প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আক্রমণ করতে গিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের। বিহারের পটনায় একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় তাঁর মুখে শোনা যায়, ‘মোদী কা বাপ ভি জায়েগা’। আর এই মন্তব্য সামনে আসতেই তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। সরাসরি খাড়গেকে নিশানা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিজেপির আরও একাধিক নেতাও কংগ্রেস সভাপতির বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন।
রবিবার পটনায় ডঃ শ্রীকৃষ্ণ সিংহের ১৩৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন খাড়গে। সেই সময় দর্শকাসন থেকে এক ব্যক্তি মন্তব্য করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কোথাও যাবেন না। তার জবাব দিতে গিয়েই খাড়গে বলেন, ‘মোদীর বাবাও যাবেন’। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয় রাজনৈতিক বিতর্ক।
তবে শুধু ব্যক্তিগত আক্রমণেই বক্তব্য থামাননি কংগ্রেস সভাপতি। প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করে কালো টাকা ফেরানোর প্রতিশ্রুতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। খাড়গের অভিযোগ, ক্ষমতায় আসার আগে বিদেশে থাকা কালো টাকা দেশে ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। এমনকি সরকার গঠনের প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে এই টাকা ফেরানোর কথা বলা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। সেই টাকা কোথায়, তা জানতে চান কংগ্রেস সভাপতি।
এর পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের মতাদর্শ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন খাড়গে। তাঁর অভিযোগ, সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই সাম্প্রদায়িক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। এই ধরনের মতাদর্শ বজায় থাকলে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয় বলেও দাবি করেন তিনি।
খাড়গের মন্তব্যের পর সরাসরি পালটা আক্রমণ করেন অমিত শাহ। সমাজমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, পটনার মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রয়াত বাবাকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করেছেন কংগ্রেস সভাপতি। তাঁর দাবি, কংগ্রেস এর আগেও প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছে।
অমিত শাহ আরও অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক বিরোধিতার বদলে কংগ্রেস ব্যক্তিগত আক্রমণের পথ বেছে নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর পারিবারিক পরিচয় নিয়ে কটাক্ষ করার পুরনো প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। বিজেপির নির্বাচনী সাফল্য এবং কংগ্রেসের পরাজয়ের প্রসঙ্গ টেনে শাহ দাবি করেন, ধারাবাহিক নির্বাচনী ব্যর্থতায় কংগ্রেস হতাশ হয়ে পড়েছে।
শুধু অমিত শাহ নন, বিজেপি নেতা নীতিন নবীনও খাড়গের বক্তব্যের নিন্দা করেছেন। তাঁর দাবি, এই ধরনের মন্তব্য সংসদীয় শালীনতার পরিপন্থী। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু বিরোধিতারও একটি সীমা থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানও খাড়গের বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীকে নীতিগতভাবে আক্রমণ করার বদলে ব্যক্তিগত অপমানের পথ বেছে নিচ্ছে কংগ্রেস। গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে থাকা নেতাদের জনপরিসরে ভাষার শালীনতা বজায় রাখার দায়িত্ব রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ফলে খাড়গের একটি মন্তব্যকে ঘিরে নতুন করে মুখোমুখি কংগ্রেস ও বিজেপি। একদিকে প্রধানমন্ত্রীর নীতি ও প্রতিশ্রুতি নিয়ে কংগ্রেসের প্রশ্ন, অন্যদিকে ভাষার শালীনতা নিয়ে বিজেপির পালটা আক্রমণ। রাজনৈতিক সংঘাতের এই উত্তাপ আগামী দিনে আরও বাড়ে কি না, এখন নজর সেদিকেই।