Now multiple FIRs have been filed against Mamata.

এবার মমতার নামে দায়ের হলো একাধিক FIR! সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীর কড়া চালে বিড়ম্বনায় বাংলার মুখ্যমন্ত্রী!

বাংলায় এখন ভোটের হাওয়া বইছে। আর এই আবহে ভোট প্রচারে ভীষণ ব্যস্ত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা ভবানীপুরের তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি এমনই এক প্রচার সভায় তৃণমূল সুপ্রিমো-কে বলতে শোনা গিয়েছিল, প্রায় ২০০ গাড়ি CRPF-দের উত্তরপ্রদেশ থেকে অযোধ্যা হয়ে বাংলায় পাঠানো হচ্ছে এ রাজ্যের মানুষকে অত্যাচার করার জন্য। তিনি আরও বলেন, এতে যেন ভোটাররা ভয় না পান। এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর এহেন বক্তব্য নিয়ে সরব হয়েছেন আইনজীবী বিনীত জিন্দল। তিনি অভিযোগ করেছেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের এই ধরনের বক্তব্য মানসিকভাবে আঘাত করে। সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে তাদের বিরুদ্ধে উস্কানি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সম্প্রতি দেশের উচ্চ আদালতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এহেন মন্তব্য নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের ডিজিপি এবং নির্বাচন কমিশনের কাছে আইনজীবী বিনীত জিন্দল একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। যেখানে মুখ্যমন্ত্রীর এ যাবতীয় বক্তব্যকে “সেনাবাহিনীর জওয়ানদের অপমানজনক” ও “হিংসা উস্কানিমূলক” বলে অভিহিত করেছেন বলে জানা গিয়েছে। তার মতে, এই বক্তব্যের জন্য ভারতীয় ন্যায় সংহিতা তথা BNS-এর বিভিন্ন ধারায় FIR দায়ের করা উচিত। এমনকি, তিনি তার অভিযোগপত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বক্তব্য BNS-এর ১৫২, ১৯২, ১৯৬ ও ৩৫৩ ধারার অধীনে অপরাধের আওতায় পড়ে সে কথা উল্লেখও করেছেন। জানিয়ে রাখা ভালো, এই ধারাগুলিতে হিংসা, জনশৃঙ্খলা ভঙ্গ, রাষ্ট্রদ্রোহ, শত্রুতা সৃষ্টি উস্কানিমূলকের মতো অভিযোগ আনা যায়।

লিখিত অভিযোগে দায়ের করার পাশাপাশি আইনজীবীর দাবি, মডেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কোড অফ কন্ডাক্ট লঙ্ঘনের অপরাধে নির্বাচন কমিশনের উচিত তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া। কারণ নির্বাচনী প্রচারে রাজনৈতিকভাবে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে আক্রমণ করা আসলে নির্বাচনী নিয়মের পরিপন্থী। এদিকে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীর এহেন অভিযোগের পর রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট উত্তেজনা বেড়েছে। এ প্রসঙ্গে বিজেপি নেতারাও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এহেন বক্তব্য নিয়ে সমালোচনা শুরু করেছেন। যদিও তৃণমূলের তরফে এই বিষয়টিকে স্রেফ ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলেই আখ্যা দেওয়া হয়েছে। তবে বেশিরভাগ-ই দাবি করেছেন, তৃণমূল সুপ্রিমো মোটেই কেন্দ্রীয় বাহিনীকে অপমান করেননি। তার বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে রাজনৈতিক চক্রান্ত চালানো হচ্ছে।

বলা ভালো, মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এভাবে একাধিক ধারায় মামলার রুজু হওয়া রাজ্যের প্রশাসনিক ও আইনি লড়াইকে বর্তমানে এক নতুন মাত্রা দিয়েছে। একদিকে আইনজীবীর এই পদক্ষেপকে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে, আর অন্যদিকে শাসকদলের পক্ষ থেকে এটিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবেই গণ্য করা হচ্ছে। তবে, এই আইনি লড়াইয়ের ফলাফল যাই হোক না কেন, এটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার গুরুত্বকে ফের সামনে নিয়ে এসেছে। যদিও শেষ পর্যন্ত আদালতের পর্যবেক্ষণের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে এই অভিযোগের সত্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু, যা আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের কোনো প্রভাব ফেলতে পারে বলেও মনে করছেন অনেকে-ই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *