চার রাজ্যের বিধান পরিষদ বা এমএলসি নির্বাচনে বড়সড় রাজনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়ল জাতীয় কংগ্রেস। উত্তরপ্রদেশ, বিহার, মহারাষ্ট্র এবং কর্নাটকের মোট ২৮টি আসনে অনুষ্ঠিত বিধান পরিষদের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে কার্যত ধুয়েমুছে সাফ হয়ে গেল হাত শিবির। ২৮টি আসনের মধ্যে একটি আসনেও জয় ছিনিয়ে আনতে পারেনি তারা। বিশেষ করে যে কর্নাটকে কংগ্রেসের পূর্ণাঙ্গ সরকার চলছে, সেই রাজ্যেই বিরোধী বিজেপি ও জনতা দল (সেকুলার) জোটের কাছে সমস্ত আসনে ধরাশায়ী হওয়া কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে এক চরম অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কর্নাটকের ৪টি আসনের মধ্যে ৩টিতে বিজেপি এবং ১টিতে জেডি(এস) জয়ী হয়ে এনডিএ-র অভূতপূর্ব দাপট প্রমাণ করেছে।
সবচেয়ে বড় চমক দেখা গিয়েছে কর্নাটকের বেঙ্গালুরু শিক্ষক কেন্দ্রটিতে। সেখানে জেডি(এস) প্রার্থী এ পি রঙ্গনাথ ১০,৮১০টি ভোট পেয়ে কংগ্রেসের বিদায়ী এমএলসি পুত্তান্নাকে ৯০৮ ভোটে পরাজিত করেন। শাসকদলের একজন বর্তমান সদস্যের এই পরাজয় এবং চারটি আসনেই কংগ্রেসের পর্যুদস্ত হওয়া সরাসরি প্রশ্ন তুলে দিয়েছে কর্ণাটকের সরকারের সাংগঠনিক শক্তি ও নীতি নিয়ে। শিক্ষক ও শিক্ষিত স্নাতক ভোটাররা যেভাবে সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে বিরোধী জোটের ওপর আস্থা প্রকাশ করেছেন, তা আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে, উত্তরপ্রদেশের ১১টি আসনের লড়াইয়ে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা আবর্তিত হয়েছে বিজেপি ও অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টির মধ্যে। এখানেও কংগ্রেসের ঝুলি ছিল পুরোপুরি শূন্য। বিজেপি মিরাট, বেরেলি-মোরাদাবাদ এবং রাজধানী লখনউয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছে। পালটা বারাণসী এবং আগ্রার মতো মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষক আসনে সমাজবাদী পার্টি নিজেদের জয় নিশ্চিত করে শক্ত লড়াই জারি রেখেছে।
বিহারে আবার তৈরি হয়েছে এক সম্পূর্ণ নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ। রাজ্যের শিক্ষক ও স্নাতক কেন্দ্রগুলির লড়াইয়ে রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) পাটনা শিক্ষক কেন্দ্র দখল করেছে এবং বিজেপি জয় পেয়েছে তিরহুত শিক্ষক আসনে। তবে গোটা দেশের নজর কেড়ে নিয়েছে প্রশান্ত কিশোরের দল ‘জন সুরজ পার্টি’। দ্বারভাঙা শিক্ষক নির্বাচনী এলাকায় কংগ্রেসের বর্ষীয়ান হেভিওয়েট এমএলসি তথা প্রাক্তন প্রদেশ সভাপতি মদন মোহন ঝাকে পরাজিত করে বিধান পরিষদে নিজেদের প্রথম ঐতিহাসিক বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছে জন সুরজ পার্টি। এছাড়া সারণ শিক্ষক কেন্দ্রে নির্দল প্রার্থী জয়ী হয়ে প্রথাগত দলগুলিকে কড়া চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন।
মহারাষ্ট্রের পাঁচটি আসনে ক্ষমতাসীন মহাযুতি এবং বিরোধী মহা বিকাশ আঘাড়ির মধ্যে তুমুল টানাপোড়েনের মধ্যেও গণনার প্রাথমিক ট্রেন্ড বলছে— বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোটই নিজেদের জমি শক্ত রেখে এগিয়ে রয়েছে।
যদিও এই নির্বাচন ছিল মূলত নথিভুক্ত স্নাতক এবং শিক্ষক প্রতিনিধিদের, যা কোনো রাজ্যের সাধারণ জনমতের হুবহু প্রতিফলন নাও হতে পারে। কিন্তু দেশের শিক্ষিত, পেশাদার ও সচেতন মধ্যবিত্ত ভোটারদের বড় অংশের এই স্পষ্ট বার্তা কংগ্রেসের জন্য নিঃসন্দেহে এক বড় ধাক্কা। বিশেষত কর্নাটকে বিরোধী জোটের এই ঐতিহাসিক ক্লিন সুইপ আগামী দিনে জাতীয় স্তরে বিরোধীদের ওপর চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিল!