By 2029, 380 million voters will be Gen Z alone! Is the end of the Modi government drawing near?

২০২৯ এ ৩৮ কোটি ভোটার শুধুই GEN Z! মোদী সরকারের শেষ সময় কি আসন্ন?

ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এতদিন পর্যন্ত ভোটব্যাংক বলতে জাতি, ধর্ম, কিংবা বিনামূল্যে সরকারি সহায়তার অংককেই প্রাধান্য দেওয়া হতো। কিন্তু আগামী ২০২৯ সালের মেগা লোকসভা নির্বাচন এমন এক অভূতপূর্ব মোড়ের মাথায় এসে দাঁড়িয়েছে, যা দিল্লির মসনদে বসা ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের রাতের ঘুম কেড়ে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট! সমসাময়িক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক তথ্যসূত্রের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৯-এর সাধারণ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চলা মোট জনসংখ্যার ২৯ থেকে ৩৩ শতাংশই হতে চলেছে আজকের উদীয়মান ‘জেন জি’ প্রজন্ম!
সংখ্যার বিচারে এই পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩৮ কোটি! অর্থাৎ, ২০২৯ সালে ভারতের ভোটকেন্দ্রে যাওয়া প্রতি ৩ জন ভোটারের ১ জনই হবেন ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া তরুণ-তরুণীরা। নতুন করে ভোটার তালিকায় যুক্ত হতে চলেছেন আরও অন্তত ৫ থেকে ৬ কোটি জেন জি সদস্য। আর ঠিক এখানেই তৈরি হয়েছে বিজেপি তথা মোদী সরকারের অস্তিত্ব রক্ষার সবচেয়ে বড় ও আশঙ্কাজনক প্রশ্নচিহ্ন—এই অতিকায় তরুণ শক্তি যদি মোদী সরকারের বিরুদ্ধে রায় দেয়, তবে কি ২০২৯-এ ইতিহাস সৃষ্টি করে গদিচ্যুত হতে চলেছে বিজেপি?

বিজেপি এতকাল যে সমস্ত রাজ্যকে নিজেদের মূল শক্তির কেন্দ্র বা ‘হিন্দি হার্টল্যান্ড’ বানিয়ে ক্ষমতা ধরে রেখেছে, ঠিক সেখানেই জেন জি ভোটারের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি!

উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও ঝাড়খণ্ড: এই তিন রাজ্যে রয়েছে মোট ১৩৪টি লোকসভা আসন। আর এখানকার ভোটার তালিকার ৩১ থেকে ৩৭ শতাংশই হলো ১৮ থেকে ৩২ বছর বয়সী এই নতুন প্রজন্ম!

রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশ: এখানকার বড় অংশ যোগ করলে মোট ১৮৮টি আসনে জেন জি হতে চলেছে প্রধান অনুঘটক।

দক্ষিণের চিত্র: কেরল, তামিলনাড়ু এবং অন্ধ্রপ্রদেশের ৮৪টি আসনেও ২২ থেকে ২৪ শতাংশ ভোটার থাকবে এই ডিজিটাল প্রজন্মের হাতে।

পুরোনো চালে আর বাজিমাত নয়, কেন ব্যাকফুটে পদ্ম শিবির?

বিশ্লেষকদের মতে, জেন জি কোনো সাধারণ বা ঐতিহ্যবাহী ‘যুব ভোটব্যাংক’ নয়। ইনিংসে ২০১০ সালের পুরোনো আবেগজাত রাজনৈতিক স্লোগান, ভিকটিমহুড কিংবা বিনামূল্যে রেশনের মতো ধর্মীয় বা সামাজিক সুবিধা দিয়ে এই প্রজন্মকে কোনোভাবেই প্রভাবিত করা সম্ভব নয়। স্মার্টফোন, রিলস, ইনস্টাগ্রাম আর ইউটিউবের হাত ধরে বড় হওয়া এই প্রজন্ম অত্যন্ত বাস্তববাদী। তাঁরা স্পষ্ট দেখতে চান কর্মসংস্থান, উন্নত শিক্ষা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিশ্বমানের সুযোগ-সুবিধা এবং স্বচ্ছ সুশাসন।
সাম্প্রতিক সময়গুলোতে বিভিন্ন সামাজিক ও ছাত্র আন্দোলনে এই জেন জি তরুণদের আগ্রাসী ভূমিকা ও প্রতিবাদী অবস্থান স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। চাকরি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে ক্ষুব্ধ তরুণ সমাজ যদি একজোট হয়ে বিজেপির কেন্দ্রীয় নীতির বিরুদ্ধে ইভিএমে ভোট দেয়, তবে উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের মতো রাজ্যগুলোতে বিজেপির সাজানো আসন নিমেষের মধ্যে তাসের ঘরের মতো গুঁড়িয়ে যেতে পারে।
বিজেপি যদি এই তরুণ প্রজন্মের ভাষা ও দাবি বুঝতে না পারে, তবে ২০২৯-এর নির্বাচন তাদের জন্য এক চরম রাজনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে, যা মোদী জামানার সমাপ্তি ঘটিয়ে দিল্লি থেকে তাদের পুরোপুরি উৎখাত করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *