বয়স বাড়লে শরীর তো খারাপ হবেই! কিন্তু চিন্তা যখন চিকিৎসার খরচ নিয়ে হয়, তখন সেই শরীর খারাপ যেন আরও কিছুটা বেড়ে যায়। অনেক পরিবার তো বাড়ির প্রবীণ সদস্যদের চিকিৎসার চিন্তায় রাতে ঘুম ধরে না। কিন্তু আর এসব নয়! কারণ এবার ৭০ বছরের বেশি বয়সী প্রত্যেক প্রবীণ নাগরিকের চিকিৎসার দায়িত্ব নিচ্ছে খোদ কেন্দ্র সরকার। হ্যাঁ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষণা করেছেন ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের এক ঐতিহাসিক সম্প্রসারণ। যার সাহায্যে ৭০ বা তারও বেশি বয়সের প্রবীণরা পাবেন ‘আয়ুষ্মান ভায়া বন্দনা কার্ড’। না, গরীব বা বড়লোক এমন কোনো বাদ-বিচার নেই এই প্রকল্পে। তবে, এটি আয়ুষ্মান ভারত ডেটাবেসের সঙ্গে সংযুক্ত। ফলত, এটি নির্দিষ্ট আর্থ-সামাজিক মানদণ্ডের ওপর ভিত্তি করেই তৈরি।
প্রথমেই বলি, ‘আয়ুষ্মান ভায়া বন্দনা কার্ড’ আসলে একটি শেয়ার্ড হেলথ কভার। অর্থাৎ, একজন বয়স্ক দম্পতির ক্ষেত্রে উভয়ের জন্য মোট ৫ লক্ষ টাকা স্বাস্থ্য কভারেজ হবে। বলে রাখা ভালো, ইতিমধ্যেই ওই পরিবারের কেউ যদি আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকেন এবং তার পরিবারে ৭০ বছরের বেশি বয়সী একজন বয়স্ক ব্যক্তি থাকে, তাহলে ওই বয়স্ক ব্যক্তি আলাদাভাবে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত কভারেজ পাবেন। এছাড়া, কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকার থেকে অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণ এবং ইতিমধ্যেই CGHS বা SGHS, ECHS, ESCI ইত্যাদির মতো অন্য কোনও স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্পের সুবিধা গ্রহণ করছেন, তারাও তাদের পুরনো স্কিমটি চালিয়ে যেতে পারেন কিংবা আয়ুষ্মানের ভারতের এই নতুন কভারটি বেছে নিতে পারবেন বলেও জানা গিয়েছে। তবে, এই কার্ড গ্রহণের প্রথম ধাপ হল, এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার তিনি যোগ্য কিনা তা যাচাই করা। যদি ডেটাবেসে ওই ব্যক্তির নাম থাকে, তবে নাম এনরোল করতে হবে। নয়তো, এই প্রকল্পের শর্তাবলীর অধীনে তিনি যোগ্য কিনা, তা দেখে নিতে হবে।
কীভাবে তা করবেন?
অনলাইনে এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন কিনা তা যাচাই করা যেতে পারে। এছাড়া, কাছাকাছি থাকা কোনও কমন সার্ভিস সেন্টার তথা CSC বা এই সুবিধা প্রদানকারি হাসপাতালে যেতে হবে। এরপর সেখানে নিজের তথ্য যাচাই করাতে হবে এবং ডেটাবেসে নিজের নাম মিলিয়ে দেখে একটি সংক্ষিপ্ত বায়োমেট্রিক ধাপ সম্পন্ন করলেই এটি সম্পূর্ণ হবে। এরপর কার্ডটি ইস্যু হয়ে গেলেই সেটি ব্যবহার করা যাবে। জানিয়ে রাখি, এই কার্ডটি সারা দেশের হাসপাতালের একটি বৃহৎ নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত। ফলে আয়ুষ্মান ভারত নেটওয়ার্কের অন্তর্ভুক্ত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে এই অনায়াসেই ব্যবহার করা যেতে পারে। না, এই কার্ড দৈনন্দিন চিকিৎসার জন্য নয়! অর্থাৎ, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ওষুধ বা চিকিৎসকের কাছে যাওয়া এসবের জন্য নয়। বরং, এটি হাসপাতালে ভর্তির মতো পরিস্থিতি বা বিশেষ কোনও চিকিৎসার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে।
প্রসঙ্গত, এই কার্ড যদি না থাকে তাহলে এটি অনায়াসেই স্মার্টফোন থেকে বানিয়ে নেওয়া সম্ভব। এর জন্য স্মার্টফোন থেকে ‘Ayushman App’ ডাউনলোড করতে হবে। কিংবা সরকারি ওয়েবসাইট beneficiary.nha.gov.in-এ গিয়ে আধার কার্ডের নম্বর দিয়ে লগইন করতে হবে। এরপর নিজের বয়স যাচাই করে ফ্যামিলি মেম্বারদের ডিটেইলস দিতে হবে। আর এই সহজ E-KYC প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলেই তৈরি হয়ে যাবে ডিজিটাল আয়ুষ্মান কার্ড। চাইলে কার্ডটি ডাউনলোড করে প্রিন্ট করিয়ে নিতেই পারেন। তবে, এই প্রকল্পের ক্ষেত্রে3 একটি বিষয় মনে রাখবেন, এই প্রকল্পটি কেবল প্যানেলে তালিকাভুক্ত হাসপাতালগুলিতে বিভিন্ন ধরণের চিকিৎসার খরচ বহন করতেই ব্যবহার করা যাবে। ফলে প্রবীণ নাগরিকদের চিকিৎসার জন্য নিজের পকেট থেকে এক টাকাও খরচ করতে হবে না। কারণ এই প্রকল্পের অধীনে কেন্দ্রের তরফে হাসপাতালের বিলটি সরাসরি পরিশোধ হয়ে যায়। যদিও চিকিৎসার ধরণের ওপর খরচ নির্ভর করে। তবে, সেক্ষেত্রেও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগের ও পরের খরচও এই কার্ডে অন্তর্ভুক্ত থাকে। যদি এই প্রকল্প সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানার প্রয়োজন হয়, সে ক্ষেত্রে https://nha.gov.in/PM-JAY-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে বিস্তারিত তথ্য জেনে নিতে পারেন।