The ‘Silent Strategy’ in Bengal’s Polls: Modi and Shah on the Frontlines, the RSS Engaged in a Subtle Organizational Game Behind the Scenes.

বাংলার ভোটে ‘নীরব কৌশল’: ময়দানে মোদী-শাহ, অন্তরালে সংগঠনের সূক্ষ্ম খেলায় আরএসএস

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ ক্রমশ আরও তীব্র হয়ে উঠছে। বড় বড় নেতাদের সভা, মিছিল, প্রচার তো আছেই, তার পাশাপাশি নীরবে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে সংঘ পরিবার, বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ বা আরএসএস। বাইরে থেকে খুব বেশি চোখে না পড়লেও, ভেতরে ভেতরে তারা সংগঠনকে শক্তিশালী করতে ব্যস্ত।

যখন নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহ-এর মতো বড় নেতারা সভা করে জনসমর্থন টানার চেষ্টা করছেন, তখন আরএসএস একটু আলাদা পথ নিয়েছে। তারা বড় মঞ্চের বদলে ছোট ছোট জায়গায় মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াচ্ছে। এই কৌশল অনেক সময় বেশি কার্যকরী হয়, কারণ এতে মানুষ নিজেদের কথা বলার সুযোগ পায়।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, আরএসএস সরাসরি রাজনীতিতে না নামলেও, তাদের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনকে কাজে লাগিয়ে তৃণমূল স্তরে প্রচার চালাচ্ছে। গ্রামের ভিতরে, পাড়ায় পাড়ায়, এমনকি চায়ের দোকানেও চলছে আলোচনা। এসব জায়গায় রাজনীতি নিয়ে খোলামেলা কথা হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের মতামত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

এই পুরো প্রক্রিয়ায় একটি বড় লক্ষ্য হচ্ছে হিন্দু ভোটকে একত্রিত করা। রাজ্যের বহু জায়গায় ধর্মীয় ও সামাজিক পরিচয়কে কেন্দ্র করে মানুষের মধ্যে একটা আলাদা মনোভাব তৈরি করার চেষ্টা চলছে। আরএসএস সেই জায়গাটিকেই আরও সংগঠিত করতে চাইছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বড় বড় জনসভায় অনেক সময় বার্তা সবার কাছে সমানভাবে পৌঁছায় না। কিন্তু ছোট বৈঠক বা ঘরোয়া আলোচনায় মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ হয়। এতে বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ে এবং ভোটারদের মনে প্রভাব ফেলার সুযোগও বেশি থাকে। তাই এই কৌশলকে অনেকেই খুব গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন।

ভোটের আগে এই ধরনের নীরব প্রচার অনেক সময় ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা নিতে পারে। কারণ ভোটের সময় শুধু বড় নেতার বক্তৃতা নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যে কী আলোচনা হচ্ছে, সেটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। আরএসএস সেই জায়গাতেই জোর দিচ্ছে।।

তবে এই কৌশল কতটা সফল হবে, তা এখনই বলা কঠিন। রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি খুব জটিল, এবং এখানে একাধিক বিষয় কাজ করে উন্নয়ন, স্থানীয় সমস্যা, নেতৃত্বের জনপ্রিয়তা ইত্যাদি। তাই শুধু একটি কৌশলেই সব কিছু নির্ধারিত হবে না। বিধানসভা নির্বাচনের আগে আরএসএস-এর এই নীরব কিন্তু সংগঠিত তৎপরতা রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ভোটের ফলাফলে এর কতটা প্রভাব পড়বে, তা সময়ই বলবে, তবে এই ধরনের প্রচেষ্টা যে নির্বাচনী লড়াইকে আরও কঠিন ও আকর্ষণীয় করে তুলছে, তা বলাই যায়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *