জলপাইগুড়ির এই বড় ঘোষণা কি ঘুম ওড়াতে চলেছে ঘাসফুল শিবিরের?
কী বলছে কামতাপুর স্টেট ডিমান্ড কাউন্সিল?
২৬-এর নির্বাচন একেবারে দোরগোড়ায় চলে এসেছে। আর এই হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের আগেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বাংলার রাজনীতি। বিশেষ করে এবার উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণ আমূল বদলে যেতে চলেছে। কারণ কামতাপুর স্টেট ডিমান্ড কাউন্সিল জানিয়েছে, তারা বিজেপিকে-ই সমর্থন করবে। অবশ্য তাদের তরফে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির টিকিটে প্রার্থী দিয়েছে। যদিও এমনটা জানানোর কারণ অবশ্য অমিত শাহের আশ্বাস। হ্যাঁ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামতাপুরী ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফশিলে অন্তর্ভুক্ত করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। আর তারপরই ওই দলের তরফে জানানো হয়েছে তাদের প্রার্থীরা পদ্ম শিবিরের হয়ে প্রচার করতে ভোট ময়দানে নামতে চলেছে।
চলতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার একটি সাংবাদিক বৈঠক করে এমনটাই জানিয়েছেন কামতাপুর স্টেট ডিমান্ড কাউন্সিল সংগঠনের সভাপতি তপতী রায় মল্লিক। তিনি জানান, তাদের সংগঠন বিজেপিকে সমর্থন জানাতে রাজি হয়েছে কেএলও চেয়ারম্যান জীবন সিংহের সঙ্গে ভারতের সরকারের যে শান্তি আলোচনা হওয়ার কারণে। তারা চান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহের হাত যাতে শক্ত হয়ে ওঠে বাংলায়। পাশাপাশি সংগঠনের সভাপতি আরও জানান যে, তাদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, এবার তাদের মাতৃভাষা স্বীকৃতি পাবে। তাদের সকল দাবি পূরণ হবে। সম্প্রতি কেএলও চেয়ারম্যানের সঙ্গে তিনি নিজে আলোচনায় বসেছিলেন বলেও জানিয়েছেন তপতী রায় মল্লিক। আর সেই বৈঠক শেষেই এদিন বিজেপিকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন তিনি।
এর পাশাপাশি উত্তরবঙ্গে রাজবংশী ভোট একটা বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছে। যদিও আপাতত এই ভোটকে টানতে সব রাজনৈতিক দলগুলিই প্রাণপণ চেষ্টা করছে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, এবারের নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন বিধানসভা মিলিয়ে কামতাপুর স্টেট ডিমান্ড কাউন্সিল মোট ৪০ জন প্রার্থী দিয়েছে। কিন্তু বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই সংগঠনের তরফে সাংবাদিক বৈঠক করে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তারা বিজেপি-কেই সমর্থন করবে। এমনকি, নিজেদের দলের প্রার্থীদের প্রচার তারা বন্ধ করে পদ্ম শিবিরের প্রার্থীদের সমর্থনে প্রচার করবে বলেও জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে শাহ নিজের মত প্রকাশ করে বলেছেন, রাজবংশী ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফশিলে অন্তর্ভুক্ত করার আশ্বাস তিনি দিয়েছেন। তাছাড়া বিজেপির সংকল্পপত্র অনুযায়ী, অষ্টম তফশিলে কুড়মালি ও রাজবংশী ভাষাকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া রয়েছে।
বলে রাখা ভালো, উত্তরবঙ্গের প্রায় ৪০টি আসনে জয়-পরাজয় নির্ধারণ করেন রাজবংশী এবং কামতাপুরী ভোটাররা। এতদিন কামতাপুর স্টেট ডিমান্ড কাউন্সিল আলাদা লড়াই করার কথা ভেবেছিল, যা হয়তো ভোট কাটাকাটির সমীকরণে বিজেপিকে কিছুটা চাপে রাখতে পারত। কিন্তু এখন সেই ৪০ জন প্রার্থীর শক্তি বিজেপির পক্ষে যোগ দিচ্ছে, ফলে সমীকরণটা ‘দুই আর দুইয়ে চার’ নয়, বরং অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ফলে উত্তরবঙ্গের মাটি এবার তৃণমূলের জন্য বেশ কঠিন হতে চলেছে বলে বোঝাই যাচ্ছে। না, তৃণমূল কংগ্রেসও এক্ষেত্রে হাত গুটিয়ে বসে নেই। তারা উন্নয়নের কার্ড খেলছে, রাজবংশী একাডেমি থেকে শুরু করে পঞ্চানন বর্মার মূর্তি—সবকিছু দিয়েই তারা মানুষের আবেগকে ছোঁয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু আজকের এই ঘোষণার পর ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে যে নতুন করে রণকৌশল সাজানোর তাগিদ বাড়বে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে, কামতাপুরী আবেগ বনাম উন্নয়নের লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসবে আর মোদী-শাহর প্রতিশ্রুতি উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার ক্ষত মেটাতে পারবে কিনা, এই দুই প্রশ্নের উত্তর আগামী ৪ঠা মে জানা যাবে।