ও স্ট্রং রুমের নিরাপত্তায় প্রায় ২০০ কোম্পানি বাহিনী নিয়োজিত থাকবে। আসলে এবার বাংলার নির্বাচনে ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে যাতে কোনোভাবেই প্রশ্ন না ওঠে, সে বিষয়ে নিজেদের লক্ষ্য স্পষ্ট করে এগিয়ে চলেছে কমিশন। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে তালে তাল মিলিয়ে জেলা প্রশাসন ও রাজ্য পুলিশকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি, আলাদা আলাদা স্তরের আধিকারিকদের এক সাথে কাজ করতে যাতে কোনো সমস্যা না হয়, তার জন্য একটি গাইডলাইনও তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। ফলত বোঝাই যাচ্ছে, এবারের ভোটে আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বে রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী যৌথ নজরদারি চালাতে চলেছে।

এসবের পাশাপাশি তৃণমূল ঘনিষ্ঠদের পুলিশি নিরাপত্তা নিয়েও বেশ সরব হয়েছে কমিশন। ইতিমধ্যেই এই ঘটনার তদন্তে DGP-কে নিয়োগ হওয়ার বার্তা পাঠানো হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে বা যারা জামিনে কিংবা প্যারোলে রয়েছেন, তাদের নিরাপত্তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। এছাড়া, যারা পদমর্যাদার ভিত্তিতে নিরাপত্তা পাওয়ার যোগ্য নন, তাদের ক্ষেত্রেও সুরক্ষা তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্র ও পুলিশ জেলার ভিত্তিতে কারা নিরাপত্তা পাচ্ছেন, তার বিস্তারিত তালিকাও চেয়ে পাঠিয়েছে কমিশন। আর এই পুরো রিপোর্ট আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আসলে ভোট মানেই বঙ্গ রাজনীতির উঠোনে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে। কিন্তু সেই উত্তেজনা হিংসায় পরিণত হওয়া বা পক্ষপাতদুষ্ট হওয়া এক ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে। তাই এবার কমিশনের স্পষ্ট বার্তা—ভোট শুধু প্রক্রিয়া নয়, তার সঙ্গে শান্তিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আর ঠিক এই কারণেই এবার ফল ঘোষণার পরও রাজ্যে বাহিনী রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। যা স্পষ্ট একটি বার্তা দিয়েছে যে, বাংলা নিয়ে আর কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ কমিশন। এ বিষয়ে আপনার কি মত? জানান আমাদের কমেন্টে!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *