পুজোয় কমিটি পিছু ১ লাখ টাকা অনুদান ঘোষণা শুভেন্দুর!কিন্তু তার সাথেই রইল বড় পুজোগুলিকে টাকা ছাড়ার বেনজির আর্জি !

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর এই প্রথম দুর্গাপুজো! আর প্রথম বছরেই শারদোৎসবকে কেন্দ্র করে একাধিক যুগান্তকারী, সাহসী ও নজিরবিহীন পদক্ষেপের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নিউ টাউনের মেলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত দুর্গাপুজোর মেগা প্রশাসনিক ও সমন্বয় বৈঠক থেকে পুজো কমিটিগুলির জন্য এক লাখ টাকা আর্থিক অনুদানের বড় ঘোষণা করলেন তিনি। তবে এই ঘোষণার সাথেই এক অভিনব ও মানবিক বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান— যে সমস্ত বড় পুজো কমিটির আর্থিক সামর্থ্য ও বড় স্পনসর রয়েছে, তারা যেন এই সরকারি অনুদানের জন্য আবেদন না করে এবং সেই টাকা নেওয়ার প্রলোভন ত্যাগ করে। যারা স্বেচ্ছায় সরকারি টাকা নেবে না, সরকার তাদের প্রকাশ্যে সাধুবাদ জানাবে বলেও জানান তিনি। এর পাশাপাশি প্রতিটি ছোট-বড় পুজো কমিটির জন্য বিদ্যুতের সম্পূর্ণ খরচ ফ্রি করে দেওয়ার পাশাপাশি ফায়ার লাইসেন্সের ফি-ও পুরোপুরি মকুব করেছে নবান্ন।

তবে কেবল সুবিধাই নয়, সনাতনী রীতি ও নাগরিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে একাধিক কড়া নিয়মের বেড়াজাল বেঁধে দিয়েছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রী সাফ নির্দেশ দিয়েছেন— শাস্ত্র অমান্য করে পিতৃপক্ষে বা দেবীপক্ষ শুরু হওয়ার আগে কোনো মতেই পুজোর উদ্বোধন করা যাবে না। পুজো কিংবা বিসর্জনে কোনো অবস্থাতেই ডিজে বাজানো চলবে না। জাতীয় সড়ক আটকে যেমন পুজো করা যাবে না, তেমনই কলকাতার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ১৩টি প্রধান রাস্তা কোনোভাবেই বন্ধ করা চলবে না। প্রতিমা বিসর্জনের ক্ষেত্রে ক্রেনের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে সনাতনী ভাবাবেগকে সর্বোচ্চ সম্মান জানানোর কথা বলা হয়েছে। আর সবথেকে বড় সিদ্ধান্ত হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে— মহাষ্টমীর পবিত্র দিনে রাজ্যের সমস্ত মদের দোকান ও পানশালা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে, সেখানে এক ফোঁটাও মদ বিক্রি করা যাবে না!

পূর্ববর্তী সরকারের আমলে আয়োজিত তথাকথিত রেড রোডের পুজো কার্নিভালকে ‘চাপিয়ে দেওয়া ব্যবস্থা’ বলে তীব্র কটাক্ষ করে তা সম্পূর্ণ বন্ধের ঘোষণা করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তার পরিবর্তে মহালয়ার পুণ্যলগ্নে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ইডেন গার্ডেন্সে আয়োজন করা হচ্ছে চার ঘণ্টার এক বিশাল সাংস্কৃতিক মহোৎসব। এছাড়া পর্যটন দফতরের উদ্যোগে দিঘায় বিশেষ আয়োজন এবং রাজ্যের আরও ছ’টি প্রধান শহরে দু’দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

পুজো প্যান্ডেলে ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আঘাত করে এমন কোনো বিতর্কিত থিম তৈরি বরদাস্ত করা হবে না বলেও প্রশাসন সতর্ক করেছে। সেই সাথে পক্ষপাতহীনভাবে শারদ সম্মান প্রদানের জন্য কেবল সনাতনী সংস্কৃতি ও ধর্মের গভীর জ্ঞান থাকা নিরপেক্ষ মানুষদেরই বিচারক করা হবে। সব মিলিয়ে, একদিকে লাখ টাকার অনুদান ও নিখরচায় বিদ্যুৎ, অন্যদিকে ডিজে ব্যান ও অষ্টমী পালন— শারদোৎসবকে কেন্দ্র করে শুভেন্দু অধিকারীর এই কড়া অথচ ঐতিহ্যবাহী পদক্ষেপ রাজ্যজুড়ে এক নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *