A shower of flowers at Tarakeswar on the first Monday of Shravan! An unprecedented surprise from Chief Minister Suvendu Adhikari for Shiva devotees!

শ্রাবণের প্রথম সোমবারে তারকেশ্বরে পুষ্পবৃষ্টি! শিবভক্তদের জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নজিরবিহীন চমক !

পশ্চিমবঙ্গের কোটি কোটি শিবভক্ত ও সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষের ভাবাবেগকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দিয়ে এবং পবিত্র শ্রাবণী মেলাকে কেন্দ্র করে এবার এক ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন উদ্যোগ গ্রহণ করল রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার। রাত পোহালেই শুরু হতে চলা পবিত্র শ্রাবণ মাসকে কেন্দ্র করে হুগলি জেলার বিখ্যাত তারকেশ্বর ধামে এবার আধ্যাত্মিকতার এক নতুন ও রাজকীয় অধ্যায় রচিত হতে চলেছে।

মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী সম্প্রতি শিবভক্ত ও পুণ্যার্থীদের জন্য এক মেগা ও যুগান্তকারী উপহারের ঘোষণা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, যদি আবহাওয়া সম্পূর্ণ অনুকূল থাকে, তবে শ্রাবণের প্রথম সোমবারে বাবার মাথায় জল ঢালতে আসা হাজার হাজার জলযাত্রী ও কাঁওয়ারেদের স্বাগত জানাতে তারকেশ্বরের আকাশে উড়বে হেলিকপ্টার। আর সেই হেলিকপ্টার থেকে ভক্তদের ওপর সরাসরি বর্ষণ করা হবে লক্ষ লক্ষ তাজা গোলাপের পাপড়ি। আকাশ থেকে ঝরে পড়া এই পুষ্পবৃষ্টি যেমন শ্রাবণী মেলার গরিমাকে এক অনন্য ও আন্তর্জাতিক স্তরে নিয়ে যাবে, তেমনই এই পদক্ষেপের হাত ধরে এক ধাক্কায় ভাগ্যবদল হতে চলেছে রাজ্যের হাজার হাজার ফুল চাষীর।

মুখ্যমন্ত্রীর এই রাজকীয় ঘোষণার পর থেকেই স্বাভাবিকভাবে একটি বড় প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল যে, আকাশ থেকে পুষ্পবৃষ্টি করার জন্য এই বিপুল পরিমাণ তাজা ফুল ঠিক কোথা থেকে আসবে? সেই সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই মহাযজ্ঞের জন্য কোনো ভিন রাজ্য নয়, বরং বাংলার মাটির ফুলকেই ব্যবহার করা হবে। আমাদের রাজ্যের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পাঁশকুড়া এবং কোলাঘাট অঞ্চলটি উন্নত মানের গোলাপ চাষের জন্য সারা ভারতে সমাদৃত। সাধারণত বর্ষাকালের এই মরশুমে ফুলের উৎপাদন ও চাহিদা ব্যাপক কমে যাওয়ার কারণে গোলাপের বাজার চরম মন্দার মুখে পড়ে। এই অফ-সিজনে ১০০টি দেশী লাল গোলাপের পাইকারি দাম যেখানে মাত্র ৩০ থেকে ৪০ টাকায় নেমে যায়, সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর এই একটি মাত্র মাস্টারস্ট্রোকে রাতারাতি চাঙ্গা হয়ে উঠেছে কোলাঘাট ও পাঁশকুড়ার গোলাপের বাজার।

তারকেশ্বরের এই মেগা উৎসবের জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে চড়া দামে বিপুল পরিমাণ গোলাপ ফুল কেনার প্রক্রিয়া শুরু হতেই উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছেন পূর্ব মেদিনীপুরের ফুল চাষীরা। ব্যাঙ্গালোর বা অন্য রাজ্য থেকে সস্তায় ফুল না এনে নিজের রাজ্যের ফুল চাষীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার এই অনন্য প্রয়াস শুভেন্দু সরকারের দূরদর্শিতারই প্রমাণ দেয়।

একদিকে যেমন তারকনাথের ভক্তরা পেতে চলেছেন এক স্বর্গীয় ও স্মরণীয় অনুভূতি, অন্যদিকে তেমনই রাজ্যের প্রান্তিক ফুল চাষীরা অফ-সিজনেও পাচ্ছেন বিপুল মুনাফার মুখ। তো তোষণের অন্ধকার রাজনীতিকে দূরে সরিয়ে, একদিকে রাজ্যের সনাতন ধর্মের কৃষ্টি ও ঐতিহ্যকে সগৌরবে পুনরুজ্জীবিত করা এবং অন্যদিকে বাংলার কৃষকদের মুখে অন্ন জোগাতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই সময়োপযোগী ও মানবিক সিদ্ধান্ত সত্যিই এক উন্নত, ভক্তিপূর্ণ ও আত্মনির্ভর বাংলার অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *