বাঁকুড়ার মেজিয়ায় শ্যাম স্টিলের নতুন উৎপাদন কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান রূপ নিল রাজনৈতিক রণাঙ্গনে। শুক্রবার ওই মেগা অনুষ্ঠান থেকেই বাংলার শিল্পায়ন ও প্রাক্তন তৃণমূল জমানার শাসন নিয়ে একের পর এক তোপ দাগলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । নতুন সরকার আসার পর রাজ্যে শিল্পের পরিবেশ কেমন বদলেছে, তার খতিয়ান তুলে ধরার পাশাপাশি সরাসরি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এক হাত নিলেন তিনি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এখনকার রাজনৈতিক অবস্থাকে কটাক্ষ করে সরাসরি হেলিকপ্টার চড়ে কারখানা পরিদর্শনের প্রস্তাব দেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে তাঁর অভিযোগ, নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় না এলে রাজ্যের শিল্পপতিরা ওড়িশায় পাততাড়ি গুটিয়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র খোঁচা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন,প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে বলব, আপনার হাতে এখন অনেক সময়। আপনি একবার এসে এই প্ল্যান্টের ভিতরটা দেখে যাবেন। আমাকে জানাবেন, আমি সরকারের হেলিকপ্টার দিয়ে দেব।
রাজ্যে সরকার গঠন হতেই শিল্পক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এমনকি আগামী দিন কী কী শিল্প বাংলায় আসছে সেই তালিকাও তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, দিন কয়েক আগে লাক্স কোজিতে বিনিয়োগ হয়েছে। এবার আরও বড় বিনিয়োগ হল। আগামী পরশুদিন হাওড়ার ধুলাগড়ে ৭০০ কোটি টাকার আমূল প্ল্যান্ট উদ্বোধন করবেন অমিত শাহ। এছাড়া দুর্গাপুরেও একটি ৪০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তাজপুরে সি পোর্ট হবে না। সেখানে সরকারি জমি বরাদ্দ নেই। আর নিউটাউনে আদানি গ্রুপ ২০০০ বেডের একটি সুপার স্পেশালিস্ট হাসপাতাল তৈরি করব বলে আগেই জানিয়েছিল।
এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী জানান তাজপুর সংলগ্ন নতুন শহরে একটি আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল গড়ে উঠবে। যার ১,০০০টি শয্যা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দরিদ্র মানুষের চিকিৎসার জন্য সংরক্ষিত থাকবে এবং বাকি ১,০০০টি শয্যা বাণিজ্যিক স্তরে ব্যবহৃত হবে।শিল্পপতি সঞ্জীব গোয়েঙ্কার সঙ্গে বৈঠকের পর রাজ্যে একটি ব্যাটারি তৈরির কারখানাসহ আরও দুটি বড় প্রকল্পের সবুজ সঙ্কেত মিলেছে।
একাধিক কর্মসংস্থান হতে চলেছে বাংলায়। দুর্গাপুজোর আগেই হরিণঘাটায় একটি বড় বাণিজ্যিক সংস্থার নতুন প্রকল্পের উদ্বোধন হতে চলেছে।সব মিলিয়ে বাঁকুড়ার মেজিয়া থেকে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট বার্তা দিলেন বাংলা থেকে সিন্ডিকেট ও তোলাবাজির অবসান ঘটিয়ে দ্রুত নতুন শিল্পায়নের পথে হাঁটছে তাঁর সরকার।