cjp protest against pm modi

ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফায় থামছে না লড়াই! শিক্ষামন্ত্রীর পর কি এবার টার্গেট প্রধানমন্ত্রী!

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর আপাতত ৩৬ দিনের টানা আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা করেছে ককরোচ জনতা পার্টি । তবে ধর্না মঞ্চ গুটিয়ে নিলেও আন্দোলনের আগুন যে নিভে যায়নি, তা স্পষ্ট করে দিয়েছে সংগঠন। বরং আন্দোলনের পরবর্তী পর্যায়ে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে কেন্দ্র করে নতুন রাজনৈতিক লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিয়েছে CJP নেতৃত্ব। ফলে শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার পরেও জাতীয় রাজনীতিতে চাপ যে কমছে না, তা একপ্রকার পরিষ্কার।

শনিবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে তৃতীয় দফার বৈঠকে বসেন CJP-র প্রতিনিধিরা। দীর্ঘ আলোচনার পর সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আপাতত ৩৬ দিনের ধর্না ও লাগাতার আন্দোলন প্রত্যাহার করা হচ্ছে। বৈঠকে সরকারের তরফে একাধিক বিষয়ে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন আন্দোলনকারীরা।

এই আন্দোলনের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষা প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি। আন্দোলনের শুরু থেকেই এই দাবিকে সামনে রেখে দেশজুড়ে প্রতিবাদ গড়ে ওঠে। দিল্লির যন্তর-মন্তরে অনশন, বিক্ষোভ, ছাত্র-যুবদের জমায়েত এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থনে আন্দোলন ক্রমশ জাতীয় ইস্যুতে পরিণত হয়। সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকও এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে দীর্ঘ অনশনে বসেছিলেন।

অবশেষে ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করার পর আন্দোলনের প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি পূরণ হয়েছে বলে দাবি করে CJP। তবে সংগঠনের বক্তব্য, একজন মন্ত্রীর ইস্তফা দিলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যায় না। শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার, পরীক্ষা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং দায় নির্ধারণের মতো একাধিক বিষয়ে এখনও কেন্দ্রকে স্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে।

আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণার পাশাপাশি CJP নেতৃত্ব স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, আগামী দিনে তাদের রাজনৈতিক লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দু হবেন প্রধানমন্ত্রী। সংগঠনের অভিযোগ, গোটা ঘটনার দায় শুধুমাত্র একজন মন্ত্রীর নয়। নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং প্রশাসনিক দায় নিয়েও দেশের সর্বোচ্চ নেতৃত্বকে জবাবদিহি করতে হবে। সেই কারণেই পরবর্তী কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করেই আন্দোলনের নতুন রূপরেখা তৈরি করা হবে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হলেও CJP যে এখানেই থামতে চাইছে না, তা তাদের নতুন অবস্থান থেকেই স্পষ্ট। আগামী দিনে দেশজুড়ে গণস্বাক্ষর অভিযান, ছাত্র-যুবদের নিয়ে বৃহত্তর প্রচার এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে বলেও জল্পনা তৈরি হয়েছে।

ফলে আপাতত ধর্না মঞ্চ গুটিয়ে গেলেও রাজনৈতিক সংঘাতের নতুন অধ্যায় শুরু হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগে এক দফার লড়াই শেষ হলেও, প্রধানমন্ত্রীকে কেন্দ্র করে আগামী দিনে আরও বড় রাজনৈতিক মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে CJP—এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *