Tripura revolution for Bengal

জানেন কেন বাংলার জন্য ত্রিপুরার বিপ্লবকেই বাছলেন অমিত শাহ?

উত্তর-পূর্বের ছোট্ট একটা রাজ্য। চারিদিকে পাহাড় বেষ্টিত এই রাজ্যেই একসময় হাত উপড়ে ফেলে পদ্ম ফুল ফুটিয়েছিল গেরুয়া দল। উত্তর-পূর্বের এই ছোট্ট রাজ্যের পঞ্চায়েত থেকে বিধানসভায় গেরুয়া ঝড় ছড়িয়ে পড়েছিল গত কয়েক বছরে। সিপিআইএম এবং কংগ্রেস কার্যত ধূলিসাৎ হয়েছিল এই পদ্ম ফুলের সুগন্ধে। কথা হচ্ছে ত্রিপুরা রাজ্যকে নিয়ে। বাংলার পার্শ্ববর্তী এই রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকেই এবার গুরু দায়িত্ব দিলেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিজেপির অন্যতম ছত্রধর অমিত শাহ। লাল এবং হলুদের ত্রিপুরায় যেভাবে গেরুয়া ঝড় বইয়ে দিয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব তাকে কুর্নিশ জানিয়েই এই গুরুদায়িত্ব তার কাঁধে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছে কেন্দ্র বিজেপি। উল্লেখ্য ত্রিপুরায় বিজেপির ক্ষমতায় আসার অন্যতম কারিগর বিপ্লব দেব। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লবের বিপ্লবী মনোভাব এবং মানুষকে কাছে টানার ভঙ্গিমা দেখে বেজায় খুশি হয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী থেকে অমিত শাহ। বারবার ত্রিপুরায় নির্বাচনী ক্যাম্প এবং জনসাধারণের সভায় এসে ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছিলেন তারা। শুধু তাই নয় বেশ কয়েকবার বাংলাতেও ঢু মেরে গিয়েছেন বিপ্লব দেব। আর মাত্র কয়েকটা মাস পরেই বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন। ২০২৬ এর ঘুটি শক্ত করতে এখন থেকেই ময়দানে নেমে পড়েছে বিজেপি। যেভাবেই হোক বাংলাকে পদ্মের ঘরে ঢোকাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিজেপি নেতৃত্বরা। বহু আগেই করা হয়েছে একাধিক সাংগঠনিক রদবদল। এবার বঙ্গ বিজেপিকে চাঙ্গা করবার দায়িত্ব বিপ্লবের শক্ত ঘাড়ে ঠেলে দিতে চাইছে বিজেপি। বাংলায় দুর্গাপুজোর উদ্বোধনে এসেছেন অমিত শাহ। ভোটের রাজনীতিতে ত্রিপুরায় তাবর তাবর রাজনীতিবিদদের পিছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছেন বিপ্লব দেব। রাজ পরিবারের সদস্য বিপ্লব বরাবর তার বাচনভঙ্গি এবং সংগঠনিক দক্ষতায় ফেলে গিয়েছেন বিচক্ষণ প্রতিচ্ছবি। ২০১৫ সালে রাজনীতিতে বিপ্লব দেবের অভিষেক। তারপর থেকেই কংগ্রেস এবং সিপিআইএম মুখী ত্রিপুরা নাকি এক চুটকিতেই বদলে গিয়েছে। তার এক গুরুত্বপূর্ণ ক্যাম্পেইন মিসড কল ক্যাম্পেইনে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রায় দেড় লক্ষ সদস্য যুক্ত হয়েছিলেন বিজেপিতে। উল্লেখযোগ্য ছিল ত্রিপুরায় মহিলাদের বিজেপিতে যোগদান। পিছিয়ে পড়া প্রান্তিক গোষ্ঠীর মহিলারা দলে দলে যোগদান করেছিলেন বিজেপিতে। মানুষের মন জয় করতে নাকি মাটি কামড়ে পড়েছিলেন বিপ্লব। সেই বিপ্লবকেই এবার বাংলার দায়িত্ব দিয়ে মানুষের মন পড়ার পরামর্শ দিয়েছেন অমিত শাহ বলে মত বিশেষজ্ঞ মহলের। রাজনৈতিক মানচিত্র বলছে ত্রিপুরা এবং বাংলার মধ্যে রয়েছে বিস্তর মিল। দুই রাজ্যেই বাংলাভাষী মানুষের সংখ্যা বেশি। তাদের সাংস্কৃতিক এবং ঐতিহ্যগত বৈষম্য তেমন নেই বললেই চলে। অন্যদিকে বাংলার দুর্নীতি বর্তমানে বিজেপির ভোট ভরানোর এক অন্যতম স্ট্যাটেজি হয়ে উঠেছে। বাংলায় এর আগে গুটি কয়েকবার এসে তার জ্বালাময়ী ভাষণে সাধারণ মানুষকে বিমোহিত করেছিলেন বিপ্লব দেব। এবার তার উপরেই ভরসা করে বাংলার নির্বাচনী বৈতরণী পার হয়ে লক্ষ্যে পৌঁছতে মরিয়া বিজেপি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *