ভারতের রাজনীতিতে আবারও চর্চার কেন্দ্রে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। হনুমান জয়ন্তীর মঞ্চ থেকে তাঁর একটি মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। তিনি কি সত্যিই বললেন—হনুমানজিকে না মানলে ভারত ছেড়ে চলে যেতে হবে? নাকি এই বক্তব্যের পিছনে রয়েছে অন্য কোনও বার্তা? ঘটনাটি ঘটে হনুমান জয়ন্তী উপলক্ষে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে। এই দিনটি ভক্তদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র—কারণ এটি উৎসর্গ করা হয় বজরংবলীর-এর প্রতি। এই মঞ্চ থেকেই যোগী আদিত্যনাথ ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, ভারত এমন একটি দেশ, যেখানে দেব-দেবীর প্রতি শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস মানুষের জীবনের অংশ।
যোগীর কথায়, ভারতের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে যারা সম্মান করে না, তাদের এই দেশের মূল্যবোধ বোঝা উচিত, না হলে তাদের এখানে থাকার প্রয়োজন কী? তিনি বলেছেন, “ত্রেতাযুগে যখন বজরংবলী অর্থাৎ হনুমানজি ছিলেন, তখন পৃথিবীতে ইসলাম বলে কোনো ধর্মের অস্তিত্বই ছিল না। ভারতে শ্রী রামের অনুগত ভক্ত হনুমানজিকে যারা স্বীকার করতে চান না বা পছন্দ করেন না, তারা যেখানে খুশি চলে যেতে পারেন।” যোগী আদিত্যনাথের এই মন্তব্যের মূল কথা হলো ভারতের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের গভীরতা। হিন্দু পুরাণ ও রামায়ণ অনুসারে, ত্রেতাযুগে ভগবান শ্রীরামের সহচর হিসেবে হনুমানজি ছিলেন অসীম শক্তি, নিষ্ঠা ও ভক্তির প্রতীক। লঙ্কাদহন, সেতুবন্ধন, সীতা উদ্ধার প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়।
যোগীজি বলেছেন, এই হনুমানজির চরিত্র যুগ-যুগান্তর ধরে ভারতের আত্মার সঙ্গে জড়িত। ত্রেতাযুগ অনেক প্রাচীনকালের, যেখানে ইসলাম ধর্মের উদ্ভব হয়েছে অনেক পরে, সপ্তম শতাব্দীতে। মুখ্যমন্ত্রী আরও জোর দিয়ে বলেন, ভারতের মাটিতে হনুমানজির মতো দেবতাকে যারা অস্বীকার করেন, তাদের এখানে জোর করে থাকার কোনো প্রয়োজন নেই। এই বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ভারতের পরিচয় তার প্রাচীন ঐতিহ্যের উপর দাঁড়িয়ে আছে এবং কেউ যেন সেটাকে চ্যালেঞ্জ না করে। যোগীর এই মন্তব্যে ফের বিরোধীদের কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়েছে তাকে। বিরোধীরা সরাসরি তাকে আক্রমণ করে বলেছেন যোগী আদিত্যনাথ একজন মুখ্যমন্ত্রী তার কাছে সবাই সমান হবে এটাই স্বাভাবিক, কিন্তু তিনি প্রকাশ্যে মেরুকরণের বার্তা দিচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের বক্তব্যকে অনেকেই সরাসরি ধর্মীয় অবস্থান হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে বলছেন—এটি আসলে সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের বার্তা। সমর্থকদের দাবি যোগী ভারতের ঐতিহ্য রক্ষা করার কথাই বলেছেন। অন্যদিকে সমালোচকদের মতে এ ধরনের মন্তব্য দেশের বৈচিত্র্যের বিরুদ্ধে যেতে পারে। ভারত একটি বহু ধর্ম, বহু সংস্কৃতির দেশ সেখানে এমন বক্তব্য স্বাভাবিকভাবেই বিতর্ক তৈরি করে। রাজ্যে একের পর এক কড়া পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি। কখনও ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছেন অবৈধ মসজিদ। সমাজ বিরোধীদের এনকাউন্টার করার নির্দেশ দেন তিনি। সেই জনপ্রিয় মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ফের একবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।