দিন কয়েক আগেই পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য ‘শ্রমশ্রী পোর্টাল’ চালু করেছে রাজ্য সরকার। এর সাহায্যে ভিন রাজ্য থেকে বাড়ি ফেরার খরচ, এমনকি রাজ্যে এসে যতদিন পর্যন্ত কাজ না জুটবে ততদিন পর্যন্ত প্রতি মাসে ৫০০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছিল। কিন্তু নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে যত সহজে এ কথা জানিয়েছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, বাস্তবে সে ছবিটা এতটাও পরিষ্কার নয়। গত ১লা সেপ্টেম্বর থেকে চালু হয়েছে ‘শ্রমশ্রী’ পোর্টাল। আর তারপর থেকেই একের পর এক সমস্যার মুখে পড়ছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। অভিযোগ, শ্রমিকরা আবেদন জমা দেওয়ার চেষ্টা করলে নাকি ওয়েবসাইট মাঝপথেই থেমে যাচ্ছে। ফলে আবেদন জমা করা যাচ্ছে না। এমনকি, ভিন রাজ্য থেকে ফেরা পরিযায়ী শ্রমিকদের কাছে সরকারের ৫০০০ টাকাও নাকি এখনও অধরাই থেকে গিয়েছে। যার জেরে বাড়ি ফিরেও সঙ্গী হচ্ছে অভাব।
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে রায়গঞ্জ ব্লকের এক পরিযায়ী শ্রমিক চৈতু মহম্মদ জানান, তিনি দিন ১৫ হয়েছে বাড়ি এসেছেন। শুনেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরিযায়ী বেকার শ্রমিকদের কাজ না পাওয়া পর্যন্ত ৫ হাজার টাকা দেবেন। কিন্তু এখন নাকি তিনি সেই প্রকল্পে আবেদন করতেই পারছেন না। তাই তার এখন ভরসা হয়ে উঠেছে দুয়ারে সরকার ক্যাম্প, হয়তো সেখান থেকেই এবার যদি আবেদন করতে পারেন তিনি। তবে, চৈতু মহম্মদ শুধু একাই নন, মালদহের শ্রমিক আমির শেখও এমনই অভিযোগ তুলেছেন। তার কথায়, সংসার মাত্র ৫০০০ টাকায় তো আর চলবে না। তার বদলে সরকারের চাকরি দেওয়া উচিত। অর্থাৎ, এই সকল শ্রমিকদের কথার মধ্যে এটা স্পষ্ট যে, তাদেরকে আর্থিক সহায়তা এবং সাময়িক ভরসা দিলেও মূল সমস্যার সমাধান হতে পারে না এই শ্রমশ্রী প্রকল্প।
আর এহেন বক্তব্য উঠে আসতেই কটাক্ষ করতে শুরু করেছেন বিরোধীরা। উত্তর দিনাজপুরের বিজেপি জেলা সভাপতি নিমাই কবিরাজ এ প্রসঙ্গে বলেছেন, রাজ্য সরকারের কাছে টাকা নেই, তা সত্বেও শুধু লোক দেখানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভাতা দিচ্ছে মমতার সরকার। এমনকি, এই ভাতাতে নাকি সিপিএমও সুর মিলিয়ে বলে দাবি তুলেছেন তিনি। তিনি এও বলেন, “পোর্টাল ঠিকভাবে চালু না হলে তৃণমূলের ভরসা হয়ে উঠবে আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান, ফলে সেখান থেকেই পরিযায়ী শ্রমিকদের আবেদন করতে হবে। অর্থাৎ, গোটাটাই পরিকল্পিত।” যদিও উত্তর দিনাজপুরের ডেপুটি লেবার কমিশনার রথিন সেন জানিয়েছেন যে, এই পোর্টাল এখনও টেস্টিং পর্যায়ে থাকায় ডেভেলপমেন্টের কাজ চলছে। তাই আবেদন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা আপাতত দেখা যাচ্ছে, কিন্তু খুব শীঘ্রই এই সমস্যা সমাধান করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি