ভুয়ো ভিডিওতে লাইক বা শেয়ার করলেই জামিন-অযোগ্য ধারায় মামলা! এবার চোরবাগান কাণ্ডে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া দাওয়াই !  

শারদোৎসবের আবহে চোরবাগান সর্বজনীনের পুজো মণ্ডপে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ পদপিষ্টের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় লাগাতার ছড়িয়ে পড়া ভুয়ো ভিডিও এবং গুজবের বিরুদ্ধে এবার সবচেয়ে কঠোরতম অবস্থানের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী! নিছক ভিডিও বানানো বা পোস্ট করাই নয়— ভুয়ো, বিভ্রান্তিকর এবং সমাজে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে এমন কোনো পোস্টে লাইক দেওয়া কিংবা তা ফরওয়ার্ড ও শেয়ার করলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে সরাসরি জামিন-অযোগ্য ধারায় মামলা দায়েরের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। উৎসবের মরশুমে শহরের সংবেদনশীল পরিবেশকে হাতিয়ার করে পরিকল্পিত অরাজকতা তৈরির অপচেষ্টায় কোনো রেয়াত করা হবে না বলে সাফ বার্তা দিয়েছে নবান্ন।

চোরবাগানের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় একশ্রেণির অসাধু চক্র চরম বিভ্রান্তি ছড়াতে শুরু করে। এমনকি মর্গে মৃতদের চোখ বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে— এমন জঘন্য ও মিথ্যা তথ্য রটিয়ে চোরবাগানের ভিডিও বিকৃত করার অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় কোচবিহার থেকে আইনুল হক নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, যে কিনা বিকৃত ভিডিও পোস্ট করে তা ব্যাপক হারে শেয়ার করার উস্কানি দিচ্ছিল। পরবর্তীতে আরও দু’জনকে হেফাজতে নেয় প্রশাসন। অন্যদিকে, ভুয়ো প্রোফাইল খুলে রাজ্যজুড়ে আতঙ্ক ছড়ানোর অপরাধে দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট থেকে রেহান সরকার, সুমন রায় এবং সিদ্দিক মিঞা আলি নামে তিন যুবককে পাকড়াও করেছে পুলিশ। জেলা পুলিশ সুপার অভিষেক গুপ্তা জানিয়েছেন— সাধারণ দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক ও সামাজিক উত্তেজনা তৈরির পেছনে কোনো আন্তর্জাতিক চক্রান্ত বা ওপার বাংলার যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে জানান— এই ধরনের পরিকল্পিত গুজব ছড়ানোর অপরাধে সাইবার ক্রাইম শাখা ইতিমধ্যেই অন্তত ১৩৫ জনকে চিহ্নিত করেছে। মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি দাবি— রাজ্যের স্থিতাবস্থা নষ্ট করতে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশ থেকেও একাধিক ভুয়ো অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে তিনি বলেন— কোনো যাচাই না করে সোশ্যাল মিডিয়ার স্পর্শকাতর ভিডিওতে লাইক বা তা শেয়ার করার আগে দশবার ভাবুন; কারণ যারা এই ধরনের অপরাধমূলক ভুয়ো পোস্টকে সোশ্যাল মিডিয়ায় রিঅ্যাকশন বা শেয়ারের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন, তাঁদের প্রত্যেককেই সমান অপরাধী হিসেবে গণ্য করে জামিন-অযোগ্য ধারায় আইনের মুখোমুখি দাঁড় করানো হবে।

একই সঙ্গে চোরবাগানের ঘটনায় কোনো আত্মতুষ্টির জায়গা না রেখে মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত দায়িত্বশীল ভঙ্গিতে প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটির কথা অকপটে স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন— সরকার এই ঘটনার সত্য আড়াল করতে চায় না, এবং সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের স্বার্থে রাজ্য পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিটের কাজে বিন্দুমাত্র রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করা হবে না।

চোরবাগানের অকালমৃত্যুর শোকের মাঝে দাঁড়িয়ে একদিকে যখন নিজের ত্রুটি স্বীকার করে তদন্তের নির্দেশ দিল নবান্ন, তেমনই অন্যপ্রান্তে সেই শোককে পুঁজি করে সমাজমাধ্যমে বিষবাষ্প ছড়ানো রোখা ও সাইবার সন্ত্রাস রুখতে শুভেন্দু অধিকারীর এই ‘জিরো টলারেন্স’ বার্তা রাজ্যজুড়ে এক কড়া সতর্কতার আবহ তৈরি করে দিল!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *