স্কুলে কি আবার ফিরতে চলেছে পাশ-ফেল প্রথা? দীর্ঘদিন ধরেই এই প্রশ্ন ঘুরছে শিক্ষামহলে। এবার সেই জল্পনার মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাশ-ফেল প্রথা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরাসরি কোনও চূড়ান্ত ঘোষণা না করলেও, তাঁর বক্তব্যে বিষয়টি নিয়ে বড় ইঙ্গিত মিলেছে।
পাশ-ফেল প্রথা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই বিষয়ে সিলেবাস কমিটির সুপারিশকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। জাতীয় শিক্ষানীতি বা NEP-র বিষয়টিও রয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট কমিটির রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত বলেই জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, শিক্ষা দফতরের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা শিক্ষিত এবং এই বিষয়ে অভিজ্ঞ। ফলে তাঁদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
তবে নিজের ব্যক্তিগত মতামত জানাতে গিয়ে পাশ-ফেল প্রথা ফিরিয়ে আনার পক্ষেই মত প্রকাশ করেন শুভেন্দু। তাঁর মতে, পড়ুয়াদের শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা দরকার। অর্থাৎ সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও সামনে না এলেও, মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত অবস্থান স্পষ্ট।
শুধু পাশ-ফেল নয়, স্কুলশিক্ষার আরও কয়েকটি বিষয় নিয়েও নিজের মতামত জানিয়েছেন তিনি। স্কুলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার পক্ষে সওয়াল করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি ভারতবর্ষের ইতিহাস এবং পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাস পড়ুয়াদের মধ্যে আরও বেশি করে তুলে ধরার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন।
এর পাশাপাশি স্কুলে ব্রতচারী, NSS এবং NCC-এর মতো কার্যক্রম ফেরানোর পক্ষেও মত দিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, পড়াশোনার পাশাপাশি পড়ুয়াদের সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক কার্যক্রমের সঙ্গেও যুক্ত করা প্রয়োজন।
স্কুলের প্রাথমিক স্তর থেকেই সাংস্কৃতিক শিক্ষার উপরও জোর দিয়েছেন শুভেন্দু। তবলা, হারমোনিয়াম, গিটার, সেতার, মৃদঙ্গ, খঞ্জনির মতো বাদ্যযন্ত্র শেখার সুযোগ স্কুলে থাকা দরকার বলে মত তাঁর। অর্থাৎ শুধু বইয়ের পড়াশোনা নয়, পড়ুয়াদের সামগ্রিক বিকাশের দিকেও নজর দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন তিনি।
পড়ুয়াদের মধ্যে রাষ্ট্রবাদী চিন্তাভাবনা গড়ে তোলার প্রসঙ্গেও বেশ কিছু প্রস্তাব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, প্রত্যেক বছর অন্তত তিন দিন বিতর্ক, কুইজ এবং তাৎক্ষণিক বক্তৃতার মতো অনুষ্ঠান স্কুলের সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের অংশ হওয়া উচিত।
এখানেই তিনি বর্তমান সময়ের কিছু রাজনৈতিক ও মতাদর্শগত প্রবণতার সমালোচনা করেন। কয়েকটি বিতর্কিত শব্দবন্ধ ব্যবহার করে তিনি বলেন, এই ধরনের চিন্তাভাবনার বিরুদ্ধে ছাত্রছাত্রীদের সচেতন করা প্রয়োজন।
তবে পাশ-ফেল প্রথা ফিরবে কি না, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। সিলেবাস কমিটির সুপারিশ এবং সংশ্লিষ্ট দফতরের সিদ্ধান্তের পরই বিষয়টি পরিষ্কার হবে।
ফলে আপাতত নজর সেই রিপোর্টের দিকেই। রাজ্য সরকার শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়, এখন সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
পাশ-ফেল প্রথা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত মত স্পষ্ট হলেও, পড়ুয়া ও অভিভাবকদের কাছে এখন মূল বিষয় হয়ে উঠেছে এর সম্ভাব্য প্রভাব। পরীক্ষা, মূল্যায়ন এবং পড়াশোনার চাপের ক্ষেত্রে নতুন কোনও কাঠামো এলে স্কুলশিক্ষায় তার প্রভাব পড়তে পারে।
তবে শুধু পাশ-ফেল নয়, মোবাইল ব্যবহার, ইতিহাস শিক্ষা এবং সহপাঠক্রমিক কার্যক্রম নিয়েও একাধিক প্রস্তাব সামনে এসেছে। আগামী দিনে এই ভাবনাগুলির মধ্যে কোনগুলি নীতিগত সিদ্ধান্তে জায়গা পায়, আর স্কুলের দৈনন্দিন শিক্ষাব্যবস্থায় তার প্রভাব কী হয়—সেদিকেই থাকবে নজর।