“আমার অভিশাপ লেগেছে, আজীবন ফ্রিজ থাকুক জোড়াফুল!জানেন ঠিক কী বলেছেন জোড়াফুল প্রতীককের স্রষ্টা হিসাবে দাবী করা এই শিল্পী ?

নির্বাচন কমিশন তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও প্রতীক ‘ঘাসের ওপর জোড়াফুল’ ফ্রিজ করে দেওয়ার পর থেকেই তোলপাড় বঙ্গ রাজনীতি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিদ্রোহী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে যখন ঘাসফুল প্রতীকটিই রাজনীতির ময়দান থেকে সাময়িকভাবে মুছে গেল, ঠিক তখনই এই বিতর্কে প্রবেশ করল এক মারাত্মক ও রোমহর্ষক নতুন অধ্যায়! যে শিল্পী নিজের হাতে এঁকেছিলেন তৃণমূলের অতি পরিচিত সেই জোড়াফুল প্রতীক, সেই মূল স্রষ্টা সোমনাথ চৌধুরী এবার সরাসরি মুখ খুললেন। আর মুখ খুলেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ, বঞ্চনা ও চুরির অভিযোগ উগরে দিয়ে তিনি দাবি করলেন— “আমার অভিশাপ লেগেছে বলেই আজ এই পরিণতি; নির্বাচন কমিশন যেন এই প্রতীক চিরকালের জন্য ফ্রিজ করে রেখে দেয়!”

১৯৯৮ সালের তৃণমূলের প্রতিষ্ঠার সময়কার এক অজানা ও বিতর্কিত ইতিহাস প্রকাশ্যে এনে সোমনাথ চৌধুরী জানান— এই প্রতীক কখনোই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মস্তিষ্কপ্রসূত নয়। তৎকালীন তৃণমূল নেতা অজিত কুমার পাঁজার বিশেষ অনুরোধেই ছাত্র পরিষদের কর্মী সোমনাথ নিজের কল্পনায় এই অনন্য জোড়াফুলের নকশা তৈরি করেছিলেন। শিল্পী হিসেবে কোনো পারিশ্রমিক বা টাকা তিনি নেননি, চেয়েছিলেন কেবল শিল্পীর প্রাপ্য আত্মসম্মান ও স্বীকৃতি। অজিত পাঁজা তাঁকে বলেছিলেন এক বিরাট চমক অপেক্ষা করছে। কিন্তু সেই চমক দেখতে গিয়ে সোমনাথের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়েছিল!

টেলিভিশনের পর্দায় চোখ রেখে সোমনাথ চৌধুরী দেখেছিলেন— তাঁর আঁকা সেই লোগো হাতে নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যবাসীকে এক কাল্পনিক গল্প শোনাচ্ছেন! মমতা দাবি করেছিলেন, তিনি নাকি মামার বাড়ি যাওয়ার পথে কাশফুল দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজের হাতে পেনসিল দিয়ে এই প্রতীক এঁকেছেন! নিজের সৃষ্টিকে অন্যের নামে চুরি হতে দেখে সেদিন বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন শিল্পী সোমনাথ। প্রতিবাদ করতে গেলে অজিত পাঁজা তাঁকে হাতজোড় করে শান্ত হতে অনুরোধ করেন এবং মমতার স্বভাবসুলভ একনায়কতন্ত্রের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তখন ক্ষমতায় থাকা দলটির ভয়ে তিনি প্রকাশ্যে মুখ খুলতে না পারলেও দীর্ঘ ২৮টি বছর ধরে অন্তরে জমিয়ে রেখেছিলেন সেই অপমানের দগদগে ক্ষত।

শিল্পী ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন— “সব ব্যাপারে তাঁর সীমাহীন আমিত্ব আর মিথ্যাচারই আজ এই পতনের কারণ। জ্যান্ত শিল্পীর চোখের জল আর অধিকার কেড়ে নিয়ে একটা জীবন্ত প্রতীককে বেশিদিন চালানো যায় না; ডিগবাজি খেতেই হতো। আমি তো মানুষ, আমার অন্তরের দীর্ঘশ্বাস আর অভিশাপ শেষমেশ লেগেছে!”

কমিশনের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তকে আন্তরিক সাধুবাদ ও ধন্যবাদ জানিয়ে সোমনাথ চৌধুরী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন— এই প্রতীকের আসল নৈতিক মালিক তিনি নিজে। কোনো শিবিরকেই যেন এই প্রতীক আর ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়া হয়। তবে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি নরম সুর দেখিয়ে তিনি ইঙ্গিত দেন— ঋতব্রত যদি নিজে তাঁর কাছে এসে যথাযথ সম্মান দিয়ে চিঠি লিখে চান, তবেই তিনি ভেবে দেখতে পারেন। সব মিলিয়ে, একদিকে উপনির্বাচনে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর প্রতীক হারানোর হাহাকার, আর অন্যদিকে ২৮ বছর বঞ্চনা সহ্য করা শিল্পীর এই চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি— জোড়াফুলের সমাধি যেন এক চরম নিয়তির বাস্তব রূপ নিয়ে বাংলার রাজনীতিতে হাজির হলো!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *