বীরভূমের রাজনৈতিক অলিন্দে আবারও জোর ধাক্কা খেল ভারতীয় জনতা পার্টি বিজেপি। দুবরাজপুর বার অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচনে ভরাডুবি হলো গেরুয়া শিবিরের। মঙ্গলবার দুবরাজপুর আদালতের পাঁচটি আসনে অনুষ্ঠিত বহুলচর্চিত এই নির্বাচনে বিজেপিকে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে নিরঙ্কুশ জয় ছিনিয়ে নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থিত আইনজীবীদের প্যানেল। ৫-০ ফলাফলে পাঁচটি আসনেই জয়ী হয়ে দুবরাজপুর বার অ্যাসোসিয়েশনে নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখল জোড়াফুল শিবির।
রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দুবরাজপুরের এই বার অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচন ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। স্থানীয় সূত্রের খবর, নির্বাচনের দিন ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিজেপি নেতৃত্বের মধ্যে ব্যাপক তৎপরতা ও উন্মাদনা চোখে পড়েছিল। স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক অনুপ সাহার প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে গেরুয়া শিবিরের ছোট-বড় সমস্ত স্তরের নেতারাই আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছিলেন। দুবরাজপুর আদালত চত্বরে বিজেপির ভারী উপস্থিতি ও প্রচারের যে ঝড় তোলা হয়েছিল, তা দেখে অনেকেই লড়াই জোরালো হবে বলে মনে করেছিলেন। কিন্তু ব্যালট বাক্স খুলতেই ছবিটা একেবারে উল্টে যায়। আইনজীবীদের রায় স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে প্রচারের চমক থাকলেও বিজেপি সমর্থিত প্যানেল প্রতিপক্ষের ধারেকাছে পৌঁছাতে পারেনি।
ভোটের ফলাফল প্রকাশের পরপরই উল্লাসে ফেটে পড়েন তৃণমূলপন্থী আইনজীবীরা। জয়ী প্রার্থীরা আদালত চত্বরে সবুজ আবির খেলে ও মিষ্টিমুখ করিয়ে এই বিরাট জয় উদযাপন করেন। দুবরাজপুর আদালতের আইনজীবী তথা অ্যাসোসিয়েশনের প্রাক্তন সভাপতি মলয় মুখোপাধ্যায় ফলের প্রতিক্রিয়ায় জানান, বিজেপির সমস্ত শীর্ষ নেতৃত্ব ও স্বয়ং স্থানীয় বিধায়ক অনুপ সাহা উপস্থিত থেকেও আদালতের ফলাফল বদলাতে পারেননি। এই জয় প্রমাণ করে যে সচেতন শিক্ষিত সমাজ আজও তৃণমূল কংগ্রেস এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের নীতির প্রতিই আস্থা রাখছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে বিজেপির সমস্ত চক্রান্ত ও প্রচারের ঝড় মোকাবিলা করে প্রাপ্ত এই জয় রাজ্যজুড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াই ও আন্দোলনকে নতুন অনুপ্রেরণা জোগাবে।
বিজেপি যেখানে পঞ্চায়েত ও বিধানসভা স্তরে নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের দাবি করে থাকে, সেখানে শিক্ষিত ও আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত বিশিষ্ট মানুষদের এই রায় বিজেপির সংগঠন ও গ্রহণযোগ্যতার ওপর বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিল। আদালতের এই পরাজয় কেবল একটি বার অ্যাসোসিয়েশনের হার নয়, বরং বীরভূমের মাটিতে বিজেপি সংগঠনের কঙ্কালসার অবস্থাকেই ফের প্রকাশ্যে এনে দিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহল। তৃণমূল কংগ্রেসের এই নিরঙ্কুশ সাফল্য আসন্ন দিনগুলিতে দলীয় কর্মীদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে তা নিশ্চিত।
তৃণমূল কংগ্রেসের এই ঐতিহাসিক জয় কেবল দুবরাজপুর আদালতেই সীমাবদ্ধ নয়, পুরো বীরভূম জুড়ে জোড়াফুল শিবিরের মাটি যে কতটা শক্ত, তা পুনর্বার প্রমাণ করে দিল। শিক্ষিত ও আইনজ্ঞ সমাজের এই স্পষ্ট রায় বিজেপির ভুয়া প্রচারের বেলুনকে যে পুরোপুরি ফুটো করে দিয়েছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। অন্যদিকে, চরম পরাজয়ের এই ধাক্কা সামলে উঠে গেরুয়া শিবির বীরভূমের রাজনীতিতে আগামী দিনে কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। সব মিলিয়ে, আগামী দিনের লড়াইয়ে তৃনমূলের এই জয় দলের প্রতিটি স্তরের নেতা-কর্মীদের উদ্দীপনা ও মনোবল বহুগুণ বাড়িয়ে তুলল।