Will there be a separate province for Hindus in Bangladesh this time?

বাংলাদেশে কি এবার হিন্দুদের জন্য আলাদা প্রদেশ? উগ্রপন্থীদের চোখে চোখ রেখে মহাহুংকার এই সনাতনী নারীর !

ওপার বাংলায় একের পর এক সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের ওপর আঘাত এবং প্রভু শ্রী রামচন্দ্রের চরম অবমাননার প্রতিবাদে এবার ধৈর্যের বাঁধ ভাঙল বাংলাদেশের হিন্দুদের। শুক্রবার ঢাকা, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নেমেছিল প্রতিবাদের বিশাল ঢল। আর এই উত্তাল গণবিক্ষোভের মাঝখান থেকেই সামনে এলো এক অভূতপূর্ব এবং কাঁপানো প্রতিবাদের কণ্ঠস্বর! উগ্রপন্থীদের মুখের ওপর দাঁড়িয়ে সনাতনী মহিলা চৈতালী চক্রবর্তী যে ভাষায় হুংকার দিলেন, তা দেখে থমকে গেছে ওপার বাংলার কট্টরপন্থীরা। সাফ জানিয়ে দিলেন—আদি বাংলাদেশ সনাতনীদের, আর সেখানে যদি তাদের ধর্মাচরণে বারবার বাধা দেওয়া হয়, তবে আন্তর্জাতিক মহলের সাহায্য নিয়ে সনাতনীদের জন্য আলাদা প্রদেশ তৈরি করতেও পিছপা হবেন না তাঁরা! কী এমন ঘটল যে একজন সাধারণ নারীকে এতটা কঠোর রূপ ধারণ করতে হলো? জানতে ভিডিওটি শেষ পর্যন্ত দেখুন।

প্রতিবাদ মঞ্চে দাঁড়িয়ে চৈতালী চক্রবর্তী ওখানকার ধর্মীয় বৈষম্য এবং একপেশে মানসিকতার বিরুদ্ধে অত্যন্ত যৌক্তিক ও জোরালো প্রশ্ন তোলেন। তিনি সমাজকে আয়না দেখিয়ে স্পষ্ট ভাষায় মনে করিয়ে দেন, কীভাবে সনাতনীরা সবসময় মানবিকতা আর পরধর্মসহিষ্ণুতা বজায় রেখে এসেছেন। উগ্রপন্থীদের নিশানা করে তাঁর সেই তীব্র বাক্যবাণ এখন নেটপাড়ায় চর্চার কেন্দ্রবিন্দু।

মৌলবাদীদের উদ্দেশ্যে চৈতালী চক্রবর্তীর সেই জ্বলন্ত উক্তি: “মসজিদ থাকার পরেও আপনারা যখন মাঝেমধ্যেই রাস্তায় দাঁড়িয়ে নমাজ পড়েন, তখন কি আমরা কখনো এসে বাধা দিয়েছি? এই রাস্তাটা কি আমাদের নয়? কিন্তু আমরা সবসময় মানবিকতা দেখিয়ে চুপ থেকেছি। অথচ আপনাদের মধ্যে বিন্দুমাত্র মানবিকতা নেই! আমার নিজের মন্দিরে, আমার নিজের বাড়িতে আমি আমার রামচন্দ্র দেবতাকে কীভাবে স্থাপন করব, প্রতিমা কতখানি উঁচু করব—তার কৈফিয়ত নিশ্চয়ই আমি আপনাদের দেব না! আপনারা কোথাকার হরিদাস পাল যে আপনাদের কাছে এই কৈফিয়ত দিতে হবে?”

এখানেই শেষ নয়, উগ্রপন্থীদের লাগামছাড়া বাড়াবাড়ি যদি অবিলম্বে বন্ধ না হয়, তবে এর ভবিষ্যৎ পরিণতি যে কতটা মারাত্মক হতে পারে, সেই দেওয়াল লিখনও স্পষ্ট করে দিয়েছেন এই সনাতনী নারী। তিনি বুক চিতিয়ে বলেন— “মনে রাখবেন, এই বাংলাদেশ আমাদের। আদি বাংলাদেশ আমার।”

এরপরই তিনি এক আন্তর্জাতিক মাস্টারস্ট্রোকের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন— উগ্রবাদীরা যদি সনাতনীদের শান্তিপূর্ণ জীবনে বারবার বিষিয়ে দিতে চায়, তবে তাঁরা বিশ্বের বড় বড় মানবাধিকার সংগঠন এবং আন্তর্জাতিক শক্তিগুলির কাছে সরাসরি সাহায্য প্রার্থনা করবেন।
সনাতনীদের সুরক্ষার স্বার্থে প্রয়োজনে বাংলাদেশের বুকেই সম্পূর্ণ আলাদা একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রদেশ গড়ে তোলার আন্দোলন শুরু হবে।

যদিও তিনি স্পষ্ট করেছেন যে সনাতনীরা কখনোই দেশভাগ বা বিভাজন চান না, কিন্তু পরিস্থিতি যেভাবে উগ্রতার দিকে যাচ্ছে, তাতে কট্টরপন্থীরাই হিন্দুদের এই পথে হাঁটতে বাধ্য করছে।

নিজের বক্তব্যের শেষভাগে এসে তিনি কেবল হুঁশিয়ারিই দেননি, বরং প্রকৃত সনাতনী সংস্কৃতির উদারতা দেখিয়ে উগ্রপন্থীদের সরাসরি মন্দিরে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, অতীতে যেভাবে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ ধর্মের মানুষ একসঙ্গে মিলেমিশে বাস করতেন, আজও সনাতনীরা সেই শান্তির পরিবেশই ফিরে পেতে চান। আর সেই কারণেই উগ্রপন্থীদের শুভবুদ্ধি উদয়ের জন্য তিনি নিজের মন্দিরে তাঁদের নিমন্ত্রণ জানিয়েছেন—কারো ভালো লাগলে আসবেন, না লাগলে আসবেন না, কিন্তু অশান্তি ছড়াতে এলে রেয়াত করা হবে না।
ক্ষমতার দম্ভ আর সংখ্যাগুরু হওয়ার অহংকারে যারা বারবার ওপার বাংলায় সনাতনীদের কোণঠাসা করতে চেয়েছে, চৈতালী চক্রবর্তীর এই একক প্রতিরোধ তাদের মেরুদণ্ডে কাঁপন ধরানোর জন্য যথেষ্ট। নিজের অধিকার আর আত্মমর্যাদা রক্ষার এই লড়াইয়ে ওপার বাংলার সনাতনী নারীদের এই রুখে দাঁড়ানো সত্যিই এক নতুন ইতিহাস তৈরি করছে।
বাংলাদেশে উগ্রপন্থীদের বিরুদ্ধে এই সনাতনী মহিলার সাহসী হুংকার এবং আলাদা প্রদেশের হুঁশিয়ারিকে আপনি কীভাবে সমর্থন করছেন? কমেন্ট বক্সে জানান আপনার মতামত ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *