রাজ্যে ক্ষমতার অলিন্দে বসামাত্রই অরাজকতা, পার্টি অফিস দখল এবং বিরোধী দমনে উগ্র গেরুয়া রাজনীতি শুরু করেছে বিজেপি। শাসকদলের এই অন্যায় অত্যাচার এবং রাজ্য পুলিশের নজিরবিহীন দলদাস আচরণের বিরুদ্ধে এবার রাজপথে না নেমেও ফেসবুক লাইভ থেকে চরম হুঙ্কার ছাড়লেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূলের কার্যালয়ে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের হামলা, ভাঙচুর ও লুঠপাটের ঘটনায় পুলিশের চরম উদাসীনতাকে আড়াল না করে চাঁচাছোলা ভাষায় তোপ দাগেন তিনি। মমতা স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, পুলিশ যেভাবে নিরপেক্ষতা ভুলে বিজেপির ক্যাডারে পরিণত হয়েছে, তা বরদাস্ত করা হবে না। কোন কোন পুলিশ আধিকারিক সাধারণ মানুষ ও বিরোধীদের ওপর অত্যাচার করছেন, তাঁদের নামের তালিকা তৈরি করে রাখা হচ্ছে।
সম্প্রতি ভোরে ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূলের প্রধান কার্যালয়ে ঢুকে ব্যাপক তাণ্ডব চালায় একদল গেরুয়া দুষ্কৃতী। অফিসে থাকা চারজন কর্মীকে আটকে রেখে অমানবিক অত্যাচার চালানোর পাশাপাশি কম্পিউটার লুট এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দলিল ও রেকর্ড চুরি করে নেওয়া হয় বলে মারাত্মক অভিযোগ তুলেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, ঢিল ছোড়া দূরত্বে থানা থাকা সত্ত্বেও পুলিশ কোনো পদক্ষেপ তো করেইনি, উল্টে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সমস্ত তাণ্ডব উপভোগ করেছে। মমতার অভিযোগ, নির্বাচনের পর থেকে রাজ্যজুড়ে প্রায় চার হাজারের বেশি তৃণমূলের পার্টি অফিস গায়ের জোরে দখল করে নিয়েছে বিজেপি, আর পুলিশ কেবল দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। বিজেপি বিধায়কেরা বিডিও-র চেয়ারে বসে প্রশাসনিক কাজ চালাচ্ছেন এবং পুলিশ আধিকারিকেরা তৃণমূল কর্মীদের সাফ জানিয়ে দিচ্ছেন যে দলীয় যোগাযোগ রাখা যাবে না।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র আক্রমণ করে বলেন, বিজেপির নিজস্ব কোনো নিচুতলার কর্মী নেই, তাই তারা রাজ্য পুলিশকে নিজেদের ক্যাডার বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করে ক্ষমতাদর্প দেখাচ্ছে। কিন্তু এই ক্ষমতার দম্ভ আর বেশি দিন স্থায়ী হবে না। কেন্দ্রের মোদি সরকার ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে ‘জেন জি’ আন্দোলনের তীব্র জনরোষের মুখে পড়ে টালমাটাল অবস্থায় রয়েছে। দেশের তরুণ সমাজ ও সাধারণ মানুষ আর কোনো অরাজকতা বরদাস্ত করবে না।
তৃণমূল নেত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দিল্লিতে বিজেপি সরকারের গদি উল্টে যাওয়া এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। আর কেন্দ্রে দিল্লির সেই গদি একবার টলমল হলেই, বাংলায় সদ্য ক্ষমতায় আসা বিজেপির ভিত এক লহমায় ধসে পড়বে। আত্মতুষ্টিতে ভোগা বিজেপি নেতৃত্বকে চরম বার্তা দিয়ে তিনি মনে করিয়ে দেন, স্বৈরাচারী উপায়ে জনমতকে দমন করে কোনো দলই বেশিদিন রাজত্ব চালাতে পারে না। পুলিশের ক্ষমতার জোরে বিরোধীদের ওপর অন্যায় অত্যাচার চালানোর যে খেলা শুরু হয়েছে, অচিরেই দিল্লির পতন ও বাংলায় জনজোয়ারের তোড়ে সেই বিজেপি সরকারের পতন কার্যত অনিবার্য।
এখন দেখার, মমতার এই বিস্ফোরক অভিযোগের পর রাজ্য পুলিশ ও বিজেপি কী জবাব দেয়, আর বাংলার রাজনীতিতে তার প্রভাব কতটা পড়ে।