বর্তমানে বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রায়শই রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠে চলেছে। বিরোধী দল বিজেপিও এ বিষয়টি নিয়ে বেশ সোচ্চার হয়েছে। দাবি উঠেছে, রাজ্য সরকারের এহেন উদাসীনতার কারণেই বঙ্গে দিনের পর দিন বাড়ছে অনুপ্রবেশকারীদের সংখ্যা। যা দেশের নিরাপত্তার জন্য এক হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। যদিও এখন দেশের বিএসএফ-রা নিজেদের তৎপরতায় স্থলপথে অনুপ্রবেশ অনেকটাই কমিয়ে নিয়ে এসেছে। কিন্তু জলপথে? সেক্ষেত্রে কীভাবে আটকাবে তারা? হ্যাঁ, এবার সে পথও বন্ধ করতে এক অভিনব পদ্ধতি অনুসরণ করতে চলেছে তারা।
চলতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার ভারতের এক সংবাদ সংস্থা দ্য ফেডারেল-এর একটি প্রতিবেদন থেকে জানা গিয়েছে, গত ৯ই ফেব্রুয়ারি বিএসএফের উচ্চ পর্যায়ের আধিকারিকদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আর সেখানেই এই অবাক করা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আসলে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দীর্ঘ নদী সীমান্ত, বিশেষ করে সুন্দরবন ও ইছামতি নদী সংলগ্ন এলাকায় অনুপ্রবেশ এবং চোরাচালান রুখতে মূলত এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে, মানুষের চোখ ফাঁকি দেওয়া সম্ভব হলেও, বন্য প্রাণীর সহজাত প্রবৃত্তি ফাঁকি দেওয়া অসম্ভব। তাই সীমান্তে নাকি ছাড়া হচ্ছে কয়েক শো কুমির এবং খাঁচা ভর্তি বিষধর সাপ।
যদিও গত কয়েক বছর ধরে প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতির ওপর ভর করেই সীমান্ত রক্ষা করে চলেছেন বিএসএফ আধিকারিকরা। কিন্ত এবার জলপথের নিরাপত্তা রুখতে তারা ভরসা রাখতে চলেছে মধ্যযুগীয় পদ্ধতির ওপর। বর্তমানে অবশ্য সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলিতে নজরদারি ড্রোন, জিপিএস-সমর্থিত ট্র্যাকিং ও লোকেটিং গ্যাজেট, থার্মাল ইমেজার-এর মতো উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। এমনকি, পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মিজোরামের মত রাজ্যগুলোতে সীমান্তের কিছু অংশ বিদ্যুতায়িত করা হয়েছে, যাতে মানুষের অবৈধ চলাচল ঠেকানো যায়। কিঞ্জ তাতে জলপথের অবাধ বিচরণ রোখা যাচ্ছিল না। তাই অবশেষে এই পন্থা অবলম্বন।
সংবাদ সংস্থার ওই প্রতিবেদন থেকে আরও জানা গিয়েছে, গত ২০শে মার্চ এই বিষয় নিয়েই বিএসএফ-এর নয়াদিল্লি সদর দপ্তরে শীর্ষ কর্মকর্তাদের আরেকটি বৈঠক আয়োজিত হয়েছিল। আর তা সম্পন্ন হতেই মাঠ পর্যায়ের সিনিয়র কর্মকর্তাদের কাছে বার্তা পাঠানো হয় এবং পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের সমস্ত সেক্টর হেডকোয়ার্টারকে সীমান্তের নদীপথের ফাঁকা জায়গাগুলোতে সরীসৃপ ব্যবহারের সম্ভাব্যতা যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। যদিও মাঠ পর্যায়ে সাপ ও কুমির ধরার কাজ কারা করবেন এবং সরকারের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কী পরিমাণ সরীসৃপ প্রয়োজন হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলেই শোনা যাচ্ছে। এমনকি, সীমান্ত রাজ্যগুলোর কোন নদীপথগুলিতে সাপ ও কুমির ছাড়া হবে, তাও জানা যায়নি।
অন্যদিকে, বিশেষজ্ঞ মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, সাপ বা কুমির কেউই চেনে না কে বাংলাদেশের আর কে ভারতীয়। তাছাড়া, বিএসএফ জওয়ানদের নিজেদের নিরাপত্তার জন্যও এমন সিদ্ধান্ত বেশ বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। পাশাপাশি এই খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যেও এক ধরনের ভয় বিরাজ করছে। বিশেষ করে যারা মাছ ধরে জীবন-যাপন করেন তারাও বেজায় আতঙ্কে রয়েছেন। তবে অনেকেই দাবি করছেন, এটি একটি মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ হতে পারে, যাতে সাধারণ মানুষ ভয়ের চোটে সীমান্ত পার হওয়ার কথা চিন্তা না করে। যদিও আসল সত্যিটা ঠিক কী, তা সময়ই জানা যাবে।