ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতর থেকে বিলবোর্ড খুলছেন কলকাতা পুরসভার আধিকারিকেরা। সঙ্গে পুলিশও। এ নিয়ে অভিষেকের সঙ্গে তাঁদের বচসা চলেছে দীর্ঘক্ষণ। অভিযোগ, অবৈধ ভাবে ওই বিলবোর্ড লাগানো হয়েছে। তবে তা মানতে চাননি ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। পুলিশ ও পুর আধিকারিকদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয় তাঁর। দফতরের ভিতরে চলে ধস্তাধস্তি, স্লোগান। জোর করে ভবনের ছাদে উঠে পুরকর্মীরা বিলবোর্ড থেকে তৃণমূলের নাম লেখা ব্যানার ছিঁড়ে দেন। কাঠামোটি খোলা হয়। ঠিক সেই সময় ঘটনাস্থল থেকে বিজেপি এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন অভিষেক।
ক্যামাক স্ট্রিটের দলীয় কার্যালয়ের বিল্ডিংয়ের একতলায় ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও৷ সেখানে তাঁর সঙ্গে পুলিশকর্মীদের বচসা বাঁধে৷ উত্তেজনা ছড়ায়৷ বাধা পেরিয়েই ভিতরে ঢুকে সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠে যায় পুলিশ৷ উপস্থিত তৃণমূলকর্মীদের দাবি বলপ্রয়োগ করে ঢুকেছে পুলিশ৷ অন্যদিকে, পুলিশকর্মীদেরও অফিসের ভিতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ৷ ঘটনাস্থলে ছিলেন ডেরেক ও’ব্রায়েনও৷ আটক করা হয় একজনকে৷
তৃণমূল সাংসদের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলকে ভয় পেয়েই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাঁর দফতরের বিলবোর্ড ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করছে পুরসভা। অভিষেক বলেন, জোর করে তৃণমূলকে শেষ করার চেষ্টা চলছে। বিজেপির এত ভয় কেন? তৃণমূলকে মিটিং-মিছিলের অনুতি দেব না। নেতাদের আক্রমণ করব, পার্টি অফিস ভাঙব, বিলবোর্ড ভাঙব এত ভয়? শুভেন্দু অধিকারীকে বলতে চাই, আমরা ঘাসফুল। ঘাস যত কাটবে, ততই বাড়বে।
ক্যামাক স্ট্রিটের ওই এলাকায় অনেক দোকানের উপর ফুটপাতে অনেক বিলবোর্ড রয়েছে বলে জানান অভিষেক। অভিযোগ, অন্য কোনও বোর্ডই খোলা হচ্ছে না। কেবল তাঁর দফতরেই পুরসভা বোর্ড খুলতে চায়। তাঁর কথায়, ফুটপাতের উপর এত বোর্ড লাগানো আছে। কেউ সেটা খুলবে না। যাঁরা এত দিন ধরে একের পর এক অবৈধ বিল্ডিং তৈরি করেছেন সকলের সাত খুন মাফ। কারণ, তাঁরা এখন বিজেপির হাতে তামাক খাচ্ছেন। পুলিশের এই আচরণ, গুন্ডাগিরির বিরুদ্ধে আমরা হাই কোর্টে মামলা করব। সংবিধানের বাইরে কেউ নয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন দমে যাওয়ার মানুষ নন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনৈতিক ময়দানে বারবার সেটাই যেন বুঝিয়ে দিচ্ছেন তিনি। আর এবারও শুভেন্দু অধিকারীকে পাল্টা বার্তা দিয়ে স্পষ্ট করে দিলেন, চাপ যতই আসুক, লড়াই থেকে একচুলও সরবেন না। তাঁর রাজনৈতিক পথের সবচেয়ে বড় প্রেরণা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই আদর্শকে সামনে রেখেই প্রতিপক্ষের আক্রমণের জবাব দিতে মরিয়া অভিষেক। তাহলে কি ফের মুখোমুখি আরও বড় রাজনৈতিক সংঘাত? মমতার আদর্শে ভর করে শুভেন্দুর চ্যালেঞ্জের জবাব দিতে কি নতুন কৌশলে মাঠে নামছেন অভিষেক? এখন নজর সেদিকেই।