Swapan Dasgupta hits the field immediately upon receiving instructions from Suvendu.

শুভেন্দুর নির্দেশ পেয়েই ময়দানে স্বপন দাশগুপ্ত! পার্থ-মানিকের দিন শেষ,আর কোনো চুরি চলবে না শিক্ষাক্ষেত্রে!

বদল হয়েছে নবান্নে, এবার বদল হবে বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থায়। পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা এখনও গঠিত হয়নি, কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বুঝিয়ে দিলেন—তিনি এক মুহূর্ত সময় নষ্ট করতে রাজি নন। বুধবার বিধানসভায় শপথ গ্রহণের পরেই রাসবিহারীর বিধায়ক স্বপন দাশগুপ্তকে এক জরুরি নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আর সেই নির্দেশ ঘিরেই এখন গোটা বাংলায় শোরগোল।

তৃণমূল জমানার গত ১০ বছরে শিক্ষা দফতর মানেই ছিল দুর্নীতির আখড়া। পার্থ চট্টোপাধ্যায় থেকে শুরু করে একাধিক আধিকারিক আজ শ্রীঘরে। যোগ্য প্রার্থীরা যখন রাস্তায় বসে কেঁদেছেন, তখন অযোগ্যদের চাকরি বিক্রি করে পকেট ভরেছে শাসকদলের নেতারা। বাংলার এই ঐতিহ্যবাহী দফতরকে কালিমালিপ্ত করেছিল যারা, তাদের দিন শেষ। এবার সময় এসেছে শুদ্ধিকরণের। আর সেই গুরুদায়িত্বই কি তবে যাচ্ছে স্বপন দাশগুপ্তর কাঁধে?

স্বপন দাশগুপ্ত—একই অঙ্গে সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং বিশ্বখ্যাত বুদ্ধিজীবী। দিল্লির সেন্ট স্টিফেন্স থেকে লন্ডনের SOAS হয়ে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়—যাঁর পাণ্ডিত্য নিয়ে চর্চা হয় বিশ্বজুড়ে। ভারত সরকার যাঁকে ২০১৫ সালে সাহিত্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে অবদানের জন্য ‘পদ্মভূষণ’ সম্মানে ভূষিত করেছে, সেই প্রজ্ঞা কি এবার কাজে লাগবে বাংলার ভাঙাচোরা শিক্ষা ব্যবস্থাকে সারিয়ে তুলতে? রাজনৈতিক মহলের মতে, বিজেপি এবার শিক্ষিত ও রুচিশীল বাঙালির সামনে স্বপন দাশগুপ্তকে ‘শিক্ষার আইকন’ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে।

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী, স্বপনবাবু আপাতত শিক্ষা দফতরের সচিবদের সাথে বৈঠক করবেন এবং পুরো বিষয়টির তত্ত্বাবধান করবেন। শুভেন্দু অধিকারী নিজে জানিয়েছেন, তিনি একদিন শিক্ষা ও একদিন স্বাস্থ্য দফতরে গিয়ে সরাসরি কাজের পর্যালোচনা করবেন। কিন্তু প্রশাসনিক কাজকর্ম এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভার এখন আপাতত স্বপনবাবুর হাতে। রাসবিহারীর বিধায়ক হিসেবে দেবাশিস কুমারকে ধরাশায়ী করার পর, এবার তাঁর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ—বাংলার শিক্ষা থেকে দুর্নীতির আগাছা উপড়ে ফেলা।

তৃণমূলের আমলে যখন ‘কাটমানি’ আর ‘সিন্ডিকেট’ ছিল শেষ কথা, তখন স্বপন দাশগুপ্তের মতো ব্যক্তিত্বের আগমন বুঝিয়ে দিচ্ছে—বিজেপি সরকার বাংলায় মেধার কদর করতে জানে। ইংরেজি শিক্ষিত সমাজ থেকে শুরু করে গ্রামের স্কুল শিক্ষক—সবার কাছেই স্বপন দাশগুপ্তর গ্রহণযোগ্যতা আকাশছোঁয়া। তাঁর এই দায়িত্বপ্রাপ্তি কি তবে পাকাপাকিভাবে শিক্ষামন্ত্রীর আসনে বসার পূর্বসংকেত?

শিক্ষা দফতরকে যারা চুরির গুদাম বানিয়েছিল, তাদের রাতের ঘুম কেড়ে নিতে তৈরি বাংলার নতুন টিম। শুভেন্দুর রণকৌশল আর স্বপন দাশগুপ্তর বিচক্ষণতা—এই জোড়াফলা কি পারবে সোনার বাংলার শিক্ষাকে আবার বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করতে? উত্তরটা সময় বলবে!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *