ক্যামাক স্ট্রিটের পার্টি অফিসে পুলিশি তাণ্ডব! বিরোধীদের কণ্ঠরোধে চরম অরাজকতার ছবি স্পষ্ট বাংলায়!

বাংলায় এখন স্বৈরাচার আর রাজতন্ত্রের চরম নিদর্শন তৈরি করেছে বিজেপি সরকার। প্রশাসনিক ক্ষমতা হাতে পেয়ে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করতে পুলিশ আর কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে পুরোপুরি নিজেদের দলদাসে পরিণত করা হয়েছে। রাজনৈতিকভাবে তৃণমূল কংগ্রেসকে মোকাবিলা করার ক্ষমতা হারিয়ে এখন সরাসরি বেআইনি দমন-পীড়ন ও গুণ্ডামির পথ বেছে নিয়েছে শাসক বিজেপি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেসের ক্যামাক স্ট্রিটের দলীয় কার্যালয়ে পুলিশের যে বর্বর ও নজিরবিহীন তাণ্ডব গোটা বাংলা লাইভ টেলিকাস্টে দেখল, তা গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক চরম কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
ঘটনার পেছনে বিজেপির আসল আতঙ্কটা লুকিয়ে রয়েছে আজ, ২৮ অগাস্টের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের বিশাল জনসভায়। প্রতি বছরের মতো এবারও যে লক্ষ লক্ষ ছাত্র-যুবর ঢল নামবে এবং বিজেপির ভিত নাড়িয়ে দেবে, তা তারা আগেই টের পেয়েছে। তাই ২১ জুলাইয়ের আগের রাতের মতো সভা ভণ্ডুল করতে ও ভয় পাইয়ে দিতে আগের রাতে বেছে নেওয়া হলো পুলিশি তাণ্ডবের ছক। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন আইনি মামলায় আদালতে বারবার রাজ্য সরকারের ভরাডুবি ও মুখপোড়া হওয়ার জ্বালা। সেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই পরিকল্পনা করে ক্যামাক স্ট্রিটে হামলা চালানো হলো।
বৃহস্পতিবার বিকেলে পুরসভার কর্মীদের সঙ্গে করে এক বিশাল পুলিশ বাহিনী গ্যাস কাটার হাতে নিয়ে পার্টি অফিসে এসে উপস্থিত হয়। অজুহাত— বেআইনি হোর্ডিং ভাঙতে হবে। তৃণমূল কংগ্রেসের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং প্রাক্তন বিধায়ক হুমায়ুন কবির নিচে নেমে এসে আইনসম্মত নোটিশ দেখতে চাইলে পুলিশ কোনো সঠিক মেমো নম্বর, ছবি বা আধিকারিকের সই থাকা বৈধ নথি দেখাতে পারেনি। অভিষেক পরিষ্কার প্রশ্ন তোলেন, “যদি পরিদর্শন করতেই এসে থাকেন, তবে পরিমাপের ফিতের বদলে গ্যাস কাটার কেন? আর ক্যামাক স্ট্রিট জুড়ে বিজেপির যে শয়ে শয়ে বেআইনি বোর্ড ঝুলছে, সেগুলোতে হাত দেওয়ার সাহস আছে?” কোনো আইনি জবাব দিতে না পেরে পিছু হটলেও কিছুক্ষণ পর আরও পুলিশ ফোর্স নিয়ে ফিরে আসে প্রশাসন।
দ্বিতীয়বার কোনো অনুমতি ছাড়াই গাজোয়ারি করে পার্টি অফিসে ঢুকে পড়ে গেট আটকে দেয় পুলিশ। ছাদের দরজার তালা ভেঙে সূর্যাস্তের পর বেআইনিভাবে হোর্ডিং কাটা শুরু হয়— যা পুর আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। শুধু তাই নয়, বাধা দিতে গেলে তৃণমূলের মহিলা নিরাপত্তারক্ষী ও কর্মীদের ওপর অকথ্য নির্যাতন চালানো হয়, তাঁদের শ্লীলতাহানি করা হয় এবং প্রবীণ সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনকে সিঁড়িতে ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়া হয়। এই ধরনের ক্ষমতার অহংকার ও নির্লজ্জ দমননীতি প্রমাণ করে দেয় যে বিজেপি কতটা দেউলিয়া হয়ে পড়েছে। তবে তৃণমূলকে এভাবে গুণ্ডামি করে দমানো যাবে না; চারাগাছ কাটার চেষ্টা করলে তা যেমন আরও দ্বিগুণ শক্তিতে গজিয়ে ওঠে, ঠিক তেমনই বাংলার মানুষ ভোটের বাক্সে এই প্রতিশোধপরায়ণ সরকারকে যোগ্য জবাব দিতে প্রস্তুত হচ্ছে।
অতএব, ক্ষমতার দম্ভে আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চালানো এই স্বৈরাচারী তাণ্ডবের বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেস কেবল রাজপথেই নয়, বরং আদালতের দরজায় কড়া নেড়ে এবং জনমতকে সাথে নিয়ে বিজেপির এই অপশাসনের শেষ দেখে ছাড়বে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *