বড় চোর জেলে যাবেই। ভাবছেন তো কবে? প্রশ্ন তুলে নিজেই তার উত্তর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে সভা থেকে নাম না করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে এমনই মন্তব্য করলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন করে জোর চর্চা।
বারুইপুরের সভায় শুভেন্দু অধিকারী বলেন, বড় চোর জেলে যাবেই, তাই চিন্তা করার প্রয়োজন নেই, ধৈর্য রাখতে হবে। কারও নাম সরাসরি না নিলেও, সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক তৃণমূল ঘনিষ্ঠ নেতা গ্রেফতার হওয়ার পর তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে গ্রেফতার হয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন এবং অজিত মাহাতো। সেই আবহেই শুভেন্দুর বক্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করার পাশাপাশি বাম ও তৃণমূলের সম্পর্ক নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি। শুভেন্দুর দাবি, বর্তমানে সিপিএম এবং তৃণমূলের মধ্যে রাজনৈতিক দূরত্ব অনেকটাই কমেছে। এই প্রসঙ্গে তিনি এম বেবি ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে চা খাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ব্যঙ্গ করেন।
জাতীয় রাজনীতিতে সাম্প্রতিক কয়েকটি ইস্যুতে তৃণমূল কংগ্রেস এবং সিপিএমের কিছু অংশের অবস্থান কাছাকাছি এসেছে বলেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। বিশেষ করে দিল্লিতে বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচি ও রাজনৈতিক ইস্যুতে দুই দলের নেতাদের অবস্থান নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটেই শুভেন্দুর এই আক্রমণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এর পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, সাহস থাকলে লড়াই হোক, আবারও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোর দাবি করেন তিনি। কলকাতার বদলে দিল্লিমুখী রাজনীতির প্রসঙ্গ তুলেও তৃণমূল নেতৃত্বকে কটাক্ষ করেন শুভেন্দু।
এদিনের সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক বক্তব্যেরও জবাব দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। বিশেষ করে ডিজে বা শব্দদূষণ সংক্রান্ত সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে নাম না করে অভিষেককে আক্রমণ করেন শুভেন্দু। অভিষেক সম্প্রতি রাজ্যের গণতান্ত্রিক পরিবেশ এবং নির্বাচন নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছিলেন। পাশাপাশি পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের ভূমিকা নিয়েও সরব হয়েছিলেন তিনি।
সেই বক্তব্যের পাল্টা রাজনৈতিক জবাব হিসেবেই শুভেন্দুর এদিনের মন্তব্য সামনে এসেছে। অর্থাৎ, দক্ষিণ ২৪ পরগনার সভা থেকেই তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে একাধিক ইস্যুতে নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী।
তবে বড় চোর বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে, তা শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে বলেননি। ফলে তাঁর মন্তব্যের রাজনৈতিক ইঙ্গিত নিয়েই এখন শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। সাম্প্রতিক গ্রেফতারি, দুর্নীতির অভিযোগ এবং তৃণমূল-বিরোধী রাজনৈতিক আক্রমণের আবহে এই মন্তব্য রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ বাড়াল বলেই মনে করা হচ্ছে।
‘বড় চোর’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে, তা স্পষ্ট না হলেও শুভেন্দুর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক জল্পনা তুঙ্গে। আগামী দিনে এই ইঙ্গিতের পর রাজ্য রাজনীতিতে কোনও নতুন পদক্ষেপ বা পাল্টা প্রতিক্রিয়া সামনে আসে কি না, এখন নজর সেদিকেই।