Mamata will go to jail the moment the elections

নির্বাচন শেষ হলেই জেলে ঢুকবেন মমতা! ব্রিগেড মঞ্চ থেকে ভবিষ্যৎবাণী মোদির

বাংলায় ভোটের দামামা বেজে গিয়েছে। সেই আবহে শনিবার কলকাতায় এক বড় জনসভা সেরেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর তাতেই সেজে উঠেছিল গোটা কলকাতা-সহ পশ্চিমবঙ্গ। এদিন প্রধানমন্ত্রীর সভা থেকেও ধেয়ে এসেছে একের পর এক তীর্যক মন্তব্য। যেখানে লাগাতার তুলোধোনা করা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীকে। আসলে SIR ধর্নামঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, বিজেপি অপ-প্রচার চালাচ্ছে। আর এবার সে প্রসঙ্গেই তাকে নানা কটাক্ষ করা হয়েছে।

সেই মতো গত শনিবার প্রধানমন্ত্রীও এই একই বিষয়টিকে হাতিয়ার করেছেন। এদিনের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে তিনি সরাসরি কটাক্ষ করে বলেন, পশ্চিমবঙ্গে আজকাল সরাসরি হুমকি দেওয়ার চল রয়েছে। রাজ্য সরকার খোলখুলি বলছে, একটি বিশেষ সম্প্রদায় পদ্ম শিবিরকে পুরোপুরি খতম করে দেবে। যদিও সাংবিধানিক পদে থেকে এমনটা করা যায় বলেই নমো জানতেন বলে এদিন দাবি করেছেন। সেই সঙ্গে তার অভিযোগ, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী কোটি কোটি বাঙালিকে মুছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন! এমন কথা যদিও তার মুখে শোভা পায় না। এরপরই মোদী প্রশ্ন তোলেন, তৃণমূল সরকারের ইশারায় কারা কোটি কোটি মানুষকে শেষ করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। সেই সঙ্গে এই হুমকি প্রসঙ্গে নমো এও দাবি করেছেন যে, দেশের স্বার্থে ভোটের আগেই দুর্নীতিবাজ তৃণমূল নেতা-নেত্রীদের জেলে ঠাঁই পাওয়া উচিত। অর্থাৎ, মোদী এই মন্তব্য করে যে আসন্ন নির্বাচনে তৃণমূলকে আগাম সতর্ক করে দিলেন তা বোঝাই যাচ্ছে।

তবে, এই কথার পাল্টা জবাব দিয়েছে তৃণমূল-ও। ঘাস-ফুল শিবিরের প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এ প্রসঙ্গে বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সব ধর্ম, সব জাতির মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি মোদী-র মতো হিন্দুত্ববাদী নন। বিজেপি শুধু হিন্দুত্বের কথা বলেন। কারণ ওরা তো নাথুরাম গডসের লোক। আর এরপরই বিজেপির সর্বোচ্চ নেতৃত্বর বক্তব্য, একটি সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে যেভাবে ধর্নামঞ্চ থেকে হুমকি দেওয়া হয়েছে, তাতে ভোটের সময় এই একই ভাবে বিরোধীপক্ষকে আবারও যে হুমকি দেওয়া হবে না, সে বিষয়টি একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আর এই ভাবে যদি ভয়–ভীতির পরিবেশ রাজ্যে তৈরি করা হয়, তাহলে ভোট শান্তিপূর্ণভাবে হবে কি করে তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

অন্যদিকে, এ প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। তার কথায়, ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রী বাংলায় ভাষণ শুরু করেছেন এবং বাংলাতেই ভাষণ শেষ করেছেন। কিন্তু অবাক করা বিষয় হল—বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাংলায় কথা বলার অপরাধে পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে অত্যাচার করা হয়। এমনকি, বাংলাদেশে তাদের পুশ–ব্যাকও করা হয়েছে। না, এদিন শুধু তৃণমূলের হুমকি নিয়েই কথা হয়নি! বাংলার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মুখ খুলেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি এদিন দুর্নীতি ও কাটমানির বিষয় নিয়ে সরব হয়েছেন। রাজ্যের যুব সমাজের বিষয় নিয়েও সরকারকে তোপ দেগেছেন তিনি। যদিও ভোটের আগে রাজনৈতিক দলগুলির এই দোষারোপ খুবই সাধারণ বিষয়।

তাছাড়া, কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি থেকে বাংলার মানুষদের বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ নতুন নয়। কারণ বিজেপি নেতাদের দাবি, কেন্দ্রের উদ্যোগে বাংলায় কোনো উন্নয়ন হওয়ার জো নেই বর্তমান রাজ্য সরকারের দৌলতে। ফলত, বাংলা স্রেফ এখন অনুন্নয়নের রাজ্য হয়েই রয়ে গিয়েছে। আর এর জন্য যে বঙ্গ সরকার বদলের দরকার রয়েছে তাও তাদের মুখে বারংবার শোনা গিয়েছে। তবে, আদতে সরকার বদল হয়, নাকি এই একই সরকারের শাসনই দিন গুজরান করতে হয় বঙ্গবাসীদের তা তো ভোট বাক্সেই জানান দেবে আমজনতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *