One cannot simply join the BJP just because

‘দল বদলাতে চাইলেই বিজেপি-তে আসা যায় না’ সাফ জানালেন শুভেন্দু অধিকারী!

ভোট চলে এসেছে! আর এই আবহে দল বদলের ঘটনা খুবই স্বাভাবিক। তাই তো প্রায়শই গেরুয়া শিবিরের প্রার্থীদের প্রচারের ময়দানে যোগদানের ঘটনা নজরে পড়ে। তেমনই গত মঙ্গলবার শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে গেরুয়া পতাকা হাতে তুলে নিলেন তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য থেকে শুরু করে মন্ডল নেতারা। এক কথায়, বড়সড় ভাঙন ঘটলো শাসক দলের। আর এহেন ঘটনায় যে তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তির দেখা মিলেছে, তা বেশ বোঝাই যাচ্ছে। এদিন ক্যানিং ও গোসাবা এলাকায় ছিল বিরোধী দলনেতার জনসভা। আর সেখানেই তিনি এই বিপুল সংখ্যক মানুষের হাতে তুলে দেন পদ্ম শিবিরের দলীয় পতাকা। সেই সঙ্গে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে শাসক দলকে তুলোধনা করতেও ছাড়েননি নন্দীগ্রামের বিধায়ক।

এদিন বিরোধী দলনেতা দৃঢ় গলায় বলেন, তৃণমূলের অত্যাচার আর সহ্য করতে পারছেন না ক্যানিং-গোসাবার মানুষেরা। কারণ যারা এক সময় এই দল প্রতিষ্ঠা করতে নিজেদের উজাড় করে দিয়েছিলেন, আজ তারাই ব্রাত্য। এরপরই সুব্রত বক্সী-র প্রসঙ্গ তুলে ধরে শুভেন্দু বলেন, তিনি অনিচ্ছায় অবসরে রয়েছেন। তার দল তাকে জোর করে নির্বাসনে পাঠিয়েছে। সেই সঙ্গে তার মুখে শোনা যায় খগেশ্বর রায়, রফিকুল রহমান ও তপন চট্টোপাধ্যায়দের নাম-ও। পাশাপাশি তিনি দলের পুরনোদের বদলে বাবুল সুপ্রিয়, কোয়েল মল্লিক, মেনকা গুরুস্বামীদের মতো ‘আনাড়ি’দের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও এদিন অভিযোগ তোলেন। না, এখানেই তার অভিযোগের লিস্ট শেষ হয়নি! বরং, এরপর এমন এক দাবি করেন বিরোধী দলনেতা, যা কার্যত সকলকে অবাক করে দিয়েছে। ক্যানিং-গোসাবার এই জনসভা মঞ্চে দাঁড়িয়ে নন্দীগ্রামের বিধায়ক অভিযোগ করেন, তৃণমূলের তরফে টিকিট দেওয়ার জন্য কারও কাছে ৬৫ লক্ষ, আবার কারও কাছে ১ থেকে ২ কোটি টাকা পর্যন্ত দাবি করা হয়েছিল। দুর্ভাগ্য, যারা টাকা দিতে পারেননি তারা টিকিট-ও পাননি। আর এই ঘটনার জন্যই দলের নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ফলত, দল ত্যাগের ঘটনা অহরহ ঘটছে।

এদিকে বিজেপি-তে যোগদানকারী এক নতুন সদস্য জানিয়েছেন, শাসকদলের অন্দরে অভ্যন্তরীণ কোন্দল, দুর্নীতি, স্বজনপোষণ এতটাই বেড়ে গিয়েছে যে সেখানে তাদের দমবন্ধ হয়ে আসছিল। তারা সাধারণ মানুষের হয়ে কোনো কাজ করার সুযোগ পাচ্ছিলেন না বলেও জানিয়েছেন। আর তাই এবার এলাকায় তৃণমূলের ‘তোলাবাজি’ আর ‘ভয়ের রাজনীতি’-র বিরুদ্ধে দাঁড়াতে এবং বিজেপির উন্নয়নমূলক রাজনীতিতে আস্থা রাখতেই তারা দল বদল করছেন বলে জানিয়েছেন। এরপরই গেরুয়া শিবিরে কারা যোগদান করতে পারেন সে কথাও জানিয়ে দেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, যে সকল সদস্যের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, চুরি বা ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ নেই, তাদেরকেই সংগঠনের সঙ্গে পরামর্শ করে পদ্ম শিবির দলে নেয়। তবে, বর্তমানে দলের এহেন ভাঙন তৃণমূলের পতনের শুরু বলেই মনে করছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তার আশ্বাস, ২৬-এর ভোটে বিজেপির জয়ের রথ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু নয়, আর কেউই আটকাতে পারবে না। এবার বাংলায় সরকারের বদল ঘটবেই বলেও দাবি করেছেন তিনি। এ বিষয়ে আপনার কি মত?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *