Amit Shah to be present at Suvendu's nomination filing in Bhawanipur!

ভবানীপুরে শাহি-ধামাকা! শুভেন্দুর মনোনয়নে হাজির হবেন খোদ অমিত শাহ

ভবানীপুরে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। যদিও নাম ঘোষণার আগে থেকেই তিনি ওই কেন্দ্রের সম্ভাব্য প্রার্থী ছিলেন। তবে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর থেকে সবুজ সংকেত পেতেই সেই সিদ্ধান্ত বহাল করেন অমিত শাহ-নিতিন নবীনরা। আর এবার শোনা যাচ্ছে, শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুরে মনোনয়ন পেশ করার কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকতে চলেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। দলীয় সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, যদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কোনও কাজ না এসে পড়ে, তাহলে পরশু অর্থাৎ বৃহস্পতিবার বিরোধী দলনেতার মনোনয়ন পেশের সময় হাজির থাকবেন শাহ।

ইতিমধ্যেই এ ব্যাপারে দিল্লির তরফ থেকে ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে বলেও জানা যাচ্ছে। এর পাশাপাশি শুভেন্দুর মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে হাজরা মোড়ে অমিত শাহ একটি জনসভা করতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। এরপর সেখান থেকে সার্ভে বিল্ডিংয়ের আগে পর্যন্ত ১ কিলোমিটার রোড শো করে যাওয়ার কথা রয়েছে। যদিও শেষের ২০০ মিটার তারা পায়ে হেঁটে যাবেন বলেই সূত্র বলছে। এ বিষয়টি জানাজানি হতেই বিশেষজ্ঞ মহলের দাবি, শুভেন্দুর প্রতি কেন্দ্রের যে বিপুল আস্থা রয়েছে তা বোঝাতেই এমন কর্মসূচির আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি এর মাধ্যমে তৃণমূলকে একটি বার্তাও দেওয়া হবে যে, বিজেপি এই প্রেস্টিজ ফাইটে কতটা সিরিয়াস।

উল্লেখ্য, গত সোমবার নন্দীগ্রামে মনোনয়ন পেশ করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সে সময়ে তার এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রের প্রবীণ মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ও দিলীপ ঘোষ। যদিও পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি সচেতন একটা বড় অংশের মানুষ মনে করেন যে, বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে ‘সেটিং’ রয়েছে। আর এর যথোপযুক্ত যুক্তিও রয়েছে তাদের কাছে। তবে, ভোটের আগেই সেই ধারণা ভাঙার এক দুর্দান্ত ছক কষেছেন স্বয়ং বিরোধী দলনেতা। তিনি বিজেপি-র উচ্চ মহলে তার সেই পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। যার মধ্যে অন্যতম ভবানীপুরে তার প্রার্থী হওয়া।

প্রসঙ্গত, ভবানীপুর উপ-নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারীর নাম যখন সামনে আসে, তখন তা কেবল একটি নির্বাচনী লড়াই ছিল না। তা ছিল ভারতের সংসদীয় রাজনীতির অন্যতম বড় প্রেস্টিজ ফাইট। নন্দীগ্রামের জয়ের পর শুভেন্দু অধিকারীকে প্রার্থী করা বিজেপির কাছে ছিল একটি বড় কৌশলগত চাল। আসলে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায কে পরাজিত করার পর শুভেন্দু অধিকারী ছিলেন বিজেপির কাছে জায়ান্ট কিলার। আর সেই জয়ের রেশ ধরেই তৃণমূল নেত্রীর ঘরের মাঠে তাকে চ্যালেঞ্জ জানানোই ছিল বিজেপির প্রধান লক্ষ্য। সেই সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তার নিজের কেন্দ্রে আটকে রেখে তার জাতীয় রাজনীতির উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে চ্যালেঞ্জ জানানোই ছিল বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আরও এক পরিকল্পনা। অর্থাৎ সব মিলিয়ে ভবানীপুরের এই লড়াই প্রমাণ করে দিয়েছে যে, ভোট কেবল সংখ্যাতত্ত্বের নয় এটি রাজনৈতিক ইগো এবং আদর্শগত সংঘাতেরও এক চরম বহিঃপ্রকাশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *