রাজনৈতিক বিতর্কের এক অন্যতম নাম হয়ে উঠেছেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। ফের একবার অমিত শাহ-কে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে শিরোনামে উঠে এলেন তিনি। ইতিমধ্যেই তার বিরুদ্ধে কৃষ্ণনগরের কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে স্থানীয় বাসিন্দা তথা নদিয়া উত্তর সাংগঠনিক জেলার বিজেপি মুখপাত্র সন্দীপ মজুমদার। দিন কয়েক আগে নদিয়ার একটি অনুষ্ঠানে অনুপ্রবেশ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন মহুয়া। সেই সময়েই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘আমার তাদের কাছে সোজাসাপটা একটাই প্রশ্ন। শুধু ঘুসপেটিয়া বললেই হবে না, দেশের সীমান্ত রক্ষা করার দায়িত্বও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের। আর সেটা অমিত শাহের অধীনে। এদিক প্রধানমন্ত্রী ১৫ই অগস্ট লালকেল্লা থেকে বললেন, ঘুসপেট হচ্ছে, দেশের ডেমোগ্রাফি বদলাচ্ছে। তখন প্রথম সারিতে বসে অমিত শাহ শুধু হাসছিলেন আর হাততালি দিচ্ছিলেন।’
সাংসদ আরও বলেন, ‘যদি দেশের সীমান্ত রক্ষা করার কেউ না থাকে, প্রতিদিন লাখ লাখ লোক অনুপ্রবেশ করে আমাদের মা-বোনেদের দিকে চোখ তুলে তাকিয়ে থাকে, আমাদের জমি কেড়ে নেয়, তাহলে আগে অমিত শাহ-র মাথা কে*টে টেবিলে রাখা উচিত। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের সীমান্ত রক্ষা করতে পারে না, এদিকে প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলছেন বাইরে থেকে লোক আসছে। তাহলে ভুলটা কার? ভুলটা আপনাদের না আমাদের?’ আর এহেন মন্তব্যের পরই সরগরম হয়ে ওঠে রাজনৈতিক মহল। এক প্রকার ক্ষেপে লাল হয়ে যায় বিরোধী দলের হাই প্রোফাইল নেতা-মন্ত্রীরা। ফলে একের পর এক কটাক্ষের তীরে বিঁধতে শুরু করা হয় বাংলার শাসক দলের এই সাংসদ-কে।
এদিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে লক্ষ্য করে এমন কুরুচিকর মন্তব্য করার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ উগরে দেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি নিজের এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, অমিত শাহের বিরুদ্ধে মহুয়া মৈত্রের মন্তব্য নিন্দনীয় এবং ক্ষমার অযোগ্য। তৃণমূল কংগ্রেসের এই অশালীন মন্তব্য গোটা দেশের প্রতি অপমান এবং এর জন্য দেশবাসীর কাছে তার ক্ষমা চাওয়া উচিত। অন্যদিকে, মহুয়া মৈত্রের এমন মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘‘আমি ভিডিওটি দেখেছি এবং ওই ভিডিও নিজেই তার মানসিকতার উত্তর। এর বেশি আর কিছু বলার প্রয়োজন নেই।’’ যদিও ঘটনার দিনই মহুয়ার মন্তব্য প্রসঙ্গে বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এর তীব্র কটাক্ষ করে বলেছিলেন, “মহুয়াকে দেখলে বোঝা যায়, ইংরাজি জানলেই যে সঠিক শিক্ষা রয়েছে এমনটা নয়।” তবে, ভোটের আগে মহুয়া মৈত্র-র এমন দাবি রাজনৈতিক মহলে যে এক বড়ো রকমের চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে, তা বেশ বোঝাই যাচ্ছে