আরজি কর কাণ্ডে সোমনাথ দে গ্রেফতার হতেই বিস্ফোরক রত্না দেবনাথ !

আরজি কর কাণ্ডের বিভীষিকাময় রাতে ঠিক কী ঘটেছিল, কীভাবে তড়িঘড়ি সমস্ত প্রমাণ লোপাটের ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল— রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পরেই এবার সেই অন্ধকার সত্য একের পর এক প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে! তরুণী চিকিৎসকের দেহ তড়িঘড়ি সৎকার এবং তথ্যপ্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করার গুরুতর অভিযোগে এবার গ্রেফতার হলেন পানিহাটি পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান সোমনাথ দে। আর এই গ্রেফতারির পরেই ক্ষোভ ও কান্নায় ফেটে পড়লেন নির্যাতিতার মা তথা বর্তমান বিজেপি বিধায়িকা রত্না দেবনাথ।

সোমনাথ দে-র গ্রেফতারির পর অত্যন্ত আকুল ও বিস্ফোরক সুরে রত্না দেবনাথ জানান— “এ তো হওয়ারই ছিল, কতদিন আর পালিয়ে পালিয়ে বেড়াবে? তিনজন প্রভাবশালী একদলে একত্রিত হয়ে সেদিন আমার মেয়ের দেহটা এনে শ্মশানে জ্বালিয়ে দিয়েছিল!” অভিযোগের আঙুল তুলে তিনি প্রশ্ন তোলেন, স্বজনহারা পরিবার ও অসংখ্য আত্মীয়স্বজন থাকা সত্ত্বেও সেদিন কেন কাউকে মরদেহের কাছে ঘেঁষতে দেওয়া হয়নি? কোন অদৃশ্য ক্ষমতার নির্দেশে গ্রিন করিডোর বানিয়ে, গাড়ির চালককে উঠিয়ে মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে আরজি কর হাসপাতাল থেকে দেহ এনে শ্মশানে ফেলা হয়েছিল? যখন পরিবার দ্বিতীয় পোস্টমর্টেমের দাবিতে টালা থানায় বসে লড়াই করছিল, ঠিক তখনই এই প্রভাবশালী চক্র তড়িঘড়ি সব শেষ করে দেওয়ার চক্রান্ত করেছিল বলে দাবি করেন তিনি।

রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর আরজি করের সেই রুদ্ধদ্বার ফাইল নতুন করে খুলতেই ব্যাকফুটে অপরাধীরা। নির্যাতিতার বাবার করা নতুন এফআইআরের ভিত্তিতে একে একে জালে উঠছে একের পর এক প্রভাবশালী মুখ। ইতিমধ্যেই ওড়িশা থেকে গ্রেফতার হয়েছেন পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ। পাশাপাশি ধরা পড়েছে তাঁর অতি ঘনিষ্ঠ কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় এবং এবার সোমনাথ দে।

একের পর এক হেভিওয়েট অপরাধীর এই গ্রেফতারির পর রাজ্য প্রশাসনের তরফ থেকে নির্যাতিতার বাবা শেখর দেবনাথ এবং মা রত্না দেবনাথের নিরাপত্তা বহুগুণ বাড়িয়ে সর্বক্ষণের জন্য সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের স্পষ্ট দাবি— কেবল গ্রেফতার নয়, প্রমাণ লোপাটের এই নিষ্ঠুর চক্রান্তে যুক্ত প্রতিটি প্রভাবশালী রূপকারকে যেন দ্রুত চরম শাস্তির মুখোমুখি করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *