জ্ঞানেশ কুমারের ‘বসের’ ইস্তফা চাও এবার! ককরোচ জনতা পার্টিকে সোজাসুজি আর্জি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়ালের!

জ্ঞানেশ কুমারের ‘বসের’ ইস্তফা চাও এবার! পরোক্ষভাবে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানালেন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সামনে রেখে যে বিশাল কারচুপির চক্রান্ত চলেছে, তার মূল কারিগর যে দিল্লির মসনদে বসে থাকা শীর্ষ নেতৃত্ব—সে কথা আর ঢাকা-চাপা থাকছে না। আম আদমি পার্টির প্রধান সোজা ব্যাটে আঘাত হেনে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে জানিয়ে দিলেন, স্রেফ হুকুমের দাস বা পুতুলের পদত্যাগ চেয়ে কোনো লাভ হবে না। যদি গণতন্ত্র রক্ষা করতেই হয়, তবে এবার সরাসরি আঘাত করতে হবে একদম মূলে! অর্থাৎ, যাঁর নির্দেশে দেশের মূল ভোটাধিকার ধূলিসাৎ করা হচ্ছে, সেই প্রধানমন্ত্রীর ইস্তফাই এখন একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত!

জাতীয় রাজনীতিতে ঝড় তোলা সেই চাঞ্চল্যকর তদন্তমূলক রিপোর্ট সামনে আসার পর থেকেই নির্বাচন কমিশনের কালো মুখোশটা টেনে খুলে গিয়েছে। সেখানে পরিষ্কার দেখা গিয়েছিল, কীভাবে দুই নির্বাচন কমিশনারের স্পষ্ট বিরোধিতা সত্ত্বেও তাঁদের অন্ধকারে রেখে একনায়কের মতো নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিচ্ছিলেন জ্ঞানেশ কুমার। নির্বাচন কমিশনকে একটা বিশেষ রাজনৈতিক দলের কার্যালয় বানিয়ে দেশের প্রায় ১৩ কোটি বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বেআইনিভাবে ছেঁটে ফেলা হয়েছে। এই নজিরবিহীন জালিয়াতি এবং দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে লড়াইয়ে নেমেছিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। তারা সোজা আল্টিমেটাম দিয়েছিল—২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার পদত্যাগ না করলে আগামী ২ অক্টোবর অর্থাৎ মহাত্মা গান্ধীর জয়ন্তীর দিন থেকেই স্তব্ধ করে দেওয়া হবে গোটা দেশ!

আর ঠিক এই উত্তপ্ত আবহের মাঝেই যেন ঘি ঢেলে দিলেন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। স্পষ্ট বার্তা ছড়িয়ে দিয়ে আন্দোলনরত ককরোচ জনতা পার্টির উদ্দেশ্যে তিনি বললেন, ‘তোমরা প্রথমে একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়েছিলে, তারপর মুখ তুলে চেয়েছো জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। কিন্তু এভাবে ছোট ছোট মোড়কে বিভ্রান্ত হয়ে লাভ আছে কি? আমি বলছি, জ্ঞানেশ কুমারের ‘বসের’ ইস্তফা চাও এবার! কারণ জ্ঞানেশ কুমার একা কিছু করছেন না, যা কিছু ঘটছে তা কিন্তু একজনের ইশারাতেই পরিচালিত হচ্ছে। তাই পরোক্ষভাবে সোজা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পদত্যাগের দাবিতেই এবার সারা দেশজুড়ে লড়াই জোরদার হওয়া উচিত!’

ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বও সাফ জানিয়ে দিয়েছে, জ্ঞানেশ কুমারকে শুধরে যাওয়ার জন্য যে ৪৮ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছিল, তা ইতিমধ্যেই পার হয়ে গিয়েছে। এখন লড়াই সম্পূর্ণ তাদের হাতে। আগামী ২ অক্টোবর থেকে যে ‘ইলেকশন কমিশন ঠিক করো’ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে, তা রাজপথে এক ঐতিহাসিক ঝড়ের রূপ নিতে চলেছে। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, জ্ঞানেশ কুমার ও তাঁর পিছনে থাকা বসেরা মিলে দেশের কোটি কোটি মানুষকে ঠকিয়েছেন, আর এই লড়াই কোনোভাবেই জয় না পাওয়া পর্যন্ত থামবে না। ২ অক্টোবরের এই মহাসংগ্রাম কোন দিকে মোড় নেয় এবং সাধারণ মানুষের এই ক্ষোভের আগুনে প্রধানমন্ত্রীর সিংহাসন কতটা টলে যায়, এখন সেটাই দেখার!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *