কৃষ্ণনগরের মাটি থেকে এক নতুন ভোরের বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। যখন চারিদিকে অরাজকতা আর মা-বোনেদের নিরাপত্তার অভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, ঠিক তখনই বাংলার নারীশক্তির পাশে পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়ে গ্যারেন্টি দিলেন স্বয়ং মোদিজি। আগে ছ’টি প্রতিশ্রুতির কথা শোনা গিয়েছিল, কিন্তু আজ কৃষ্ণনগরের জনজোয়ার সাক্ষী থাকল—মোদিজি এবার বাংলার মা-বোনেদের জন্য নিয়ে এলেন দশে দশ! হ্যাঁ, ১০টি গ্যারেন্টি, যা বদলে দেবে বাংলার মেয়েদের জীবন। কী সেই ১০টি গ্যারেন্টি? কেন এই সংকল্প বাংলার নারীশক্তির জন্য এক ঐতিহাসিক মোড় হতে চলেছে? আজকের ভিডিওতে সেটাই বিস্তারিত জানাবো….
✓ মোদিজির প্রথম এবং সবথেকে বড় গ্যারেন্টি হলো নিরাপত্তা। বাংলার মা-বোনেদের ওপর যারা অত্যাচার করবে, তাদের রেহাই নেই। মোদিজি সাফ জানিয়েছেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে প্রতি ব্লকে তৈরি হবে বিশেষ ‘মহিলা থানা’। রাস্তায় মা-বোনেদের সুরক্ষায় থাকবে স্পেশাল স্কোয়াড।
✓ শুধু তাই নয়, দ্বিতীয় গ্যারেন্টিতে তিনি জোর দিয়েছেন অংশগ্রহণে। এবার পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ বাহিনীতে মহিলাদের নিয়োগ করা হবে রেকর্ড সংখ্যায়। অর্থাৎ, ঘরের মেয়েরাই এবার ঘরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। এটাই হলো আসল নারী শক্তির ক্ষমতায়ন।
✓ এবার আসা যাক, আর্থিক সুরক্ষায়। তৃতীয় গ্যারেন্টিটি এক কথায় যুগান্তকারী— ‘মাতৃশক্তি ভরসা কার্ড’। এই কার্ডের মাধ্যমে বাংলার মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বছরে সরাসরি ৩৬ হাজার টাকা পাঠাবে বিজেপি সরকার। কোনো কাটমানি নয়, কোনো সিন্ডিকেট নয়—সরাসরি আপনার অধিকার আপনার হাতে।
✓ চতুর্থ গ্যারেন্টিটি বাংলার উচ্চশিক্ষারত মেয়েদের জন্য এক বিশাল আশীর্বাদ। গ্র্যাজুয়েশন করার সময় মেয়েদের হাতে তুলে দেওয়া হবে ৫০ হাজার টাকা।
✓ আর পঞ্চম গ্যারেন্টিটি হলো আমাদের আগামী প্রজন্মের কথা ভেবে। অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের জন্য ২১ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তার কথা ঘোষণা করেছেন মোদিজি, যাতে মা ও শিশু উভয়েই সুস্থ থাকে।
✓ মোদিজি জানেন, শিশুদের সঠিক পুষ্টিই দেশের ভবিষ্যৎ। তাই ষষ্ঠ গ্যারেন্টি হিসেবে শিশুদের জন্য আরও ৩৬ হাজার টাকার সংকল্প নিয়েছেন তিনি।
✓ সপ্তম গ্যারেন্টিতে থাকছে ‘সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা’র আধুনিক রূপ, যেখানে অন্য সব প্রকল্পের চেয়ে অনেক বেশি সুদ পাওয়া যাবে, যাতে আপনার মেয়ের বিয়ে বা পড়াশোনা নিয়ে কোনো চিন্তা করতে না হয়।
✓ অষ্টম গ্যারেন্টিটি হলো স্বনির্ভরতার চাবিকাঠি। বাংলার কোটি কোটি বোনকে ‘লাখপতি দিদি’ করার লক্ষ্য নিয়েছে মোদি সরকার। ব্যবসার জন্য ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত মুদ্রা লোন দেওয়া হবে মা-বোনেদের, যাতে তারা কারও ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেন।
✓ নবম গ্যারেন্টিটি হলো স্বাস্থ্যের রক্ষাকবচ। আয়ুষ্মান ভারতের মাধ্যমে ৫ লক্ষ টাকার বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পাবেন বাংলার মেয়েরা। এমনকি সার্ভাইকাল ক্যানসারের মতো কঠিন রোগের চিকিৎসাও হবে একদম বিনামূল্যে।
✓ আর শেষ অর্থাৎ দশম গ্যারেন্টিটি হলো সবথেকে আবেগপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার অধীনে যে পাকা বাড়ি তৈরি হবে, তার মালিকানা বা রেজিস্ট্রি হবে বাড়ির মা অথবা মেয়ের নামে। দেড় লক্ষ টাকা সরাসরি অ্যাকাউন্টে আসবে। অর্থাৎ, নিজের মাথার ওপর ছাদ, আর সেই বাড়ির মালিকও হবেন আপনি নিজেই।
সবশেষে বলতে হয়, কৃষ্ণনগরের সভা থেকে মোদিজি স্পষ্ট করে দিলেন, বিজেপি ক্ষমতায় আসা মানেই বাংলার মা-বোনেদের সম্মান এবং সমৃদ্ধি ফিরে আসা। এই ১০টি গ্যারেন্টি কেবল প্রতিশ্রুতি নয়, এটি একটি সংকল্প। বাংলার অলিগলি থেকে আজ একটাই আওয়াজ উঠছে—”মোদি আছে মানে, গ্যারেন্টি পূরণ হবেই।” আপনার কী মনে হয়? মোদিজির এই ১০টি পদক্ষেপ কি বাংলার নারীদের জীবনে এক নতুন বিপ্লব আনবে? কমেন্ট করে জানান।