The true history of the extermination of Hindus to be included in school textbooks.

স্কুলের পাঠ্যবইয়ে এবার হিন্দু নিধনের ‘সত্য ইতিহাস’! ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান নিয়ে বড় দাবি সুকান্ত-তাপসদের !

 

আজকের দিনটি পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসের পাতায় এক স্বর্ণাক্ষরে লেখা অধ্যায়। এই প্রথমবার রাজ্যের বুক চিতিয়ে সরকারিভাবে উদযাপিত হচ্ছে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’। কিন্তু এই উৎসবের মাঝেই এবার রাজ্য রাজনীতি তথা শিক্ষা মহলে তোলপাড় ফেলে দেওয়া এক মস্ত বড় দাবি সামনে এল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নতুন সরকারের কাছে বিজেপি নেতৃত্বের স্পষ্ট আর্জি—এতদিন ধরে চেপে রাখা বাংলার আসল ইতিহাস এবার স্কুলের পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হোক! ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জানা উচিত, কোন চরম আত্মত্যাগ আর যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে এই পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যটি তৈরি হয়েছিল। ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সেই মহান দূরদর্শিতা আর বীরত্ব, যা ছাড়া আজকের পশ্চিমবঙ্গ ভাবাই যেত না, তাকে কেন ইতিহাস বই থেকে মুছে দেওয়া হলো? এই নিয়ে এবার নবান্ন এবং বিধানসভায় উঠল এক জোরালো আওয়াজ।

পশ্চিমবঙ্গ দিবসের গুরুত্ব স্মরণ করে রাজ্য বিধানসভায় দাঁড়িয়ে এক ঐতিহাসিক সত্যকে সামনে নিয়ে আসেন প্রবীণ নেতা তাপস রায়। তিনি ধুয়ে মুছে সাফ করে দেওয়া ইতিহাসের সেই অন্ধকার অধ্যায়কে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, তৎকালীন সাম্প্রদায়িক রাজনীতির ধারক সুরাবর্দির নির্মম ইশারায় কীভাবে কলকাতার রাস্তায় হাজার হাজার নিরীহ মানুষের রক্ত ঝরেছিল। ঢাকা থেকে নোয়াখালী—যে সুপরিকল্পিত হিন্দু নিধনের তাণ্ডব চলেছিল, তা এদেশের কোনো বামপন্থী বা ছদ্ম-ধর্মনিরপেক্ষ ইতিহাস বইয়ে জায়গা পায়নি। তাপস বাবুর সাথে সুর মিলিয়ে শিক্ষামন্ত্রী শঙ্কর ঘোষও দাবি করেন, নতুন প্রজন্মের স্কুল সিলেবাসে এই চরম সত্য এবং আত্মত্যাগের ইতিহাসকে অবিলম্বে গুরুত্বের সাথে জায়গা দেওয়া উচিত।

“যে সুরাবর্দির নির্দেশে কলকাতার বুকে নিষ্ক্রিয় পুলিশের সামনে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল, ঢাকা ও নোয়াখালীতে যে নারকীয় হিন্দু নিধন চলেছিল, সেই ইতিহাস আজ আমাদের পাঠ্যবইয়ে নেই। আমি মাননীয় অধ্যক্ষের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে হাত জোড় করে অনুরোধ করছি—আমাদের নতুন প্রজন্মের স্কুলের সিলেবাসে যেন এই সত্য ইতিহাসকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।”

এই ঐতিহাসিক দিনে রাজ্যজুড়ে উৎসবের আবহ। তারকেশ্বরের এক মেগা জনসভায় স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উপস্থিত থেকে এই দিনটির গুরুত্বকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। অন্যদিকে, বিজেপির রাজ্য সদর দপ্তরে দাঁড়িয়ে দলের রাজ্য সভাপতি ও সাংসদ সুকান্ত মজুমদার ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মহান চিন্তাধারা এবং বাঙালির অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইকে যেভাবে গৌরবান্বিত করলেন, তা প্রতিটি বাঙালির গায়ের লোম খাড়া করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
সুকান্ত মজুমদার স্পষ্ট ভাষায় মনে করিয়ে দেন, ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় যদি সেদিন নিজের জীবন বাজি রেখে লড়াই না করতেন, তবে আজ বাঙালি সনাতনীদের কোনো নিজস্ব ভূখণ্ডই থাকত না।

তিনি বলেন, ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় সেদিন বুক চিতিয়ে না দাঁড়ালে আজ কোটি কোটি বাঙালিকে আন্দামান, মধ্যপ্রদেশ কিংবা উত্তরপ্রদেশের পিলভিটে উদ্বাস্তু হয়ে যাযাবরের মতো বাঁচতে হতো। আজ কেউ এরাজ্যে মন্ত্রী, সান্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রী হতে পারতেন না। অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনকভাবে, পূর্বতন সরকারগুলি এই মহান রাষ্ট্রনায়কের অবদানকে ইতিহাস বই থেকে পুরোপুরি মুছে ফেলার চক্রান্ত করেছিল। সিংহভাগ বাঙালি জানতই না পশ্চিমবঙ্গ কীভাবে তৈরি হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকারের কাছে সুকান্ত মজুমদার জোরালো আবেদন জানিয়েছেন, আগামী দিনে যেন প্রতিটি স্কুলপাঠ্য বইয়ে পশ্চিমবঙ্গ নির্মাণে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বীরত্ব ও ভূমিকা নিয়ে অন্তত একটি সম্পূর্ণ অধ্যায় বা চ্যাপ্টার বাধ্যতামূলক করা হয়।

মিথ্যে ইতিহাসের পর্দা সরিয়ে সত্যকে সামনে আনার এই লড়াই প্রকৃত অর্থেই বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থায় এক নতুন ভোরের সূচনা করতে চলেছে। ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের রাষ্ট্রবাদী চেতনা এবং দেশ গঠনের আদর্শই আগামী দিনে বাংলার তরুণ সমাজকে সঠিক দিশা দেখাবে-এমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

স্কুলের পাঠ্যবইয়ে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবনী এবং পশ্চিমবঙ্গ দিবসের প্রকৃত ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত করার এই দাবিকে আপনি কতটা সমর্থন করেন? কমেন্ট বক্সে আপনার মতামত অবশ্যই জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *