বিজেপি সরকারের আমলে নারীদের নিরাপত্তা আর সম্মানের যে কী করুণ দশা, তা আরও একবার প্রমাণ হয়ে গেল দেশের রাজধানী দিল্লিতে! যে পুলিশ বাহিনীর মূল দায়িত্ব মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তারাই এখন যৌন হেনস্তায় অভিযুক্ত আধিকারিককে পদোন্নতি দিয়ে পুরস্কৃত করছে! মহিলা সাংবাদিককে যৌন হেনস্থা করার মারাত্মক অভিযোগে অভিযুক্ত দিল্লি পুলিশের এসিপি বিবেক ভগতকে রাতারাতি প্রমোশন দিয়ে বানিয়ে দেওয়া হলো অতিরিক্ত ডিসিপি! কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে থাকা দিল্লি পুলিশের এই চরম নির্লজ্জ ও জঘন্য সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসতেই সোচ্চার হয়ে উঠেছে গোটা দেশের মানুষ।
ঘটনার সূত্রপাত গত ৩ই অক্টোবর। দিল্লিতে প্রতিবাদ চলাকালীন কর্তব্যরত মহিলা সাংবাদিকদের চরম নির্যাতন ও যৌন হেনস্থা করার গুরুতর অভিযোগ ওঠে এই এসিপি বিবেক ভগতের বিরুদ্ধে। এই বর্বরতার প্রতিবাদে শনিবার ৫ই অক্টোবর থেকে দিল্লি পুলিশের সদর দপ্তরের সামনে প্রতিবাদে নামেন সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির নেত্রীরা। সাধারণ নাগরিক থেকে বিরোধী দলগুলি যখন অভিযুক্ত পুলিশের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের ও শাস্তির দাবিতে রাস্তায় সরব, ঠিক তখনই মোদি সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে থাকা পুলিশ প্রশাসন অভিযুক্ত ভগতকে অতিরিক্ত ডিসিপি পদে পদোন্নতি দেওয়ার নোংরা সিদ্ধান্ত উপহার দিল।
প্রশাসন সাফাই দিয়ে বলেছে, এটি নাকি আগে থেকে ঠিক হয়ে থাকা সাধারণ পদোন্নতির তালিকা। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, যে পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে মহিলা সাংবাদিকদের গায়ে হাত তোলার মতো মারাত্মক অভিযোগ রয়েছে, তার বিরুদ্ধে তদন্ত না চালিয়ে কীভাবে তাকে তড়িঘড়ি প্রমোশন দেওয়া হয়? বিরোধীরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছে। সোশাল মিডিয়ায় তোপ দেগে বলা হয়েছে—বিজেপির শাসনে নিচে নামার আর কোনো শেষ নেই! যে দেশে প্রতিবাদী নারীদের জেলে পোরা হয় আর হেনস্তাকারীদের বুকে পদক ঝুলিয়ে দেওয়া হয়, সেটাই নাকি বিজেপির তথাকথিত ‘নতুন ভারত’!
দিল্লি পুলিশের সদর দপ্তরের সামনে আশা শর্মা, রেণু শর্মা, মাইমুন মোল্লাদের মতো নেত্রীদের নেতৃত্বে টানা বিক্ষোভ চললেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক যেন কানে তুলো দিয়ে বসে আছে। এমনকি দিল্লি পুলিশ প্রতিবাদী নারীদের অমানবিক অত্যাচার করে চাটুকারের মতো আটক করছে, কিন্তু নিজেদের অপরাধী আধিকারিকের গায়ে হাত দেওয়ার সাহস দেখাচ্ছে না। বিজেপির এই নারীবিদ্বেষী নীতি আর অপরাধীদের আড়াল করার জঘন্য রাজনীতি আজ পুরো দেশের সামনে উন্মোচিত। ক্ষমতার দাপটে অভিযুক্ত পুলিশকে পদোন্নতি দেওয়া গেলেও, সাধারণ মানুষের ক্ষোভের আগুনে বিজেপির এই স্বৈরাচারী শাসন যে ছারখার হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য!
আসলে এটিই বিজেপির তথাকথিত ‘নারী কল্যাণ’ ও ‘বেটি বাঁচাও’-এর আসল বিভৎস রূপ! মুখে বড় বড় ভাষণ আর ঢোল পেটানো হলেও, কাজের বেলায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক থেকে শুরু করে দিল্লি পুলিশ—সবাই যেন অপরাধীদের রক্ষা করতে এবং নারীদের সম্মান বিলীন করতেই ব্যস্ত। দেশের রাজধানীতেই যদি নারী সাংবাদিকদের মতো দায়িত্বশীল পেশাজীবীদের হেনস্থা হতে হয় এবং তার বিনিময়ে অভিযুক্তকে প্রমোশন দিয়ে পুরস্কার দেওয়া হয়, তবে দেশের সাধারণ মেহনতী ও অসহায় নারীদের নিরাপত্তা কোন তলাানিতে গিয়ে ঠেকেছে, তা আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না।