উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ ২৩টি জেলায় ছড়িয়ে থাকা এই আসনগুলিতে ২০২১ বিধানসভা এবং ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে ফারাক ছিল মাত্র কয়েকশো থেকে ১৫ হাজার ভোট। কিছু ক্ষেত্রে এই ব্যবধান নেমে এসেছিল ১০০ ভোটের নিচে। মানে, এক একটা বুথ, এক একটা পাড়া হয়ে উঠতে পারে গেমচেঞ্জার। এই পরিস্থিতিতেই রাজনৈতিক দাবিদাওয়া তুঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করছেন, তৃণমূল কংগ্রেস আগের চেয়ে বেশি আসন জিতে চতুর্থবার সরকার গড়বে। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘোষণা করেছেন, বিজেপির টার্গেট ১৭০ আসন। তবে সংখ্যার হিসাব বলছে, লড়াইটা এতটা সহজ নয়।
তবে বাস্তব বলছে অন্য কথা। ২০২১ সালে তৃণমূল পেয়েছিল প্রায় ৪৮.৪৬ শতাংশ ভোট—সংখ্যায় প্রায় ২ কোটি ৯০ লক্ষ। বিজেপি পেয়েছিল ৩৭.৯৮ শতাংশ—প্রায় ২ কোটি ২৯ লক্ষ ভোট। ২০২১ সালে তৃণমূল পেয়েছিল প্রায় ৪৮ শতাংশ ভোট, বিজেপি পেয়েছিল প্রায় ৩৮ শতাংশ। ২০২৪ লোকসভায় ব্যবধান আরও কমেছে। মানে মাত্র ২ থেকে ৩ শতাংশ ভোটের হেরফেরেই এই ১০০টি আসনে ফলাফল উল্টে যেতে পারে। আর এই সমীকরণে সবচেয়ে বড় টুইস্ট ভোটার তালিকার পরিবর্তন। বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR-এর ফলে প্রায় ৯১ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে ভোটার তালিকা থেকে। নির্বাচন কমিশন বলছে, মৃত, ডুপ্লিকেট ও স্থানান্তরিত ভোটারদের নামই বাদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এই বদল কার পক্ষে যাবে?
সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে। মুর্শিদাবাদ, মালদা, উত্তর দিনাজপুর এবং ২৪ পরগনা। তার সঙ্গে কলকাতা, হাওড়া, হুগলির মতো শহুরে এলাকাও এবার হয়ে উঠতে পারে ‘কিংমেকার’। ২০২১ সালে বৃহত্তর কলকাতার ১২৬টি আসনের মধ্যে তৃণমূল জিতেছিল ১০৭টি, বিজেপি পেয়েছিল মাত্র ১৮টি আসন। কিন্তু এবার সেই সমীকরণ কতটা বদলাবে, সেটাই বড় প্রশ্ন। যেখানে তৃণমূলের দাপট ছিল, সেখানেই এবার চ্যালেঞ্জ আরও কড়া। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন এই নির্বাচন আসলে মাইক্রো ব্যাটল। বড় সভা নয়, ছোট ছোট ভোটবাক্সই ঠিক করবে বড় ফলাফল। একটা পরিবার, একটা পাড়া, একটা বুথ সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এখনই বলা যাবে না বাংলার সিংহাসন কার দখলে যেতে চলেছে। তবে লড়াই যে হাড্ডাহাড্ডি হবে তা বলাই বাহুল্য। শেষ কথা বলবে জনতা জনার্দন।