১৯৪৬ সালের ১৬ই আগস্ট— ভারতের স্বাধীনতার ঠিক এক বছর আগে, অখণ্ড কলকাতার বুকে নেমে এসেছিল ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিংস’-এর সেই ভয়ঙ্কর, রক্তঝরা ও নারকীয় দিনগুলি। জেনোসাইড আর নির্মম হিংসার সেই অন্ধকার সময়ে, যখন বাঙালি হিন্দু সমাজ চরম অস্তিত্ব সংকটে ভুগছিল, ঠিক তখনই ত্রাতা হিসেবে ধোঁয়াটে কলকাতার বুকে জ্বলন্ত সিংহের মতো আবির্ভূত হয়েছিলেন এক নির্ভীক ও অদম্য সেনানী— গোপাল মুখোপাধ্যায়, যাঁকে ইতিহাস চিরদিন শ্রদ্ধা ভরে চেনে ‘বীর গোপাল পাঁঠা’ নামে। যাঁর ইস্পাতকঠিন নেতৃত্ব, অসামান্য সাহসিকতা এবং সুসংগঠিত সশস্ত্র প্রতিরোধ না থাকলে সেদিনের কলকাতার ভৌগোলিক ও সামাজিক মানচিত্র হয়তো চিরতরে বদলে যেত!
সেই ঐতিহাসিক বীরগাঁথা আর প্রতিরোধের অগ্নিগর্ভ স্মৃতিকে মর্যাদা দিতেই এবার ১৬ই আগস্ট কলকাতায় এক নজিরবিহীন মহামিছিলের ডাক দিয়েছে ‘হিন্দু সংহতি’। সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, এই বিশেষ দিনে তিলোত্তমার তিনটি প্রধান ও পৃথক প্রান্ত থেকে বিশাল পদযাত্রা শুরু হবে, যা শহরের রাজপথ পরিক্রমা করে এক নির্দিষ্ট জনসমুদ্রে মিলিত হবে। বিগত তৃণমূল জমানায় এই রক্তস্নাত দিনটিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ‘খেলা হবে দিবস’ হিসেবে পালন করা নিয়ে তৈরি হয়েছিল তীব্র ক্ষোভ ও বিতর্ক। এমনকি ২০২৫ সালে তৎকালীন বিরোধী দলনেতা তথা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে কলেজ স্ট্রিট থেকে রানি রাসমণি রোড পর্যন্ত ঐতিহাসিক পদযাত্রা করে বঞ্চনার সেই রাজনীতিকে কড়া চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছিল।
অবশেষে বাংলায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর, কোনো রাজনৈতিক ছদ্মবেশ ছাড়াই, কলকাতার বুকে মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে বীর গোপাল পাঁঠার সেই অদম্য প্রতিরোধের বীরগাথা। ১৯৪৬ সালের সেই ভয়ঙ্কর দাঙ্গায় নিহত অগণিত নিরপরাধ মানুষকে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানানোর পাশাপাশি, নিজের জীবন বাজি রেখে বাঙালি জাতিকে রক্ষা করা গোপাল পাঁঠার এই গৌরবময় অবদানকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরাই এই মহামিছিলের মূল লক্ষ্য। তো রাজনৈতিক তুষ্টিকরণ ও ইতিহাস বিকৃতির দিন পেছনে ফেলে, জাতির প্রকৃত রক্ষাকর্তা ও বীর যোদ্ধাকে যথাযথ সম্মান জানানোর এই ঐতিহাসিক পদযাত্রা সত্যি এক নতুন ও আত্মবিশ্বাসী বাংলার আত্মপ্রকাশ সুনিশ্চিত করছে।