বাংলার নির্বাচন মানেই কি সন্ত্রাস? বাংলার নির্বাচন মানেই কি বুথ দখল আর সাধারণ মানুষের রক্তক্ষরণ? দীর্ঘ কয়েক দশকের এই কলঙ্কিত ইতিহাস মুছতে এবার ময়দানে নেমেছেন খোদ দেশের ‘চাণক্য’ অমিত শাহ। বেহালার জনসমুদ্রের মাঝখান থেকে তিনি যে হুঙ্কার দিলেন, তাতে এখন ঘুম উড়েছে শাসকদলের পাতি নেতা থেকে শুরু করে বড় বড় মাফিয়াদের। দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে অমিত শাহের সাফ কথা— হয় শান্তিতে ভোট দিন, নয়তো জেলের ঘানি টানতে তৈরি থাকুন। বেহালার রোড-শো তখন জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। চারদিকে ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি। ঠিক সেই মুহূর্তেই মাইক হাতে নিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “দ্বিতীয় দফার ভোটে যদি কেউ ভোটারদের গায়ে হাত লাগায়, তবে ৪ মে-র পর তাদের ঠিকানা হবে জেলের অন্ধকুঠুরি।”
এখানেই শেষ নয়, অমিত শাহের সেই বিখ্যাত ‘দাওয়াই’ এবার বাংলার গুন্ডাদের জন্য। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, ৫ তারিখের পর যদি কেউ সাধারণ মানুষকে হেনস্থা করার সাহস দেখায়, তবে তাদের ‘উল্টো ঝুলিয়ে সিধে’ করা হবে। যারা ভাবতেন পুলিশের মদতে পার পেয়ে যাবেন, তাদের জন্য শাহের এই বার্তা এক চরম সতর্কবার্তা।
শুধু তাই নয় শাহের বক্তব্যে উঠে এল বাংলার জ্বলন্ত ক্ষতগুলো। আর জি কর থেকে সন্দেশখালি—মহিলাদের ওপর হওয়া অন্যায়ের বিচার চাইলেন তিনি। তৃণমূল নেত্রীকে সরাসরি আক্রমণ করে শাহ বলেন, “মমতা দিদি নির্লজ্জের মতো বলছেন মহিলারা যেন ৭টার পর বাইরে না বেরোন। লজ্জিত হওয়া উচিত আপনার! একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রী হয়ে আপনি মহিলাদের ঘরে ঢুকে থাকতে বলছেন?” অমিত শাহের প্রতিশ্রুতি—বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে আর জি কর বা সন্দেশখালির মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না। যারা গুন্ডাদের গালমন্দ করার বদলে ‘আলু পোস্ত’ খাওয়ান, তাদের সময় শেষ। সিন্ডিকেট রাজ আর বালু মাফিয়াদের দাপট বন্ধ করতে এবার বদ্ধপরিকর কেন্দ্র।
প্রথম দফার ভোটের রিপোর্ট নাকি ইতিমধ্যেই পৌঁছে গেছে শাহের টেবিলে। তাঁর দাবি, প্রথম দফাতেই ১১০টি আসন পকেটে পুরে ফেলেছে বিজেপি। যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আর অমিত শাহের জনসভায় মানুষের ভিড় উপচে পড়ছে, তখন তৃণমূল শিবিরে কেবল হাহাকার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা হুঁশিয়ারি দিলেও, সাধারণ মানুষের সমর্থন যে বিজেপির দিকে, তা বেহালার ভিড়ই প্রমাণ করে দিচ্ছে। এছাড়া শাহ মনে করিয়ে দিলেন, ৫ তারিখ সরকার গড়ার পর বাংলার প্রতিটি প্রান্তে শান্তি ফিরবে। কোনো ‘ভাইপো’ বাহিনী বা কোনো ‘গুন্ডাবাহিনী’ আর সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।
সব মিলিয়ে মোদি-শাহের এই ঝোড়ো প্রচার বুঝিয়ে দিল, তৃণমূলের শেষ গন্তব্য এখন পতনের দিকে। হুমকি দিয়ে আর কতদিন? বাংলার মানুষ এবার জেগে উঠেছে। একদিকে তৃণমূলের ‘গুন্ডারাজ’ আর অন্যদিকে অমিত শাহের ‘সুশাসন’। ৪ঠা মে-র পর বাংলার অপরাধীদের কপালে যে বড় দুঃখ আছে, তা আজ বেহালা থেকেই স্পষ্ট করে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এবার দেখার পালা, শাহী গর্জনের পর বাংলার বুথগুলোতে গুন্ডাবাহিনী পিছু হটে কি না। তবে একটা কথা পরিষ্কার—বাংলার মানুষ এবার আর ভয় পাবে না।