ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম দিকপাল, আজাদ হিন্দ ফৌজের প্রতিষ্ঠাতা মহান বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর পৈতৃক ভিটের চরম অবমাননার ঘটনায় এবার বিধানসভার তপ্ত পরিবেশ থেকে গর্জে উঠল নব্য বিজেপি সরকার। বিগত তৃণমূল জমানায় মহাপুরুষদের সম্মানহানি এবং তোষণের নোংরা রাজনীতি কীভাবে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিল, তা আরও একবার প্রমাণ হয়ে গেল পূর্বস্থলী উত্তরের বিধায়ক গোপাল চট্টোপাধ্যায়ের এক বিস্ফোরক অভিযোগে। বিধানসভায় বাজেটের পর্যটন পর্ব নিয়ে আলোচনার মাঝেই বিধায়ক গোপাল চট্টোপাধ্যায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তুলে ধরেন যে, তৎকালীন সরকার স্বাধীনতার এই মহান সেনানীদের ইতিহাস মুছে ফেলতে তাঁর পৈতৃক ভিটেতেই একটি ‘সুলভ শৌচালয়’ বা পাবলিক টয়লেট বানিয়ে দিয়েছিল।
দেশপ্রেম ও ঐতিহ্যের ওপর এই চরম আঘাতের বিরুদ্ধে পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষের কাছে সরাসরি জোরালো দাবি জানিয়ে গোপাল চট্টোপাধ্যায় বলেন, আগামী ১৫ই অগস্ট স্বাধীনতা দিবসের আগেই যেন অনতিবিলম্বে সেই বিতর্কিত গণ-টয়লেটে বুলডোজার চালিয়ে গুঁড়িয়ে ফেলা হয়। মহাপুরুষদের এমন অমার্জনীয় অপমান করার দায়ে পূর্বতন সরকারকে ধিক্কার জানিয়ে তিনি সাফ বলেন যে, জনগণ ইতিমধ্যেই এই সংস্কৃতির যোগ্য বিচার করে দিয়েছে। বিধায়কের এই আবেদন পাওয়া মাত্রই নব্য সরকারের পর্যটন দপ্তর এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে অত্যন্ত তৎপরতার সাথে অ্যাকশনে নেমেছে। পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ স্বয়ং জেলাশাসকের কাছ থেকে পুঙ্খানুপুঙ্খ রিপোর্ট তলব করেছেন এবং স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন যে, এই জাতীয় জঘন্য অপরাধের সাথে তৎকালীন প্রশাসন বা দলীয় যে সমস্ত নেতৃত্ব যুক্ত ছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কাউকেই বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।
লর্ড হার্ডিঞ্জকে বোমা হামলায় কড়া শিক্ষা দেওয়া কিংবা দেশের বাইরে থেকে আজাদ হিন্দ ফৌজের ভিত গড়ে তোলার মতো ঐতিহাসিক অবদানের জন্য যে রাসবিহারী বসু আজ কোটি বাঙালির হৃদয়ে বিরাজ করছেন, তাঁর স্মৃতি বিজড়িত স্থানকে এমন নিচু মানসিকতায় ব্যবহারের পর এবার তাঁর প্রকৃত মর্যাদা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তো দেশপ্রেমিক বিপ্লবীদের ইতিহাসকে বিকৃত করার পুরনো নোংরা অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে, পূর্বপুরুষদের আত্মত্যাগকে সর্বোচ্চ সম্মান দিতে এবং বাংলার ঐতিহ্যকে পুনরুদ্ধার করতে নব্য সরকারের এই সময়োপযোগী ও কড়া প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত সত্যিই এক জাগ্রত, প্রগতিশীল ও উন্নত ভারতের অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে।