Bengal to Witness a Fierce Battle Between

তৃণমূল-বিজেপির হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখবে বাংলা! দিল্লি না কি দক্ষিণ কলকাতা, ২৬-এ কার দখলে যাবে বাংলার চাবিকাঠি?

আর মাত্র কিছুদিনের অপেক্ষা তারপরই জানা যাবে কে বসবেন বাংলার মসনদে। যদিও আপাতত শাসক থেকে বিরোধী শিবির সকলেই ঝাঁপিয়ে পড়েছেন প্রচারের ময়দানে, শেষ চেষ্টা করতে। এদিকে এই আবহে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পারদ আরও কিছুটা চড়িয়ে দিল ‘ম্যাট্রিজ’-এর জনমত সমীক্ষা। তাদের রিপোর্টে যা উঠে এসেছে, তাতে রীতিমত হতবাক হয়ে গেছেন সকলে। না, শুধু হতবাক নয়, বরং বলা চলে এক প্রকার ঝড় উঠেছে রাজনৈতিক মহলে। কিন্ত কি বলছে সেই রিপোর্ট? ম্যাট্রিজ সার্ভের রিপোর্ট বলছে, আসন্ন ভোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেস ৪৩ শতাংশ ভোট পেয়ে ১৪০ থেকে ১৬০টি আসন জয়ী হতে পারে। আর প্রধান বিরোধী দল তথা বিজেপি ৪১ শতাংশ ভোট পেয়ে ১৩০ থেকে ১৫০টি আসনে জয় পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং বাকি ৮ থেকে ১৬টি আসন ১৬ শতাংশ ভোটের দরুন বাম-কংগ্রেস ও অন্যান্য দলগুলোর ঝুলিতে যেতে পারে।

বলে রাখা ভালো, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ২৯৪টি আসন রয়েছে। যার মধ্যে ১৪৮টি আসন প্রয়োজন সরকার গড়তে। তবে অতীতের রিপোর্ট বলছে, তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি দক্ষিণবঙ্গ। ফলে ২৬-এর ভোটে সেখানে মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, দুই ২৪ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি ও দুই মেদিনীপুর মিলিয়ে ১৮৩টি আসনে তৃণমূল কংগ্রেসের আধিপত্য বজায় থাকার সম্ভাবনা প্রবল। ফলে এখানে ৪৪% ভোটে তৃণমূল কংগ্রেস ৯৫-১০০টি আসন পেতে পারে। পাশাপাশি ৩৭% ভোটে বিজেপির নামে হতে পারে ৭৫-৮০টি আসন এবং অন্যান্যরা বাকি ১৯% ভোটে ৪-৮টি আসন পেতে পারে। আবার রাঢ় অঞ্চলে ভোটাভুটির লড়াইতেও এগিয়ে থাকে ঘাস-ফুল শিবির। সেখানে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, দুই বর্ধমান ও বীরভূম নিয়ে গঠিত এই অঞ্চলের ৫৭টি আসনে এবারও শাসক শিবির এগিয়ে থাকতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে, এখানের লড়াই বেশ হাড্ডাহাড্ডি হতে পারে। প্রায় ৪৩% ভোট পেয়ে তৃণমূলের হতে পারে ৩৭-৪০টি আসন এবং বিজেপি-র ঝুলিতে ৪২% ভোটের বলে যেতে পারে ১৭-২০টি আসন। হ্যাঁ, মাত্র ১%-এর ব্যবধানে এখানের লড়াই অত্যন্ত তীব্র হবে। তবে, উত্তরবঙ্গে এই বাধাগতের রিপোর্টের বদল ঘটেছে। কারণ এখানে বিজেপির দাপট সর্বদাই বেশি। আর সেই মতো কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং ও মালদহ-সহ উত্তরবঙ্গের মোট ৫৪টি আসন বিজেপি-র প্রধান শক্তি হয়ে উঠেছে। প্রায় ৪৩% ভোট পেয়ে এখানের ৩০-৩৩টি আসন বিজেপি পেতে পারে। এর থেকে ৩% কম ভোট তথা ৪০% ভোটের জোরে তৃণমূল ১৭-২০টি আসন পেতে পারে।

উল্লেখ্য, তৃণমূলের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের একগুচ্ছ জনমুখী প্রকল্প, বিশেষ করে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর মতো নারী-কেন্দ্রিক উদ্যোগগুলো দারুণ জনপ্রিয়তা দিয়েছে এই রাজনৈতিক দল-কে। এর জেরে গ্রামীণ বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত ইমেজ এবং সামাজিক সুরক্ষা বলয় এখনও তৃণমূলের বড় ভরসা। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার ফলে স্বাভাবিকভাবেই এক ধরনের প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া তৈরি হয়েছে। ফলে নিয়োগ দুর্নীতি এবং স্থানীয় স্তরের নেতাদের বিরুদ্ধে ওঠা অ-নিয়মের অভিযোগকে বিজেপি তাদের হাতিয়ার করে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সঞ্চার করার চেষ্টা করছে। তাছাড়া, SIR নিয়ে দুই দলের মধ্যে লড়াই তুঙ্গে উঠেছে। এই বিষয়টিকে তৃণমূল ‘ভোটার হাইজ্যাকিং’ এবং সংখ্যালঘু ও বাঙালি উচ্ছেদের ছক হিসেবে তুলে ধরছে। আবার বিজেপি একে ‘অবৈধ্য অনুপ্রবেশকারী’ মুক্ত স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরির প্রক্রিয়া হিসেবে দাবি করছে। ফলে এবারের লড়াই কেবল গদি দখলের নয়, বরং দুই ভিন্ন আদর্শের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াই। একদিকে তৃণমূলের মূল স্তরের মজবুত সংগঠন ও সরকারি প্রকল্পের সুফল, অন্যদিকে বিজেপির আগ্রাসী প্রচার ও কেন্দ্রীয় ক্ষমতার প্রভাব বিদ্যমান। মধ্যবিত্তের অসন্তোষ এবং গ্রামীণ মানুষের আনুগত্য—এই দুইয়ের টানাপোড়েনে ২০২৬-এর ভোট হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে টানটান উত্তেজনার নির্বাচন। আর এই উত্তেজনা শেষে কার হাতে ওঠে বাংলার গুরুদায়িত্ব, সেটাই এখন দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *