Suvendu Adhikari is currently the biggest storm in the corridors of power in Delhi.

দিল্লির দরবারে এখন সবথেকে বড় ঝড়ের নাম শুভেন্দু অধিকারী ! বাংলা দখলের পর দিল্লিতে মোদীর ক্ষমতা বৃদ্ধির অন্যতম অন্যতম উৎস শুভেন্দু!

জাতীয় রাজনীতিতে এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর খবর! বাংলার গণ্ডি ছাড়িয়ে দিল্লির ক্ষমতার অলিন্দেও এখন সবচেয়ে বড় ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে উঠে এলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নিজের ক্ষুরধার মগজাস্ত্রের খেলায় লোকসভায় তৃণমূলের ২০ জন সাংসদকে এনডিএ (NDA) জোটে টেনে এনে দিল্লির বুকে এক চরম ঐতিহাসিক মাস্টারস্ট্রোক দিলেন তিনি। এই মেগা অপারেশনের পর দিল্লির সংসদীয় সমীকরণ যেভাবে বদলে গেল, তাতে নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহের দরবারে শুভেন্দুর রাজনৈতিক ওজন এখন আকাশছোঁয়া। মোদী-শাহের সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও সফল বাজি এখন খোদ শুভেন্দুজী। কীভাবে এই মেগা অপারেশনের মাধ্যমে দিল্লিতে একাধিপত্য তৈরি করলেন তিনি? আর এর ফলে মোদী ক্যাবিনেটে বাংলার কোন কোন নেতার ভাগ্য খুলতে চলেছে? জানতে ভিডিওটি শেষ পর্যন্ত দেখুন……

এই গোটা রাজনৈতিক অঙ্কের গভীরতা বুঝতে গেলে আমাদের ফিরে যেতে হবে ১৫ বছর আগের ইতিহাসে। দিল্লিতে যখন ইউপিএ (UPA) সরকার ছিল, তখন লোকসভায় তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা ছিল ২০ এবং তাঁরা ব্যাপক রাজনৈতিক গুরুত্ব উপভোগ করত। কাকতালীয়ভাবে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হন, তখন তাঁর বয়স ছিল আনুমানিক ৫৫ বছর। আজ শুভেন্দু অধিকারীর বয়সও ঠিক ৫৫ বছর এবং তিনিও এখন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী।

তফাত শুধু একটাই—শুভেন্দুজী নিজের রাজনৈতিক দক্ষতায় বাংলা থেকে বিজেপির নিজস্ব ১২ জন নির্বাচিত সাংসদের সাথে যুক্ত করে দিলেন নতুন দল এনসিপিআই (NCPI)-এর আরও ২০ জন সাংসদকে। ফলে সব মিলিয়ে ৩২ জন সাংসদের এক মস্ত বড় এবং শক্তিশালী ‘বেঙ্গল ব্লক’ তৈরি করে ফেললেন শুভেন্দু অধিকারী। দিল্লিতে মোদী সরকারকে এই কঠিন সময়ে এক বিশাল সংসদীয় স্বস্তি ও স্থায়ী স্থায়িত্ব এনে দিয়ে তিনি প্রমাণ করলেন—জাতীয় রাজনীতিতেও তাঁর চাল খণ্ডানো অসম্ভব।

তবে এই মেগা দলবদলের পর দিল্লির অলিন্দে এখন সবচেয়ে বড় কৌতূহল—এনসিপিআই-এর এই বিদ্রোহী নেতারা কি মোদী মন্ত্রিসভায় কোনো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক পাবেন? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ২০ জন সাংসদের দরকষাকষির জমিটা আদতে অত্যন্ত দুর্বল। কারণ এই বিদ্রোহী ব্লকের নিজেদের মধ্যেই পদের রেষারেষি এখন তুঙ্গে! লোকসভায় তাঁদের দলনেতা কে হবেন (সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়) নাকি উপ-দলনেতা কে হবেন (শতাব্দী রায়)—তা নিয়েই পর্দার আড়ালে তীব্র টানাপোড়েন চলছে। এমন পরিস্থিতিতে এই দল থেকে কাকে মন্ত্রী করা হবে আর কাকে বাদ দেওয়া হবে, সেই সম্পূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার চাবিকাঠি এখন একমাত্র বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের হাতেই সুরক্ষিত।

এনডিএ জোটে চন্দ্রবাবু নাইডুর টিডিপি (TDP)-র হাতেও রয়েছে ২০টি আসন, যার ভিত্তিতে তারা দুটি মন্ত্রক পেয়েছে। গাণিতিক হিসেবে এনসিপিআই-এরও মন্ত্রক পাওয়া উচিত হলেও, মোদী-শাহের দরবারে তাদের গুরুত্ব কতটা থাকবে তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। তবে একটা বিষয় ১০০% নিশ্চিত—শুভেন্দুজীর এই মেগা সফলতার পুরস্কার হিসেবে এবার পশ্চিমবঙ্গ থেকে কেন্দ্রে এক বা দু’জনকে সরাসরি ক্যাবিনেট মন্ত্রী তথা পূর্ণ মন্ত্রী করা হতে পারে।

দিল্লির অন্দরের খবর, রাজ্য বিজেপির বর্তমান সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে এবার সরাসরি কেন্দ্রে পূর্ণ মন্ত্রী করে দেওয়া হতে পারে। আর তেমনটা হলে রাজ্য সংগঠনে সভাপতি পদে আসবে নতুন মুখ।
এছাড়াও পারফরম্যান্স ও অভিজ্ঞতার নিরিখে মন্ত্রিত্বের দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ।

দিল্লির কুর্সি সুরক্ষিত করার এই মেগা নাটকে শেষ পর্যন্ত শুভেন্দু অধিকারী তাঁর কোটা থেকে কতজনকে দিল্লির মসনদে বসাতে পারেন, সেটাই এখন দেখার। তবে চাণক্য বুদ্ধিতে যে শুভেন্দুজী এখন জাতীয় রাজনীতির ফ্রন্টলাইনে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

তৃণমূলের ২০ সাংসদকে টেনে এনে শুভেন্দু অধিকারীর এই ৩২ আসনের মেগা ‘বেঙ্গল ব্লক’ গঠন এবং শমীক ভট্টাচার্যের পূর্ণ মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আপনার প্রতিক্রিয়া কী? কমেন্ট বক্সে জানান আপনার মতামত অবশ্যই জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *