ভোটের আগেই বাংলার নির্বাচন নিয়ে তৎপর হয়ে উঠেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। মোটা সংখ্যক বাহিনী ইতিমধ্যেই মোতায়েন হয়েছে রাজ্যে। মূলত নির্বিঘ্নে শান্তিপূর্ণ ভোট করতেই এমন প্রচেষ্টা কমিশনের। বলে রাখা ভালো, ২৬-এর নির্বাচনে দু’দফায় ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। যার মধ্যে প্রথম দফার ভোটের জন্যই রাজ্যে মোতায়েন হয়েছে বিশাল বাহিনী। কমিশন সূত্রে খবর, আগামী ২৩শে এপ্রিল রাজ্যের উত্তরবঙ্গের ১৫২টি আসনের জন্য মোতায়েন হয়েছে মোট ২,৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। যার মধ্যে রয়েছে উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদহ।
কমিশনের তরফে পাওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, নির্বাচনের প্রথম দফায় সবচেয়ে বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে মুর্শিদাবাদ জেলায়। এই জেলায় মোট ৩১৬ কোম্পানি বাহিনী থাকবে, যার মধ্যে মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ থাকবে ২৪০ কোম্পানি ও জঙ্গিপুর পুলিশ থাকবে ৭৬ কোম্পানি। এছাড়া, দার্জিলিং ও ইসলামপুরের প্রতিটি কেন্দ্রে ৬১ কোম্পানি, কালিম্পং-এ ২১, শিলিগুড়িতে ৪৪, জলপাইগুড়িতে ৯২, আলিপুরদুয়ারে ৭২ কোচবিহারে ১৪৬, মালদহে ১৭২, দক্ষিণ দিনাজপুরে ৮৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মজুত থাকবে। অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুরে ২৭৩, পশ্চিম মেদিনীপুরে ২৭১, বাঁকুড়ায় ১৯৩, বীরভূমে ১৭৬, পুরুলিয়ায় ১৫১, আসানসোল ও দুর্গাপুরে ১২৫ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের নির্বাচন পরবর্তী হিংসা এবং সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনগুলির অশান্তির কথা মাথায় রেখেই কমিশনের এই কড়া অবস্থান। আসলে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে রুট মার্চ করানো হচ্ছে যাতে সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন। যদিও শাসক দল তৃণমূল এবং বিরোধী দল বিজেপি—উভয় পক্ষই এই মোতায়েন নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন। অবশ্য বিরোধীরা একে স্বাগত জানিয়েছে, কিন্তু রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা না করে বাহিনীর সংখ্যা বাড়ানো নিয়ে তৃণমূলের মধ্যে অসন্তোষ দেখা গেছে। তবে, প্রথম দফার ভোট যে এক বিশাল পুলিশি ঘেরাটোপে হতে চলেছে, তা এর থেকে বেশ স্পষ্ট। তাছাড়া, আগামী ২৩শে এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের ভাগ্য নির্ধারণের প্রথম ধাপ। তাই এই ২,৪০৭ কোম্পানি বাহিনী বাংলাকে একটি রক্তপাতহীন নির্বাচন উপহার দিতে পারে কিনা সেটাই এখন দেখার।
তবে এত কিছুর পরও প্রশ্ন থেকেই যায়, শুধুমাত্র বাহিনীর সংখ্যা বাড়িয়েই কি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ নির্বাচন সম্ভব? অতীতে দেখা গেছে, বুথের ভেতরে বাহিনী থাকলেও অনেক সময় বুথের বাইরে বা পাড়ার মোড়ে ভোটারদের আটকানোর অভিযোগ ওঠে। তাই এবারের চ্যালেঞ্জ শুধু কমিশনের নয়, চ্যালেঞ্জ জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ অফিসারদের জন্যও। কেন্দ্রীয় বাহিনীর এই বিশাল উপস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে তারা কতটা নিরপেক্ষভাবে ভোট পরিচালনা করতে পারেন, তার ওপর নির্ভর করছে গণতন্ত্রের জয়। সেই সঙ্গে এও মনে রাখতে হবে, গণতন্ত্রের আসল শক্তি কিন্তু কোনো বন্দুকের নল নয়, বরং আঙুলের ওই কালির দাগ। তাই বাহিনী তো কেবল পরিবেশ তৈরি করে দেবে, কিন্তু ভোট দেওয়ার দায়িত্ব আর অধিকার ভোটারের। তাই এবারের নির্বাচন হোক ভয়হীন এবং উৎসবের মেজাজে।