আসন্ন পুরসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই এবার দলীয় শৃঙ্খলারক্ষা ও নব্য নেতাদের লাগামহীন উচ্চাকাঙ্ক্ষা রুখতে চরম কঠোর অবস্থান নিল গেরুয়া শিবির! কেবল দলবদল করে গেরুয়া পতাকা হাতে তুলে নিলেই যে বিজেপির টিকিট পকেটে পোরা যাবে না, তা অত্যন্ত স্পষ্ট এবং ঝাঁঝালো ভাষায় জানিয়ে দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। শনিবার বারাসতের রবীন্দ্রভবনে বিজেপি শিক্ষক সেলের আয়োজিত শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানমঞ্চ থেকে সম্প্রতি দলে আসা স্বঘোষিত নেতাদের কার্যত ধুয়ে দিলেন তিনি।
দলে যোগ দিয়েই প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে নামা দলবদলুদের একহাত নিয়ে শমীক ভট্টাচার্য বলেন— কিছু মানুষ রাতারাতি বিজেপির পতাকা হাতে তুলে নিয়েছে, গায়ে গেরুয়া আবির মেখেছে। অথচ কিছুদিন আগেও তাদের পূর্ববর্তী দল তৃণমূল কংগ্রেসে কাটমানির ভাগাভাগি নিয়ে এরা নিজেদের মধ্যে ইট-পাথর ছুড়েছে, বাড়ি ভাঙচুর করেছে। আর আজ তারাই নিজেদের এমনভাবে জাহির করছে যেন পুরভোটে তারাই ভবিষ্যৎ প্রার্থী! এই ধরনের সুযোগসন্ধানী নেতাদের সম্পূর্ণ ‘অপ্রাসঙ্গিক’ বলে দাগিয়ে দিয়ে রাজ্য সভাপতি স্পষ্ট জানান— এই সমস্ত তোলাবাজ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধেই কিন্তু বাংলার আমজনতা রায় দিয়েছে, তাই তাদের কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
শুধু টিকিট বিলিই নয়, ক্লাবের নিয়ন্ত্রণ ও পুজো কমিটি দখলের মতো সামাজিক দখলদারির রাজনীতির বিরুদ্ধেও সুর চড়ান তিনি। দলীয় নেতা-কর্মীদের সোজাসুজি নির্দেশ দিয়ে শমীকবাবু বলেন— বিজেপির পতাকা ব্যবহার করে কোথাও কোনো পুজো কমিটি দখল কিংবা জোরজুলুমের চেষ্টা হলে তা রুখে দিতে হবে। তাঁর শাণিত মন্তব্য— মানুষ কেবল জামা বা দলের রং পরিবর্তনের জন্য নয়, জামার ভেতরের মানুষটার চরিত্র ও মানসিকতা পরিবর্তনের জন্য পরিবর্তন এনেছে। পুরনো বা নতুন— দলীয় পরিচয় যাই হোক না কেন, বিজেপির জমানায় কোনো তোলাবাজির সংস্কৃতি চলতে দেওয়া হবে না।
তৃণমূলের সাম্প্রতিক গোষ্ঠীদ্বন্দ্বকে খোঁচা দিয়ে তিনি রসিকতার ছলে মন্তব্য করেন— তৃণমূলে কাটমানির ভাগে কম পড়লেই এখন এক গোষ্ঠী অন্য গোষ্ঠীকে ডিম ছুড়ছে, অথচ পুলিশের কাছে মেটাল ডিটেক্টর থাকলেও এই অন্তর্দ্বন্দ্ব মাপার মতো ‘ডিম ডিটেক্টর’ নেই! তবে সেই নোংরা সংস্কৃতি থেকে দূরে সরে এসে বিজেপি কর্মীদের আদর্শ মেনে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে আত্মবিশ্বাসের সুরে শমীক ভট্টাচার্য দাবি করেন— আসন্ন কলকাতা ও হাওড়া পুরনিগম নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে বিপুল জয় ছিনিয়ে এনে সুশাসনের বোর্ড গঠন করবে বিজেপি।