সার্কিট হাউসের রাস্তায় নামাজ ঘিরে তোলপাড় মুরাদাবাদে, সমাজবাদী নেতা হাজি মহম্মদের বিরুদ্ধে FIR যোগী পুলিশের

ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার।উত্তরপ্রদেশের মুরাদাবাদ জেলার সার্কিট হাউসে উপস্থিত ছিলেন উত্তরপ্রদেশ বিধান পরিষদের বিরোধী দলনেতা লাল বিহারি যাদব। তাঁর সঙ্গে স্থানীয় সমাজবাদী পার্টির নেতাকর্মীদের একটি পর্যালোচনা বৈঠকও হয়।অভিযোগ, সেই বৈঠক শেষ হওয়ার পর সার্কিট হাউসের লনের কাছে নামাজ পড়েন সমাজবাদী পার্টির জেলা সহ-সভাপতি হাজি মহম্মদ উসমান। আর এই ঘটনারই একটি ভিডিও পরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, গাড়ি পার্ক করার পর সরকারি ভবনের চত্বরে নামাজ পড়ছেন এক ব্যক্তি। ভিডিওটি সামনে আসার পরই শুরু হয় রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক। ঘটনায় অভিযোগ দায়ের করেন সার্কিট হাউসের দায়িত্বপ্রাপ্ত জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার অনিল কুমার। অভিযোগে বলা হয়, সরকারি ভবনের চত্বরে এভাবে নামাজ পড়ার কারণে জনসাধারণের যাতায়াতে বাধা তৈরি হয়েছিল এবং সেখানে আসা-যাওয়া করা মানুষ সমস্যায় পড়েছিলেন। এরপর মুরাদাবাদের মঝোলা থানায় হাজি মহম্মদ উসমানের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে পুলিশ। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, জনসাধারণের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করার অভিযোগে আইনি ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে।

এই ধারায় সর্বোচ্চ এক মাসের কারাদণ্ড অথবা পাঁচশো টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে প্রশাসনের তরফেও প্রতিক্রিয়া এসেছে। এডিএম সিটি অঙ্কিত শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্তাধীন। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসপি সিটি কুমার রণবিজয় সিংহও জানিয়েছেন, বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পুলিশ ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির সত্যতা এবং ঘটনার সম্পূর্ণ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে। এদিকে ভিডিও সামনে আসার পর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বেশ কয়েকটি হিন্দু সংগঠন। তাদের প্রশ্ন, সরকারি ভবনের চত্বরে এভাবে কোনও ধর্মীয় অনুষ্ঠান করার অনুমতি রয়েছে কি না?

জাতীয় বজরং দলসহ কয়েকটি সংগঠন প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রত্যেকের অধিকার হলেও সরকারি সম্পত্তি এবং জনসাধারণের চলাচলের জায়গায় নিয়ম মেনে চলা জরুরি। তবে অন্যদিকে সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি হাজি মহম্মদ উসমানের।
তাঁর বক্তব্য, তিনি কোনও অন্যায় করেননি।
এটি ইবাদতের বিষয়। বাইরে কোথাও থাকাকালীন নামাজের সময় হয়ে গেলে সেখানেই নামাজ পড়া হয় বলেই দাবি তাঁর।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি করেছেন তিনি—ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি কখন তোলা হয়েছে, তা তিনি জানেন না। কিছু সূত্রের দাবি, শুক্রবার তিনি সার্কিট হাউসে যানইনি।

এর মধ্যেই ঘটনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন বিলারি বিধানসভা কেন্দ্রের সমাজবাদী পার্টির বিধায়ক মোহাম্মদ ফহীম ইরফান। অভিযুক্ত হাজি মহম্মদ উসমান তাঁর কাকা। বিধায়কের পক্ষ থেকে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে, ভাইরাল ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *