Alongside delivering the national flag to every household, the saffron camp also aims to spread a political message.

ঘরে ঘরে জাতীয় পতাকা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক বার্তাও ছড়িয়ে দিতে চাইছে গেরুয়া শিবির

রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর রাজনৈতিক কর্মসূচির ধরনেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে কেন্দ্রের হর ঘর তিরঙ্গা অভিযানকে এবার শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জনসংযোগের অন্যতম বড় কর্মসূচি হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে রাজ্য বিজেপি। দলের লক্ষ্য, প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শহর সর্বত্র জাতীয় পতাকার মাধ্যমে দেশাত্মবোধের বার্তা পৌঁছে দেওয়া।

হর ঘর তিরঙ্গা হল ভারত সরকারের ‘আজাদি কা অমৃত মহোৎসব’-এর অধীনে একটি দেশব্যাপী প্রচার। দেশের প্রতিটি নাগরিককে তাঁদের বাড়িতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে উৎসাহিত করা। নাগরিকদের মনে দেশপ্রেম জাগ্রত করার এবং জাতীয় পতাকার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের একটি বিশেষ উদ্যোগ। আর তাই এবার স্বাধীনতা দিবসে বাংলায় সকলের ঘর থেকে মহল্লায় উড়বে জাতীয় পতাকা।

সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আহ্বানকে সামনে রেখেই প্রতিটি জেলায় ব্যাপক কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হচ্ছে। শুধু পতাকা বিতরণ নয়, মিছিল, পদযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্মরণে নানা আয়োজনের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে সংগঠনকে আরও সক্রিয় করে তোলার কৌশল নিয়েছে বিজেপি।

এই কর্মসূচির অন্যতম বড় আকর্ষণ হতে পারেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁকে বাংলায় আমন্ত্রণ জানানোর উদ্যোগ রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। শাহ উপস্থিত থাকলে কর্মসূচির গুরুত্ব যেমন বাড়বে, তেমনি দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও নতুন উদ্দীপনা তৈরি হতে পারে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, ক্ষমতায় আসার পর এটিই হতে পারে বিজেপি সরকারের প্রথম বড় জনমুখী কর্মসূচিগুলির একটি। ফলে প্রশাসনিক সাফল্যের পাশাপাশি সংগঠনের শক্তিও প্রদর্শনের সুযোগ থাকবে। সেই কারণে প্রতিটি জেলা নেতৃত্বকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলেও জল্পনা রয়েছে।

অন্যদিকে বিরোধী দলগুলিও এই কর্মসূচির উপর কড়া নজর রাখবে বলেই মনে করা হচ্ছে। জাতীয় পতাকাকে ঘিরে রাজনৈতিক বার্তা, জনসমাগম এবং সরকারের ভূমিকা সবকিছু নিয়েই রাজনৈতিক তরজা তীব্র হতে পারে। ফলে স্বাধীনতা দিবসের আবহে রাজনৈতিক উত্তাপও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিজেপির কৌশলগত লক্ষ্য হতে পারে, জাতীয়তাবাদের বার্তাকে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করা। প্রতিটি বাড়িতে তিরঙ্গা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে সরকারের ভাবমূর্তি এবং দলের সাংগঠনিক উপস্থিতি আরও দৃশ্যমান করার চেষ্টা করা হতে পারে।

এবারের ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচি শুধুমাত্র স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা। এটি নতুন সরকারের প্রথম বড় শক্তিপ্রদর্শনের মঞ্চ হয়ে উঠতে পারে কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *