পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ফের জোরদার লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিজেপি। তবে এবার কৌশল একটু আলাদা। সব আসনে সমান জোর না দিয়ে, বেছে বেছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আসনে বিশেষ নজর দিচ্ছে গেরুয়া শিবির। গত বিধানসভা নির্বাচনে যে ৭৭টি আসনে বিজেপি জয় পেয়েছিল, সেই আসনগুলিকে ধরে রাখাই তাদের প্রথম লক্ষ্য। পাশাপাশি যেসব আসনে খুব অল্প ভোটের ব্যবধানে হেরে গিয়েছিল, সেগুলিকেও এবার টার্গেট করা হচ্ছে। এই আসনগুলিতে জয়ের সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করছে দল। শুধু উত্তরবঙ্গ নয়, এবার দক্ষিণবঙ্গেও বিশেষ কৌশল নিচ্ছে বিজেপি। বিশ্লেষকরা বলছেন তৃণমূল কংগ্রেসকে টক্কর দিতে দক্ষিণের একাধিক আসন বেছে নিয়ে সেখানে সংগঠন মজবুত করার চেষ্টা চলছে। এতে লড়াই আরও জমে উঠতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
এছাড়া বিজেপির নজর রয়েছে এমন সব আসনের দিকে, যেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব তীব্র। দলের ভেতরের এই দ্বন্দ্বকে সুযোগ হিসেবে দেখতে চাইছে বিজেপি। তারা আশা করছে, এই কারণে তৃণমূলের কিছু ভোট তাদের দিকে আসতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন গেরুয়া শিবির তৃণমূল বিরোধী ভোট একজোট করার চেষ্টা চলছে। এতে বিরোধী ভোট ভাগ না হয়ে একদিকে আসার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই কৌশল বিজেপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ, সব জায়গায় সমান শক্তি না থাকলেও নির্দিষ্ট আসনে জোর দিলে ফল ভালো হতে পারে।অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসও এই পরিস্থিতি বুঝে নিজেদের সংগঠন আরও শক্ত করার চেষ্টা করছে। গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কমিয়ে ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখাই তাদের বড় চ্যালেঞ্জ।
আসন্ন নির্বাচনে কৌশলগত লড়াই আরও তীব্র হতে চলেছে। বিজেপির এই নতুন পরিকল্পনা কতটা সফল হবে, তা জানার জন্য এখন অপেক্ষা ভোটের ফলাফলের।
এদিকে এবারের বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে বিজেপি নিজেদের সংগঠন অনেকটাই শক্তিশালী করার চেষ্টা করেছে। গত কয়েক বছরে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় দলীয় কর্মীসংখ্যা বেড়েছে। বুথস্তরেও সংগঠন গড়ে তুলতে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। আগের তুলনায় এখন অনেক বেশি সক্রিয়ভাবে কাজ করছে দলের কর্মীরা। ফলে ভোটের ময়দানে বিজেপি আগের চেয়ে বেশি প্রস্তুত বলেই মনে করা হচ্ছে।
পাশাপাশি আগের নির্বাচনে যে আসনগুলিতে জয় পেয়েছিল, সেগুলিকে ধরে রাখার চেষ্টা করছে বিজেপি। শুধু তাই নয়, যেসব আসনে অল্প ব্যবধানে হার হয়েছিল, সেগুলিকেও টার্গেট করা হয়েছে। এই আসনগুলিতে বাড়তি প্রচার এবং জনসংযোগ বাড়ানো হচ্ছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্বও এই আসনগুলিতে বেশি করে নজর দিচ্ছেন। এতে করে জয়ের সম্ভাবনা বাড়াতে চাইছে বিজেপি।
অন্যদিকে, রাজ্যের প্রধান প্রতিপক্ষ তৃণমূলের বিরুদ্ধে আরও আক্রমণাত্মক প্রচার চালাচ্ছে বিজেপি। বিভিন্ন ইস্যুতে তৃণমূলকে চাপে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকেও রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগাতে চাইছে গেরুয়া শিবির। এর ফলে বিরোধী ভোট নিজেদের দিকে টানার পরিকল্পনা করছে তারা।
সব মিলিয়ে বলা যায়, এবারের ভোটে বিজেপি আগের চেয়ে অনেক বেশি সংগঠিত এবং পরিকল্পনামাফিক এগোচ্ছে। যদিও চূড়ান্ত ফল নির্ভর করবে ভোটের দিনের পরিস্থিতির উপর।