BJP leader Nazia Ilahi Khan renounces Islam and returns to the Sanatan faith!

ইসলাম ত্যাগ করে সনাতনে ফিরলেন বিজেপি নেত্রী নাজিয়া ইলাহি খান !

“আমি আর কোনো জেহাদি কিংবা জঙ্গিদের বাড়ির মেয়ে এই পরিচয় বয়ে বেড়াতে রাজি নই!”— চরম বিস্ফোরক ও চাঁচাছোলা এই বক্তব্যের মধ্য দিয়েই ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে আনুষ্ঠানিকভাবে সনাতন হিন্দু ধর্মে প্রত্যাবর্তন করলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তথা বিজেপি নেত্রী নাজিয়া ইলাহি খান। মধ্যপ্রদেশের পবিত্র উজ্জয়িনীর রামঘাটে কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে বৈদিক শাস্ত্র ও আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে তিনি গ্রহণ করলেন সনাতন দীক্ষা। জন্মসূত্রে মুসলিম পরিবারে বেড়ে উঠলেও বহু বছর ধরেই নিজেকে প্রকাশ্যে সনাতনী হিসেবে দাবি করে আসা ভবানীপুরের এই বিতর্কিত নেত্রী অবশেষে মঙ্গলবার সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আইনি ও ধর্মীয়ভাবে নিজের সনাতন পরিচয়ে সিলমোহর দিলেন।

সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া রামঘাটের পূজা-অর্চনার ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, পুরোহিতদের উপস্থিতিতে মন্ত্রোচ্চারণ করে তিনি হিন্দু ধর্মের সমস্ত রীতি পালন করছেন। এই ধর্মীয় প্রত্যাবর্তনে তাঁর পাশে পিতৃতুল্য অভিভাবক হিসেবে এসে দাঁড়িয়েছেন উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের লোনি বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক নন্দকিশোর গুর্জর। নাজিয়া কৃতজ্ঞতার সাথে জানিয়েছেন— জীবনের এই কঠিন ও সংবেদনশীল সন্ধিক্ষণে বিধায়ক নন্দকিশোর গুর্জর তাঁকে নিজের কন্যার মর্যাদা দিয়ে নিজের কুল ও গোত্র প্রদান করেছেন। এই ধর্মান্তরকে কোনো নতুন ধর্ম গ্রহণ হিসেবে দেখতে নারাজ নাজিয়া; বরং একে ঐতিহাসিক ‘ঘর ওয়াপসি’ বা নিজের শিকড়ে ফিরে আসা বলেই অভিহিত করেছেন তিনি। তাঁর দাবি— কেবল তাঁর নিজের পরিবারই নয়, ভারতের প্রতিটি মুসলমানের আসল পূর্বপুরুষ ও শিকড় আসলে সনাতন সংস্কৃতির সঙ্গেই অঙ্গাঙ্গীভাবে যুক্ত।

তবে এই আনুষ্ঠানিক ধর্মান্তরের ঘোষণার পরই তাঁর জীবন নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে চরম বিতর্ক ও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। দিন দুয়েক আগেই তিনি বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছিলেন যে, পাকিস্তানের আইএসআই হ্যান্ডলারদের পক্ষ থেকে তাঁকে লাগাতার প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। শুধু তিনিই নন, সেইসব হুমকি বার্তায় টার্গেট হিসেবে নাম জড়ানো হয়েছে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। ঘটনার ভয়াবহতা ও গুরুত্ব বিচার করে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দ্রুত হস্তক্ষেপ করে কলকাতায় নাজিয়ার নিরাপত্তা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

পেশায় আইনজীবী নাজিয়া ইলাহি খানের নাম অবশ্য বিতর্কের শিরোনামে আসা এই প্রথম নয়। কখনো রণবীর সিংয়ের নগ্ন ফটোশুটের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা, কখনো আবার মুম্বইয়ের একটি নামী অপটিক্যাল চেইনের শোরুমে ঢুকে তিলক বিতর্কের প্রতিবাদে জয় শ্রীরাম ধ্বনি দিয়ে কর্মীদের কপালে তিলক পরিয়ে দেওয়া— বারবার নিজের আগ্রাসী অবস্থান দেখিয়েছেন তিনি। অতীতে ভুয়ো আইনজীবী অভিযোগে গ্রেফতারি থেকে শুরু করে পরবর্তীকালে কলকাতা হাইকোর্ট ও দেশের শীর্ষ আদালত সুপ্রিম কোর্টে নিয়মিত প্র্যাকটিস— নানা উত্থান-পতনের সাক্ষী থেকেছেন তিনি।

বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার প্রভাবশালী পদে দায়িত্ব সামলানোর পর, পাকিস্তান থেকে আসা চরম হুমকিকে অগ্রাহ্য করে উজ্জয়িনীর পবিত্র ঘাটে দাঁড়িয়ে নাজিয়া ইলাহি খানের এই প্রকাশ্য ‘ঘর ওয়াপসি’ ও ইসলাম ত্যাগের বার্তা— জাতীয় রাজনীতি এবং ধর্মীয় বিতর্কের পারদকে এক ধাক্কায় যে চরম মাত্রায় পৌঁছে দিল, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *