Tanay Shastri joins the BJP; the saffron camp sees 'politics' in the Bongaon 'Mimi' controversy.

তনয় শাস্ত্রী বিজেপিতে যোগদান করলেন; বনগাঁয়ের মিমি বিতর্কে ‘রাজনীতি’ খুঁজছে গেরুয়া শিবির

বাংলার রাজনীতিতে আবার এক নতুন মোড়! আরও একবার খবরের শিরোনামে তনয় শাস্ত্রী। এক লড়াকু যুবক, যাকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলার অপরাধে হেনস্থা হতে হয়েছিল, যেতে হয়েছিল জেলের অন্ধকুঠুরিতে । কিন্তু সত্যকে কি বেশিদিন আটকে রাখা যায়? না, যায় না। সমস্ত ষড়যন্ত্রের জাল ছিঁড়ে আজ তনয় শাস্ত্রী শামিল হলেন নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে চলা ‘পরিবর্তনের যজ্ঞে’। হাবড়ার বিজেপি প্রার্থী দেবদাস মণ্ডলের হাত ধরে আনুষ্ঠানিকভাবে পদ্ম শিবিরে যোগ দিলেন তনয়। হাবড়ার দেশবন্ধু পার্ক সাক্ষী থাকল এক নতুন সংকল্পের। আজকের এই ভিডিওতে আমরা জানব কেন তনয় শাস্ত্রীর বিজেপিতে আসা কেবল রাজনৈতিক যোগদান নয়, বরং এক চূড়ান্ত জবাব!

ফিরে যাওয়া যাক গত ২৫শে জানুয়ারির সেই ঘটনায়। বনগাঁর নয়া গোপালগঞ্জে একটি অনুষ্ঠান চলাকালীন অভিনেত্রী তথা তৎকালীন শাসক দলের সাংসদ মিমি চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ ওঠে। তনয় শাস্ত্রীর দাবি ছিল স্পষ্ট— অনুষ্ঠানের জন্য লক্ষ লক্ষ টাকা অগ্রিম নিলেও টালবাহানা করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত টাকা ফেরত চাওয়াই কি অপরাধ ছিল?
কিন্তু ক্ষমতার অহংকারে অন্ধ হয়ে শাসক ঘনিষ্ঠ অভিনেত্রী অভিযোগ করলেন হেনস্থার। এরপর পুলিশের ভূমিকাও ছিল প্রশ্নচিহ্নের মুখে। বিনা বিচারে তনয়কে জেলে পাঠানো হলো। কিন্তু সেখানেই শেষ হয়নি গল্প। জেল থেকে ফিরে তনয় বুক চিতিয়ে জানিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি মাথা নোয়াবেন না। এই লড়াইটা ছিল একজন সাধারণ ক্লাব কর্মকর্তার সঙ্গে এক ভিভিআইপি সাংসদের। আর সেই অসম লড়াইয়ে তনয়কে একা ছেড়ে দেয়নি বিজেপি।

তনয় শাস্ত্রী যখন বিপদে, তখন তাঁর পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল ভারতীয় জনতা পার্টি। বিশিষ্ট আইনজীবী এবং বিজেপি নেতা তরুণজ্যোতি তেওয়ারি কেবল আইনি লড়াই নয়, বরং তনয়ের নৈতিক শক্তির স্তম্ভ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। তরুণজ্যোতিবাবু নিজেই মিমির বিরুদ্ধে ২০ লক্ষ টাকার মানহানির মামলা এবং আইনি নোটিশ পাঠান। বিজেপি দেখিয়েছে যে, রাজ্যের যেকোনো সাধারণ মানুষ যদি শাসক দলের নেতাদের অন্যায়ের শিকার হয়, তবে পদ্ম শিবিরই তাদের একমাত্র ঢাল। তনয় শাস্ত্রীর জেল থেকে বেরিয়ে আসা এবং আজ বুক ফুলিয়ে গেরুয়া ঝাণ্ডা হাতে নেওয়া প্রমাণ করে যে, সত্যের পথ কন্টকাকীর্ণ হলেও শেষ হাসি সত্যই হাসে।

এদিন হাবড়ার দেশবন্ধু পার্কে ছিল বিজেপি প্রার্থী দেবদাস মণ্ডলের ‘বিজয় সংকল্প যাত্রা’। সেখানে হাজার হাজার পদ্ম কর্মীর উচ্ছ্বাসের মাঝে তনয় শাস্ত্রীকে বরণ করে নেওয়া হয়। তনয় শাস্ত্রীর যোগদানে হাবড়া সহ উত্তর ২৪ পরগনার বিজেপি কর্মীদের মধ্যে এক নতুন জোয়ার এসেছে।
তনয় এখন আর কেবল একজন ভুক্তভোগী যুবক নন, তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক জ্যান্ত প্রতীক। তাঁর এই অন্তর্ভুক্তি বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, ২০২৬-এর নির্বাচনে এই ‘লড়াকু মনোভাব’ই হবে বিজেপির তুরুপের তাস। যারা সাধারণ মানুষের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে, যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে জেলে পাঠায়— তাদের বিরুদ্ধে তনয় শাস্ত্রীর এই যোগদান এক বড় রাজনৈতিক আঘাত।

রাজনীতিতে কেউ শেষ কথা বলে না, কিন্তু সাধারণ মানুষের আবেগ আর হার না মানা জেদ শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়। তনয় শাস্ত্রীর বিজেপিতে যোগদান কেবল এক ব্যক্তির যোগদান নয়, এটি বাংলার অগণিত যুবকের কাছে একটি বার্তা— “ভয় পেয়ো না, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়লে পাশে বিজেপি আছে।” দেবদাস মণ্ডলের হাত ধরে শুরু হওয়া এই যাত্রা কি হাবড়ায় তৃণমূলের ভিত নাড়িয়ে দেবে? তনয় শাস্ত্রীর এই লড়াই কি মমতার তারকা প্রার্থীদের বিড়ম্বনা বাড়াবে? উত্তর দেবে সময়। তবে আজ এটুকু নিশ্চিত— সত্যের সূর্য উদিত হয়েছে, আর সেই আলোয় পদ্ম ফুল আরও প্রস্ফুটিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *