মালদার ইংরেজবাজার থানার বাহান্নবিঘা এলাকায় হঠাৎ করেই ছড়াল তীব্র উত্তেজনা।
অভিযোগ, মন্দিরের জমি দখল করে তৈরি হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয় এবং ক্লাবঘর। আর সেই অভিযোগ ঘিরেই রবিবার সকাল থেকে এলাকায় জড়ো হতে থাকেন শতাধিক গ্রামবাসী। গ্রামবাসীদের দাবি, বহু বছর ধরে এলাকার প্রায় ২৪ বিঘা দেবোত্তর সম্পত্তি ধীরে ধীরে বেহাত হয়ে গিয়েছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০১১ সালে রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর থেকেই শুরু হয় জমি দখলের প্রক্রিয়া। আর এই দখলের পিছনে রয়েছেন ইংরেজ বাজার পঞ্চায়েত সমিতির এক সদস্যার স্বামী তথা স্থানীয় তৃণমূল নেতা বিশ্বজিৎ সেন।
অভিযোগ আরও গুরুতর। গ্রামবাসীদের দাবি, শুধু জমি দখলই নয়, মন্দিরের জায়গার উপর তৈরি করা হয়েছে ক্লাবঘর। আর সেই ক্লাবঘরেই নাকি চলত বিভিন্ন অসামাজিক কাজকর্ম। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভয় দেখিয়ে মুখ বন্ধ করে রাখা হয়েছিল সাধারণ মানুষকে। কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলাতেই বদলাতে শুরু করেছে গ্রামের ছবিও। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর থেকেই নাকি সাহস পেতে শুরু করেন এলাকাবাসী। জমি পুনরুদ্ধারের দাবিতে ধীরে ধীরে একজোট হতে থাকেন গ্রামবাসীরা। তাদের পাশে দাঁড়ায় বর্তমান শাসকদল বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বও।
রবিবার সকালেই সেই ক্ষোভ বিস্ফোরণের আকার নেয়। মন্দিরের জমি ‘দখলমুক্ত’ করার দাবিতে বহু মানুষ জড়ো হন বাহান্নবিঘা এলাকায়। শুরু হয় বিক্ষোভ। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় ইংরেজবাজার থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীকেও। পুলিশ প্রশাসনের তরফে গ্রামবাসীদের আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আবেদন জানানো হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই।
বিজেপির অভিযোগ, রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দেবোত্তর সম্পত্তি দখল করা হয়েছে। তাদের দাবি, প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত হলে আরও বড় তথ্য সামনে আসবে। অন্যদিকে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা বিশ্বজিৎ সেন। তার দাবি, যে জমিকে মন্দিরের সম্পত্তি বলা হচ্ছে, আদতে সেটি কোনও দেবোত্তর জমি নয়। বরং ওই জমি এক ইটভাটা মালিকের ব্যক্তিগত সম্পত্তি। সেই মালিকের কাছ থেকেই তিনি বৈধভাবে জমি লিজ নিয়ে চাষবাস করছেন বলে দাবি করেন বিশ্বজিৎ সেন।
যদিও গ্রামবাসীরা সেই দাবি মানতে নারাজ।
তাদের বক্তব্য, বহু প্রজন্ম ধরে এলাকাবাসী জানেন এটি মন্দিরের সম্পত্তি হিসেবেই পরিচিত। তাই জমির প্রকৃত মালিকানা এবং নথি প্রকাশ্যে আনার দাবিও তুলেছেন স্থানীয়রা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন মালদার রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। একদিকে দেবোত্তর সম্পত্তি দখলের অভিযোগ, অন্যদিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পাল্টা অভিযোগ সব মিলিয়ে উত্তপ্ত বাহান্নবিঘা।